ইমাম খাইর, সিবিএন
কক্সবাজার জেলার প্রথম করোনা রোগী  মুসলিমা খাতুন (৭৫)। তাঁর এমন দুর্দিনে ভয়ে পালাচ্ছেন সবাই। আত্মীয়স্বজন-চিকিৎসক-নার্স, এমনকি হাসপাতালের অন্যান্য রোগীরাও আতংকগ্রস্ত।
হাসপাতাল ছেড়ে যাচ্ছে অনেক রোগী। নতুন কোন রোগি চিকিৎসাসেবা নিতে যেতেও ভয় পাচ্ছে। কমে গেছে জরুরী বিভাগের রোগীর সংখ্যা। ডাক্তার-নার্সরাও খুব সতর্ক। ইতোধ্যে হাসপাতালের ১০ জন চিকিৎসক, ৮ জন নার্সসহ ২১ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছে।
এমনই আতংকজনক পরিস্থিতিতে এই রত্মাগর্ভা মায়ের পাশে রয়েছেন মাত্র একজন, তিনি মেয়ে সাফিয়া খাতুন। হাসপাতালের নির্ধারিত কক্ষে থেকেই মায়ের সেবা দিচ্ছেন। তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পুর্ণ সুস্থ।
এ বিষয়ে জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী জানান, মুসলিমা খাতুনকে সর্বোচ্চ যত্নের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। বেশী উন্নতি না হলেও অবনতি ঘটে নি।
মেয়ে সাফিয়াও সুস্থ আছেন। তার জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট বাইর থেকে দেয়া হচ্ছে।
এদিকে সৌদিআরব থেকে মোস্তাক আহমদ নামের এক প্রবাসী জানিয়েছেন, মুসলিমা খাতুনকে তারা সেখানে খুব সেবা শুশ্রুসা করেছেন। বয়স্ক হিসেবে শারীরিকভাবে একটু দুর্বল মনে হলেও তেমন অসুখ দেখা যায় নি। অনেকটা সুস্থ শরীরে ওমরাহ শেষ করে দেশে ফিরেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম মারফত মুসলিমা খাতুনের করোনা ধরা পড়ার খবরে তারাও চিন্তা করছেন। দ্রুত সুস্থতার জন্য সবাই দোয়া করছে বলেও জানান মোস্তাক।
উল্লেখ্য, মুসলিমা খাতুন চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মরহুম রশিদ আহমদের স্ত্রী। ৫ ছেলের মধ্যে সবাই উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত। অধ্যক্ষ, আইনজীবী, ব্যাংকার সব তার ঘরেই। সরকারের একজন সিনিয়র সচিব করোনা আক্রান্ত মুসলিমার ভাগ্নে।
গত ১৩ মার্চ ওমরাহ শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেন মুসলিমা খাতুন।
১৮ মার্চ জ্বর, কাঁশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করার জন্য ২২ মার্চ ঢাকাস্থ আইইডিসিআরে নমুনা পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পাঠানো রিপোর্টে করোনা ভাইরাস পজেটিভ আসে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •