মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

একজন বিদেশী নাগরিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশে আসার পর তাঁকে কক্সবাজার আসার জন্য আবারো অনুমতি নিতে হয়। সে অনুমতি নেওয়ার প্রামাণ্য ডকুমেন্টস সহ শরনার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ে নিয়মমাফিক রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে প্রবেশের জন্য আবেদন করে থাকে। সে আবেদন পরিপ্রেক্ষিতে আরআরআরসি অফিস প্রয়োজন মনে করলে উক্ত বিদেশীকে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে নির্ধারিত সময়ে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে নভেল করোনা ভাইরাস (COVID-19) রোগী প্রথম সনাক্ত হওয়ার পর থেকে ভিন্ন দেশ থেকে সদ্য আসা কোন বিদেশীকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশের কোন পাস এ পর্যন্ত ইস্যু করা হয়নি। আরআরআরসি অফিসের ইস্যুকৃত এরকম পাশ ছাড়া কোন বিদেশী উখিয়া টেকনাফের রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। যারা রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে আগে থেকেই কর্মরত বিদেশিরা রয়েছেন, তাদের ইস্যুকৃত পাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতি প্রয়োজন ছাড়া সেগুলোর মেয়াদও খুব একটা বাড়ানো হচ্ছেনা। তাছাড়া, বিভিন্ন তথ্য চেয়ে আরআরআরসি অফিসের নির্ধারিত ফরম রয়েছে। দেশী-বিদেশী সকলেই সেই ফরম পূরণ করে কর্তৃপক্ষকে দেওয়া বাধ্যতামূলক। আর করোনা ভাইরাস ((COVID-19) নামক বৈশ্বিক মহামারীর প্রেক্ষিতে বিদেশীরা নিজেরাই এখন বাংলাদেশে খুব একটা আসতে চাচ্ছেন না। তারপরও উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প গুলোতে সদ্য আসা নতুন কোন বিদেশি যেতে চাইলে তাকে ক্যাম্পে যাওয়ার আগে কমপক্ষে ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টাইনে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে থাকতে হবে। হোম কোয়ারাইন্টানে থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের দৃষ্টিতে আশংকা মুক্ত হলেই উক্ত বিদেশি রোহিঙ্গা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে যেতে পারবেন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে রোহিঙ্গা প্রশাসন এ বিষয়ে গত ১০ দিন আগে থেকেই কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন কোন বিদেশি নাগরিক রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের কার্যক্রমে না আসার জন্যও আরআরআরসি অফিস থেকে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও পত্র দেয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে সদ্য আসা বিদেশি নাগরিক অবাধে আসা যাওয়া করছে এমন অভিযোগ সঠিক কিনা, তার জবাবে কক্সবাজার আরআরআরসি অফিসের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত আরআরআরসি (উপসচিব) সামশুদ্দোজা নয়ন সিবিএন-কে একথা বলেন।

অতিরিক্ত আরআরআরসি (উপসচিব) সামশুদ্দোজা নয়ন আরো বলেন, গত ১৭ মার্চ অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা একজন রোহিঙ্গা ১২ নাম্বার রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের ইনচার্জের অধীনে সেখানকার হাসপাতালে কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গা হলেও নিজে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং তার স্বজনদের দেখতে অস্ট্রেলিয়া থেকে কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে এসেছেন। এ পর্যন্ত কোন করোনা ভাইরাস জীবাণু আক্রান্ত রোগী রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে সনাক্ত করা হয়নি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প গুলো এনজিও এবং আইএনজিও গুলোর কার্যক্রমও সীমিত করা হয়েছে। কোন ধরনের জমায়েত ও সমাবেশ জাতীয় কোন কিছু না করার জন্যও তাদেরকে শুরু থেকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরী অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী ছাড়া অন্য কোন সামগ্রী সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে অন্য সব কার্যক্রমের চেয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে করোনা ভাইরাস (COVID-19) প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এবিষয়ে সুষ্ঠু নজরদারি ও তদারকি করা হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস (COVID-19) প্রতিরোধ সংক্রান্ত দেশের স্বাস্থ্য বিভাগীয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো লিফলেট, হ্যান্ডবিল ইত্যাদি বার্মিজ ভাষায় অনুবাদ করে ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মাঝে বিলি করা হচ্ছে নিয়মিত। যাতে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নির্দেশনা গুলো বুঝতে সুবিধা হয়। রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আতংকিত না হয়ে তাদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতেও ক্যাম্পে প্রচুর কাজ করা হচ্ছে বলে অতিরিক্ত আরআরআরসি (উপসচিব) সামশুদ্দোজা নয়ন সিবিএন-কে অবহিত করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •