•  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

শাহেদ মিজান, সিবিএন:

করোনা ভাইরাস নিয়ে পুরো কক্সবাজার কার্যত লকডাউন হয়ে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছে না। তারপরও গণজমায়েত এড়াতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ টহলে রয়েছে। করোনার পরিস্থিতিতে আতঙ্কে থমকে গেছে মানুষের জীবন। এমন ভয়মুখর পরিস্থিতিতে বাজার-জংশনে নির্বিঘ্নে অবস্থান করছে রোহিঙ্গারা। উখিয়া ও টেকনাফের একই চিত্র বিরাজ করছে। সর্বশেষ আজ বুধবারও ক্যাম্প সংলগ্ন বাজার, জংশন ও ক্যাম্পের ভিতরে রোহিঙ্গাদের গণজমায়েত দেখা গেছে। উখিয়া ও টেকনাফ থেকে একাধিক এই তথ্য জানিয়েছেন।

কক্সবাজারের কর্মরত সাংবাদিক রাসেল চৌধুরী জানান, তিনি ব্যবসায়িক কাজে কক্সবাজার থেকে আজ বুধবার সকালে উখিয়া যান। তিনি উখিয়ার বালুখালীতে যান। যাওয়ার পথে তিনি দেখেছেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত কুতুপালং বাজার, বালুখালী বাজারসহ ওই এলাকা বিভিন্ন জংশনে নির্বিঘ্নে অবস্থান করছে রোহিঙ্গারা। তারা একেবারে গাদাগাদি করে কেনাকাটা করছে। শুধু তাই নয়; অনেকে অপ্রয়োজনীভাবে দলবদ্ধ হয়ে খোশগল্প করছে। দোকানপাট এবং সড়কের আশেপাশে বসেও আড্ডা করছে।

টেকনাফ থেকে স্থানীয় এক সাংবাদিক জানান, টেকনাফের সাতটি ক্যাম্পের সবখানে করোনা ভাইরাস নিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছে কোনো বালাই নেই। তবে কিছু রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রিত চলাফেরা করলেও অধিকাংশ রোহিঙ্গা জমায়েত হয়ে বাজারগুলোতে কেনাকাটা, ঘুরাঘুরি করছে। তেমনিভাবে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ দোকানপাটেও ও রাস্তাঘাটে বসেও আড্ডা দিচ্ছে। কিন্তু কোনো রোহিঙ্গা করোনারোধী মাস্ক সহ কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার করছে না।

কুতুপালংয়ের স্থানীয় ব্যক্তি আবদুল হামিদ জানান, কুতুপালং এবং বালুখালীসহ অধিকাংশ বাজারে রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয়রা বাজার সওদা করে থাকে। করোনার কারণে স্থানীয়রা চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করেছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণের কারণে অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে নিয়ন্ত্রিভাবেও ঘর থেকে বের হতে ভয় পারছে না। ভয়ে অনেকে অতিপ্রয়োজন হলেও বাজার বা দোকানে যাচ্ছে না।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন স্থানীয়দের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেও রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে চেষ্টা করলেও রোহিঙ্গারা তা মানছে না। এই পরিস্থিতি উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার স্থানীয় লোকজন করোনা নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে সময় পার করছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, স্থানীয়দের মতো রোহিঙ্গাদেরও নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সমানভাবে কাজ করছে। উখিয়ায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। আজ দুপুর থেকে সেনাবাহিনী মাঠে নামবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও সেনাবাহিনী টহলজোরদার করবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
 cbn