আলমগীর মানিক, রাঙামাটি
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন পশ্চিম মুসলিম পাড়া এলাকায় স্থানীয় ১২ পরিবারকে লক ডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু সরেজমিনের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এই লক ডাউনের ঘোষনা দেন। বাঘাইছড়ি পৌরসভাধীন ২নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মুসলিম ব্লক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এসময় উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী-বিজিবি ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
জানাগেছে, ঢাকা থেকে ট্রেনিং করে ফিরে আসা এক আনসার সদস্যের অসুস্থাবস্থায় আছে মর্মে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তার বাসা গিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তার সাথে কথা বলে তার দেয়া ভাষ্যানুসারে শারিরিক অসুস্থায় করোনা ভাইরাস সংক্রামকের প্রাথমিক লক্ষণ পরিলক্ষিত দেখতে পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। এসময় জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত আনসার সদস্য জানান, সে দীঘিনালায় কর্মরত ছিলো। সেখান থেকে সম্প্রতি তিনি ঢাকায় ট্রেনিং গিয়েছিলেন। ট্রেনিংরত অবস্থায় শারিরিক্ত অসুস্থবোধ করলে গত ২৩শে মার্চ তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলে দিয়েছিলো তার উর্দ্বতন কতৃপক্ষ। কিন্তু সে হোম কোয়ারেন্টাইনে নাথেকে ঘোরাফেরা করছিলো। গতকাল সকাল থেকে তার প্রচন্ড গলা ব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, পেটে ব্যথাসহ জ্বর বেড়ে অসুস্থতাবোধ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করে। শুক্রবার বিকেলেই তার বাসায় গিয়ে প্রাথমিক তথ্যাবলি জেনে তাকে বাসা থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ করে এসেছিলো এবং শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় উক্ত এলাকায় গিয়ে তার সংস্পর্শে থাকা স্বজনদের ঘরসহ সর্বমোট ১২ পরিবারকে লক ডাউন ঘোষনা দিয়ে তাদের বসতঘরগুলোর সামনে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেন ইউএনও। এসময় সেখানে উক্ত লকডাউনকৃত পরিবারবর্গকে পর্যবেক্ষণে রাখতে সার্বক্ষনিক পাহারায় আনসার সদস্যদের নিয়োজিত করা হয়।
ইউএনও আহসান হাবিব জিতু জানান, আমরা উক্ত পরিবারগুলোর সার্বিক প্রয়োজন উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্পোট দিবো। অসুস্থ ব্যক্তির রক্ত সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের ফৌজদার হাটে পাঠানো যায় কিনা সেই বিষয়টিও দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •