মো. নুরুল করিম আরমান, লামা প্রতিনিধি :

নভেল কোরনা ভাইরাস সংকট মোকাবেলায় বান্দরবানের লামা উপজেলা ‘লকডাউন’ ঘোষনার পর প্রথম দিন বুধবার সকাল থেকেই সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা, স্বাস্থ্য বিধি মোনে চলা, সামাাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিতকরণ ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মাঠে নামেন সেনাবাহিনী। সেনা বাহিনীর সাথে পুলিশ সদস্যদেরকেও টহলে নামতে দেখা গেছে।

বুধবার সকালে ঘুরে দেখা যায়, ব্যস্ততম উপজেলা শহরের দোকানপাট বন্ধ ও অলি গলিগুলো ছিল প্রায় ফাঁকা। ছিলনা লোক সমাগম। তবে ঔষধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট, মুদিদোকান, কাঁচাবাজারগুলো ছিল খোলা। অপর দিকে বাস টার্মিনাল থেকে কোন যান বাহন ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। প্রশাসনের গন বিজ্ঞপ্তি জারীর পর সকল ধরণের যানবাহন চলাচল সম্পুর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান, মালিক ও চালক সমিতি। এ কারণে সারা দেশের সাথে উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকতে দেখা গেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্থানীয়দেরকে উপজেলার বাহিরে যেতে না দেওয়ার পাশাপাশি কাউকে ঢুকতেও দেয়নি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে উপজেলা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির জরুরী সভার সিদ্ধান্ত ক্রমে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান, থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, যেহেতু করোনা ভাইরাস সংক্রমনের সম্ভাবনা রয়েছে, সেহেতু পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিজ গৃহে সার্বক্ষনিক অবস্থান করাসহ (লকডাউন) সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, লক ডাউন বাস্তবায়নে বুধবার সকাল থেকে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কয়েকটি দল মাঠে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রশাসন এক গণ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে উপজেলাকে লকডাউন ঘোষনা করে শপিংমল, বানিজ্যকেন্দ্র, রেস্টুরেন্ট, বিনোদন পার্ক, মেলা , সামাজিক অনুষ্টান, সাপ্তাহিক হাট, চায়ের দোকানের আড্ডাসহ জনসমাগম হয় এমন সকল স্থান পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে এতে খাদ্য সামগ্রী, ঔষধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সকল দোকানপাট কাঁচা বাজার, চিকিৎসা প্রতিষ্টান সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখতে বলা হয়। পাশাপাশি পৌরসভা, ইউনিয়ন ও সকল ওয়ার্ড পর্যায়ের জনগনকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিজ গৃহে সার্বক্ষনিক অবস্থান (লকডাউন) করা নির্দেশ দেয় প্রশাসন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •