আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর কলকাতার দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে করোনাভাইরাস আতঙ্কে কারাকর্মীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়েছে বন্দিরা। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে কারাগারের ভেতরে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। কারাগারে এ সংঘর্ষে একজন নিহত ও আরও কমপক্ষে ৯ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটি একটি গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।

এনডিটিভি বলছে, উত্তর কলকাতার দমদম কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে কারা কর্মীদের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। কারাগারের সূত্রগুলো বলছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় তা কারাগারেও পৌঁছেছে বলে বন্দিদের মাঝে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর পাওয়ার পর বন্দিরা আতঙ্কিত হয়ে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বন্দিদের বিক্ষোভ থামাতে গেলে কারাগারের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে কেউ নিহত হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত করতে পারেনি এনডিটিভি।

ভারতীয় এ সংবাদমাধ্যম বলছে, শনিবার দফায় দফায় দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারাগারের ভেতরে পুলিশের অনেক সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। কারা চত্বরে প্রবেশ করলে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বন্দিরা।

বদ্ধ পরিবেশে কোনও বন্দি করোনা সংক্রমিত হলে তা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে; এমন আশঙ্কায় তাৎক্ষণিকভাবে জামিনে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন তারা। এর আগে শুক্রবার করোনাভাইরাসের বিস্তারের আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বন্দিদের সাক্ষাৎ স্থগিত করে কারা কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়। তবে অনেকেই বলছেন, স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ বাতিল করায় বন্দিদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়।

এছাড়া যেসব বন্দি ইতোমধ্যে ১০ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটিয়ে দিয়েছেন এবং পরিষ্কার রেকর্ড রয়েছে; এমন বন্দিদের ১৫ দিনের জামিন দেয় কর্তৃপক্ষ। ক্ষুব্ধ বন্দিরা কারাগারের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের তিনটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

শনিবার পর্যন্ত ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৮৩ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া এ ভাইরাসে মারা গেছেন অন্তত চারজন। মার্কিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভারতে করোনাভাইরাসের সুনামি বয়ে যেতে পারে। দেশটিতে অন্তত ৩০ কোটি মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তারা।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর দেশটির হুবেই প্রদেশের উহানে নতুন করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে অন্তত ৩ হাজার ২৫৫ জনের প্রাণহানি এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৮ জন। বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮৩ হাজার ২৬৮ এবং মারা গেছেন ১১ হাজার ৮২৯ জন। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৩৫ জন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •