শাহেদ মিজান, সিবিএন:
পুরো বিশ্বকে কাবু করে দিয়েছে করোনা। করোনার আঘাতে অধিকাংশ দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতিও আশঙ্কা দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এখনো মহামারি আকারে ছড়াতে না পারলেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে লোকজনকে গণজমায়েত এড়িয়ে ঘরে থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। রোহিঙ্গা এবং পর্যটন জেলা হওয়ায় এই নির্দেশনাটি কক্সবাজারের জন্য আরো গুরুত্ব বহন করছে। এই প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারের প্রশাসন এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কঠোর হয়েছে। প্রশাসনের সতকর্তায় করোনা আতঙ্কে কক্সবাজার শহর আরো কিছু এলাকায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে লোকজন। বিশেষ করে কক্সবাজার শহর প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাসা-বাড়ি থেকে লোকজন বেরই হচ্ছে না।
এদিকে প্রশাসনের চাপ অন্যদিকে নিজ আতঙ্ক- দুই দিক বিবেচনায় নিয়ে কক্সবাজার শহরে দুই/তিন ধরে জনসমাগম একেবারে কমে গেছে। শনিবার সারাদিন কক্সবাজারজুড়ে লোক চলাচল প্রায় শূন্য দেখা গেছে। অভ্যন্তরীণভাবে টমটম, সিএনজি অটোরিক্সাসহ কিছু যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে ওইসব যানবাহনের যাত্রী সংখ্যাও খুব কম দেখা গেছে। যারা বের হয়েছে তারা কিন্তু অতি জরুরী প্রয়োজনেই বের হয়েছে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়া এবং টেকনাফেও লোকজন তেমন বের হচ্ছে না। এদিকে করোনার কারণে স্থানীয়দের মতো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত বিভিন্ন এনজিও সংস্থার লোকজনও চলাফেরা সীমিত করে দিয়েছে।
কক্সবাজার প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটন এলাকা এবং রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজার করোনার বেশ ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই সরকারি নির্দেশনা ছাড়াও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রশাসনগুলো আলাদাভাবে করোনা ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে যাচ্ছে।
আগেই কক্সবাজারের সব পর্যটন কেন্দ্র লকডাউন করা হয়েছে। একই সাথে জেলা সদর এবং রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়া ও টেকনাফে জনসাধারণের চলাচলে বেশ কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে।
সরকারি হিসেবে আজ ২২ মার্চ পযর্ন্ত বাংলাদেশ ২ জনের মত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ২৪ জন। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলছে। কক্সবাজারের প্রায় ৭০ জনকে হোম কোয়ারাইন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
সার্বিক প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসাইন জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে কক্সবাজারে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোরভাবে নজরদারি করছে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নসহ সব ধরণের করণীয় নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

বিশেষ স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে করোনার বিস্তার বাড়ছে। সর্বশেষ আজ ২২ মার্চ পর্যন্ত ১৩,০৫৪ জনের মত্যু হয়েছে। এই ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও চীনকে ছাড়িয়ে মৃত্যু এবং সর্বোচ্চ আক্রান্ত এবং মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •