•  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদক 
উখিয়া উপজেলার পালংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুষ্কৃতিকারীদের হামলায় আহত হয়েছে তিন এনজিওকর্মী।
মঙ্গলবান (২৪ মার্চ) সকাল ১১ টায় পালংখালী এলাকার ৭ নং ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, চলমান শুষ্ক মৌসূমে ৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় পানির স্তর নীচে নেমে গেলে নলকূপে পানি পাওয়া যাচ্ছিল না৷ এতে রোহিঙ্গাদের পানির কষ্ট লাঘবে এগিয়ে যায় একটি এনজিও সংস্থা৷ আগের স্থাপিত হস্তচালিত গভীর নলকূপ থেকে পানি না উঠায় তৎস্থলে সৌরবিদ্যুত চালিত মোটর বসানোর পরিকল্পনা নেয় তারা।
এর অংশ হিসাবে মঙ্গলবার সকালে তিনটি সৌরপ্যানেল স্থাপনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করে তারা।
কিন্তু ছাত্তার নামের এক লোক কাজে বাধা দেন। এসময় আরো কয়েকজন দুস্কৃতিকারী মিলে হামলা করলে গুরুতর আহত হয় এনজিওকর্মী ইসহাক, জাহেদ ও মোবারক।
হামলায় এনজিও কর্মীরা আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সহকারী ক্যাম্প ইনচার্জ মোঃ শাহজাহান।
তিনি বলেন, প্রায় দুইমাস আগে উক্ত সোলার প্যানেলগুলো স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে কাজ শুরু করলে বনবিভাগের এসব জমি নিজের দাবী হামলা করে সাত্তার ও তার লোকজন।
সূত্রে প্রকাশ, অভিযুক্ত সাত্তার এর আগেও বনবিভাগের জমি দখল করে রোহিঙ্গা বাজার গড়ে তোলার চেষ্টা করে। উখিয়া টিভি রিলে কেন্দ্রের পশ্চিম দিকে ৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লক এলাকায় রাতারাতি দুই ডজনাধিক দোকান নির্মান করে এ বাজার গড়ে তোলে সাত্তারসহ স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী। রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অগ্রীম সেলামি নিয়ে এসব দোকান নির্মান করে তারা।
৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লক এলাকায় বসবাসরত রোহিঙ্গা নূর কালামের ছেলে মোঃ আয়াছ, আবদুল করিমের ছেলে আবদুল্লাহ, জামাল হোছাইনের ছেলে ইউনুছ, ফয়েজ আহমদের ছেলে ঈসমাইল ও আবদু শুক্কুরের ছেলে নূরুল কালাম প্রমূখ ছাত্তারকে টাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে। দোকান ভাড়া দেয়ার জন্য অগ্রীম সালামী হিসাবে এসব টাকা নেয় ছাত্তার।
এসব ছাড়াও বনবিভাগের আরো জমি জবর দখলে রেখে রোহিঙ্গাদের নিকট ভাড়া দিয়েছে ছাত্তারের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট।
মসজিদ ও মক্তব নির্মানের জন্য জমি দেয়ার নাম করেও রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে এর আগে দুই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় সাত্তার।
অবৈধ দখলে রাখা বনিভাগের এসব জমিতে পানি সেচ দিতে ছাত্তার উপরোক্ত এলাকার একটি পাহাড়ী ছড়ায় কিছুদিন আগে বাঁধ দেয়। এতে ছড়ার পানি আটকে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সময় এই পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় ৪ জন রোহিঙ্গা শিশু। এদের মধ্য দিল কায়েছ নামে এক আড়াই বছরের একজনের নাম পাওয়া গেছে। নিহত দিল কায়েছ ডি ব্লক এলাকার রোহিঙ্গা হাফিজুর রহমানের ছেলে।
কিন্তু অভিযুক্ত ছাত্তার নিজকে “বন জায়গীরদার ও ভিলেজার” হিসাবে অখ্যায়িত করে এসব পাহাড় তার নিজের বলে দাবী করেন। রোহিঙ্গাদের থেকে টাকা নেয়ার কথাও অস্বীকার করেন তিনি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
 cbn