শফিকুল ইসলাম নয়ন 

মহামারি করোনা ভাইরাস গ্রাস করতেছে পুরা পৃথিবীকে। লক ডাউন হয়ে যাচ্ছে এক একটি দেশের এক একটি বিভাগ, এক একটি শহর, এক একটি জেলা থেকে শুরু করে উপজেলার সকল ইউনিয়ন পর্যন্ত। আজ বাংলাদেশেও এটির ব্যতিক্রম নয়।

ইতিমধ্যে ছড়িয়ে গেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।ত্রিশের ঊর্ধ্বে পার হয়েগেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।
তবে বলা বাহুল্য আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দেশের সর্বস্তরের সকল জনগণকে সাবধানতা অবলম্বন করতে নির্দেশ করেছেন।

সতর্কতা ও মানুষের নিরাপত্তা বাস্তবায়িত করার জন্য মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে আগামী প্রজন্মকে মুক্ত রাখার জন্য গত ১৭ই মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অত্যন্ত সুন্দর সিদ্ধান্ত ছিল মানা যায়, তবে পরবর্তী ঘোষণা হল: সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য বন্ধ হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে!

যার ফলে শিক্ষার্থীরা থাকবে বাড়ির ভেতরে’ আর বাড়ির বাইরে থাকবে কর্মকতা-কর্মচারী।
তবে এটাও মাথায় রাখা উচিত ছিল যে,
কর্মচারী-কর্মকর্তার সন্তানরা বাড়িতে থাকে বিধায় যার ফলে দিন শেষে সবাই একত্রিত!
এর মানে এটাই যে বাহির থেকে বিপদ বাড়িতে নিয়ে আসা।

তবে নাহ্!
পরবর্তীতে সরকারের সুন্দর সিদ্ধান্ত,
আগামী ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্য ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে। এর আগে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ও পরে ২৭ ও ২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটিও যোগ হবে। এ ছাড়া ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি এ ছুটির সঙ্গে যোগ হবে। সর্বমোট ১০ দিন বন্ধ থাকবে।

এতে প্রতিষ্ঠানের চাকুরিরত সকল কর্মচারী কর্মকর্তার পরিবার ঝুকি বিহীন নিরাপদ একটা সময় পার করতে পারবে।
অবশ্যই সুন্দর সিদ্ধান্ত, অন্ততপক্ষে অভিভাবক এবং সন্তানরা একত্রে মিলিত হতে পারবে তাতে কোন ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ নেই নিশ্চিত।

যাক এটাও গেল।
এবার আসি দিনমজুর পরিশ্রমী খেটে খাওয়া মানুষদের প্রসঙ্গে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের দারিদ্রতার হার ২০.৫ শতাংশ, তবে গভীরভাবে চোখ বুলিয়ে চিন্তা করলে কেন জানি আমার এটি বিশ্বাস্য মনে হয় না।
তবে হ্যাঁ এটি’ই মাথায় রাখা উচিত, বাংলাদেশ একটি দরিদ্র জনবহুল দেশ।

মানলাম দেশের সকল কর্মচারী-কর্মকর্তারা ছুটিতে থাকলেও তাদের বেতন-ভাতা ঠিক আগের নিয়মে চলবে। পরিবারের ভরনপোষণ আর দৈনন্দিন খরচ যোগাতে কোন প্রকার প্রভাব পড়বে না।
তবে হ্যাঁ!
কি হবে তাদের?

যারা দিনমজুর, যারা দৈনিক কাজ করে দিনের আহার দিনেই জোগাড় করে।
যারা রিকশা চালক,ভ্যান চালক, কুলির কাজ সহ অন্যান্য দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে।
তাদেরও তো বন্ধ হয়ে যাবে কর্মস্থান।
তবে কি বন্ধ হবে তাদের আহার?
আর কোথায় থেকে আসবে তাদের খাওয়ার, সাথে পরিবারের খরচ?

তারা তো আর প্রাতিষ্ঠানিক চাকুরীজীবী নাহ্ যে, কর্মস্থান বন্ধ থাকলেও তাদের বেতন ভাতা ঠিক নিয়মে চলবে!
তবে কি তারা অনাহারে থাকবে?

না কেউ অনাহারে থাকবে না। আমরা মুসলিমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ কারো রিজিক বন্ধ করে না, তবে বন্ধ না হওয়ার মাধ্যম কি আমরা হতে পারি না?
আমি বিশ্বাস রাখি, যেভাবে করোনা প্রতিরোধে তরুণরা কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন সচেতনামূলক, লিফলেট বিতরণ, মাস্ক বিতরণ এবং স্যানিটাইজার সরবরাহ সহ আরো অনেক, ঠিক সেভাবে এগিয়ে আসবেন আবার।

যাতে কেউ আনহার না থাকে। আর এগিয়ে আসার বিশেষ অনুরোধ রইল।
আসুন আমরা সরকারের পাশাপাশি তরুণরা মিলে ওনাদের পাশে দাড়ায়। সমাজের উচ্চবিত্তদেরও আমাদের সাথে একত্রিত করে পাশে দাড়াবার চেষ্টা করি। মনে রাখবেন, আল্লাহ আপনাকে কারো দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছেন। এটা আল্লাহর বড় নিয়ামত। এই সুযোগটা হাতছাড়া করবেন না,নয়তো আল্লাহ নারাজ হতে পারেন।

নাহ্! আর কেউ অনাহারে নই,
যেথায় থাকিবে মানবতা
অবশ্যই অবশ্যই হবে সেথায়,
মহামারি করোণার পরাজয়।

লেখক:
স্টাডি: ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইন্জিনিয়ারিং টেকনোলজি, কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।
ফেইসবুক : Abir Si Noyan

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •