মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:
বসতঘর থেকে উচ্ছেদ করতে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। হামলার শিকার গুরুতর আহত মহিলাসহ তিন জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা পূর্ব মাইজপাড়া কৈয়ার ডেপা নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত একই এলাকার মৃত ছাবের আহমদ মৌলবির ছেলে মোর্শেদ আলম মৌলবি (৫৫) পলাতক রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০-২৫ বছর আগে বর্নিত কৈয়ার ডেপা এলাকায় ২০ কড়া জায়গা ক্রয় করেন মৃত ছাবের আহমদ মৌলবির মোর্শেদ মৌলবি। ওসময় তার বাগান ও ক্রয়কৃত ভিটামাটি পাহারা দিতে একই এলাকার মৃত হোছন আহমেদের ছেলে আহমদ হোছন (৩৮)কে মাসিক বেতনে নিয়োগ দেয়। পরে মৌলবি মোর্শেদ সপরিবার চট্টগ্রাম শহরে চলে যায়। এদিকে পাহারাদার আহমদ হোছন ৪ মাস পর্যন্ত যাথাসময়ে বেতন পেলেও পরে আর পাচ্ছেন না। শ্রমজীবী এ পাহারাদারের বেতন না পেয়ে জায়গার মালিক মোর্শেদ মৌলবির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ওই জায়গাটি তাকে স্থায়ী প্রদান করার আশ্বাস দেন। এ আশ্বাসে সহজসরল আহমদ হোছেন ওই জায়গায় বাড়িঘর নির্মাণ করে সপরিবারে শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করতে লাগলেন। এদিকে মোর্শেদ মৌলবিকে জায়গাটি কাগজ করে দিতে বললে আজ দিবে কাল দিবে বলে কালক্ষেপণ করেন তিনি। বিগত বছরখানেক আগে মোর্শেদ মৌলবি চট্টগ্রাম শহর থেকে চলে আসে। ওই জায়গার পার্শ্ববর্তী আরেকটি জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করতে লাগলেন। কিন্তু পূর্ব প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে যান মৌলবি মোর্শেদ। এনিয়ে আহমদ হোছনকে ভিটেনাটি ছেড়ে দিতে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। তাদের ভিটেমাটির এ বিরোধটি স্থানীয় সালিশ বৈঠক থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত গড়ায়। সবখানে জায়গা ছেড়ে দিতে হলে আহমদ হোছনকে ভিটেমাটি ও বাগান পাহারার বেতন হিসেবে দেড় লাখ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেন মোর্শেদ মৌলবিকে। কিন্তু এ মৌলবি ইউনিয়ন পরিষদসহ সকল বৈঠকের সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নন। তাই সন্ত্রাসী কায়দায় আহমদ হোছনকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা শুরু করে। ভুক্তভোগীর অভিযোগে আরো জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে উলুবনিয়া গ্রামের নুর হোছনের মেঝ ছেলেসহ একদল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আসেন মোর্শেদ মৌলবী। এসময় মৌলবির শাশুড় বাড়ির আরেক সন্ত্রাসী বাহিনী হাজির হয় আহমদ হোছনের বসতবাড়ীতে। মোর্শেদ মৌলবির নেতৃত্বে এসময় শুরু করে দেয় মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাট। হামলাকালে স্বর্ণালংকার ছাড়াও বাড়ি নির্মাণ করতে গরু বিক্রির ও দ্বার কর্জ করে রাখা একলাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক আহত হন গৃহকর্তা আহমদ হোছন (৩৮), তার স্ত্রী পারেছা বেগম (২৮) ও তার শাশুড়ী ফরিজা বেগম (৬০)। হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার সময় বসতঘরটি ভাঙ্গচুর করে উঠোনে গরুর খড়ের স্তুপটিতে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনা চলাকালীন সময় পর্যন্ত এ সন্ত্রাসীর দল গ্রামবাসীকে জিম্মি করে রাখেন বলে জানায় স্থানীয়রা। মোর্শেদ মৌলবিসহ সন্ত্রাসীরা চলে গেলে রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এলাকার লোকজন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোঃ মোর্শেদুল আলম মৌলবির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় পূর্ব মাইজপাড়া (৭নং ওয়ার্ড) গ্রামের মেম্বার মোঃ ফরিদুল আলম বলেন, বছর খানেক আগে মৌলানা মোরশেদ আলম পূর্ব মাইজপাড়ায় বসতি করার পর থেকে শুরু হয় এলাকায় অশান্তি। মানুষের সাথে শুরু হয় একের পর ঘটনা। স্থানীয় সালিশ বিচারও মানেন না তিনি। ইতিপূর্বে বিরোধীয় ওই বসতবাড়ি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দিলে সার্বিক বিবেচনা করা মোর্শেদ মৌলবিকে এক লাখ টাকা আহমদ হোছনকে প্রদানের সিদ্ধান্তে জানায়। কিন্তু এ সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি এলাকায় জ্বলাও পুড়াও করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটাচ্ছেন। এর আগে এ বিরোধীয় বিষয় নিয়ে উপজেলা পরিষদেও বৈঠক হলে ওখানকার সিদ্ধান্তও মানছেন বলে জানান মেম্বার।
ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানায়, মোর্শেদ মৌলবির নেতৃত্বে অগ্নিসংযোগ, হামলা, ভাঙচুর এসবের বিষয়ে আমি শুনেছি। তিনি এলাকার কোনপ্রকার সালিস বিচার মানে না। বিষয়টি আরো যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •