শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় ইতালি ফেরত প্রবাসীর শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে- এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। আছে আতংকও। বাস্তবে এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে করোনা আক্রান্ত কোনো পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়- করোনা আতংকের মধ্যে আছেন খরুলিয়ার সাধারণ মানুষ। কেউ বলেছেন ইতালি থেকে খরুলিয়া হিন্দুপাড়া করোনা আক্রান্ত রোগী ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ বলছেন- বড়ুয়া পাড়ায়, আবার কেউ বলছেন বাজার পাড়া এলাকায় ইতালি ফেরত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী এসেছেন।

বাস্তবে সুনির্দিষ্ট করে কেউ করোনা আক্রান্তের তথ্য দিতে পারেননি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষ অযথাই গুজব-আতংকে ভুগছেন। তবে ইতালি প্রবাসীর শরীরে করোনার লক্ষণ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

তবে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে- গত কিছুদিন আগে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া হিন্দুপাড়ায় ইতালি ফেরত একজন প্রবাসী এসেছেন।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন- জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি, সবই গুজব। করোনা মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরোও বলেন- ওই প্রবাসীর শরীরে করোনার কোনো লক্ষণ নেই। তবুও সতর্কতা হিসেবে তাকে সেল্প আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। নিজ বাসায় নির্দিষ্ট রুম থেকে বের না হতে বলা হয়েছে।এসব গুজবে সকলকে সচেতন থাকতে হবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় কয়েকজন ঔষধ ব্যবসায়ী বলেন, ক্রেতা ও পরিচিতজনদের আতংকিত হতে দেখেছি। একজন আরেকজনকে ফোনে বলছেন হিন্দুপাড়ায় ইতালি ফেরত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী ঘোরাফেরা করছে। আমাদেরকেও অনেকেই ফোন করে এমন খবর দিয়েছেন। তবে খবরের ভিত্তি খুঁজে পাইনি। মনে হচ্ছে সবই গুজব।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমদুল্লাহ মারুফ বলেন, ওই প্রবাসীকে আমরা হোম কোয়ারান্টাইনে রেখেছি, বর্তমানে তার ১৪ দিন শেষ হওয়ার কথা। জীবন বিপন্নকারী করোনাভাইরাস রোগের সংক্রমণ বিস্তার প্রতিরোধে কেউ সরকারের নির্দেশ অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের কোনো তথ্য থাকলে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করতে অনুরোধ করেছেন তিনি।

এদিকে, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রস্তুত রামু ও চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যা করে আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে। এছাড়া ২৪ ঘন্টা সেবা দেয়ার জন্য গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম। রোহিঙ্গাদের জন্যও নেয়া হয়েছে আলাদা প্রস্তুতি। উখিয়ার আশ্রিত প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাড়তি নজরদারিতে রেখেছে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত দেশি-বিদেশী কর্মকর্তারাও নজরদারির আওতায় রয়েছে বলে জানালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

তাছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঝুঁকি এড়াতে চারটি নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নির্দেশনাগুলো হলো, সৈকত এলাকাসহ যেকোনো জনসমাগম এলাকা পরিহার করুন। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ঘরে অবস্থানের জন্য, বাইরে বেড়ানো বা কোচিং করার জন্য নয়। সরকারের নির্দেশনা মেনে চলুন। কক্সবাজার সফরের পরিকল্পনা থাকলে তা পুনর্বিন্যাস করে ঝুঁকিমুক্ত সময় নির্ধারণ করুন। সব স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলুন। নিজে নিরাপদ থাকুন, অপরকে নিরাপদ থাকতে সহায়তা করুন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •