শাহেদ মিজান, সিবিএন:

করোনার প্রেক্ষাপটে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আর্থিক খাত স্থবির থাকায় কক্সবাজার ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি স্থগিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। আগামী এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ জুন পর্যন্ত জেলায় সব কিস্তি বন্ধ রাখতে জেলা প্রশাসক লিখিতভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এই নির্দেশকে অমান্য করে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করছে অধিকাংশ এনজিও। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাদের বাধ্য করে তারা কিস্তির টাকা আদায় করে ছাড়ছে। সর্বশেষ আজ মঙ্গলবারও জেলা বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য অভিযোগ আসছে।

জানা গেছে, গত রোববার (২২ মার্চ) জেলার সব ধরণের ক্ষুদ্রঋণ লগ্নকারী প্রতিষ্ঠানকে তাদের গ্রাহকদের ঋণকিস্তি স্থগিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। বিভিন্ন ব্যাংককেও এর আওতায় রাখা হয়েছিলো। তবে এই নির্দেশ অমান্য করে গতকাল ২৩ মার্চ এবং আজ ২৪ মার্চও জেলার সব স্থানে অধিকাংশ এনজিও কিস্তির টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ আসছে। তবে আগামী ২৬ মার্চ থেকে তা স্থগিত রাখবে বলে জানাচ্ছে তারা। মাত্র কয়েকটি এনজিও কিস্তির টাকা স্থগিত রেখেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস এবং মানুষের আর্থিক অসঙ্গতি উপেক্ষা করে কাকডাকা ভোরেই এসব এনজিওর কর্মীরা বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য দুয়ারে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে। এতে এনজিওকর্মী ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের জন্য করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ দুঃসময়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দিনমজুরী পরিবারগুলোর উপর এনজিও’র কিস্তির টাকা যেন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিস্তির টাকা নিয়ে ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে এনজিও কর্মীদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ঝগড়া-বিবাদের ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাত-পা ধরেও রেহাই পাচ্ছে ঋণগ্রহীতারা। ভবিষ্যতে ঋণ দেওয়া হবে না এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে কিস্তির টাকা আদায় করছেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

#আজ ২৪ মার্চ চকরিয়ায় কিস্তি তুলতে আসা এক এনজিওকর্মী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •