প্রতীকী ছবি
মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা ৭০ বছর বয়স্ক করোনা আক্রান্ত মহিলা রোগীর স্বাস্থ্যের অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে রেফার করেছেন। বিষয়টি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সিবিএন-কে নিশ্চিত করেছেন।

ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আরো বলেন, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত মহিলা রোগীর আগে থেকেই এজমা সহ বিভিন্ন জটিল রোগ ছিলো। মহিলাটির এসব রোগসহ করোনা রোগের সমন্বিত চিকিৎসা করা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই করোনা রোগীর স্বজনদের সাথে পরামর্শ করে তাকে ঢাকাস্থ উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। সরকারীভাবে ঢাকায় যে ১১ টি হাসপাতালকে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে, তারমধ্যে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা সেবায় শীর্ষে রয়েছে।

এদিকে, হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা করোনা মহিলা রোগীর সন্তান, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান সিবিএন-কে বলেছেন, ঢাকা থেকে আসা চিকিৎসকদের দেওয়া কিছু ওষুধ খাওয়ার পর তার মায়ের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শুক্রবার দিবাগত রাত হতে অন্যান্য অসুখের সাথে প্রচন্ড ডায়রিয়া শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো, তার মাকে এয়ার এ্যামবুলেন্স অথবা সড়ক এ্যামবুলেন্সে করে শনিবার ২৮ মার্চ বিকেল ৩/৪ টার মধ্যে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ ফেব্রুয়ারী সৌদী আরবে উমরাহ হজ্জ করতে গিয়ে গত ১৩ মার্চ মহিলাটি তার সন্তান সহ দেশে ফেরেন। পরে মহিলাটি গুরতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিদেশ থেকে আসার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২২ মার্চ মহিলাটির চিকিৎসকেরা তার শরীরের স্যাম্পল সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য ঢাকার আইইডিসিআর ল্যাবে পাঠিয়ে দেন। গত ২৪ মার্চ টেস্ট রিপোর্ট আসলে সেখানে তার শরীরে করোনা ভাইরাস জীবাণু ধরা পড়ে। পরে গত ৪ দিন যাবৎ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত মহিলাটিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছিল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •