ইমাম খাইর, সিবিএন
টকজাত খাবার লেবু, ক’জনইবা পছন্দ করে? প্রয়োজনে-শখ করে লেবু খায় অনেকে। তাও-সীমিত পরিমাণ। অনেকের একটুরো হলেই চলে। সঙ্কটপণ্যের তালিকায়ও কোন দিন ছিল না লেবু। সারা বছরই মিলে এমন পণ্যের নাম লেবু। জেলার হাটবাজারগুলোতে লেবুর সরবরাহের কমতি নেই।
লেবুর চাহিদার বড় ক্ষেত্র হোটেল মোটেল জোনের রেস্তুরাঁ ও বিয়ের ক্লাবগুলো অনেকটা বন্ধ। করোনা ভাইরাসের কারণে এই কেন্দ্রিক চাহিদার কমে গেছে। বলতে গেলে চাহিদা আপাততঃ শূণ্যের কোটায়। তবু হঠাৎ কেন লেবুর মূল্য বেড়ে গেল? মাজেজা কি?
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে কক্সবাজার শহরের বাড়বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ১ টাকার লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা পর্যন্ত। একটু ছোট সাইজের হলে দুইটি কিনলে ২৫ টাকা। তার চেয়ে ছোটগুলো বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ১০ টাকার উপরে। অথচ দুইদিন আগেও বড় সাইজের লেবুর দাম ছিল হালিপ্রতি ২০-২৫ টাকা।
শনিবার বিকালে একজন ক্রেতা ছোট সাইজের ৫০ টি লেবু কিনেছে ২৫০ টাকায়। অথচ লেবু বিক্রেতার পাশে এক কেজি টমেটো ২০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
চড়াদামের বিষয়ে লেবু বিক্রেতার কাছে জানতে চাওয়া হয়।
তার সোজাসাপ্টা উত্তর, ক্রয়মূল্য বেড়েছে। তাই বাড়তি নিচ্ছে। প্রতিটি লেবু কিনতে হয়েছে ১০/১৫ টাকায়। সে অনুপাতে বিক্রি করছে।
শুধু লেবু নয়, অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজারের কোন স্থিতিশীলতা নেই। যে যার মতো সওদা করছে। দশ দোকানে দশ দাম। একই পণ্য, কিন্তু একেক দোকানে নেয়া হচ্ছে একেক দাম। পাইকার ও খোচরা বিক্রেতা সবাই লাভবান। কেবল ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেতা বা ভোক্তারা। অভিযান চালালে কিছুক্ষণের জন্য দাম কমে। অভিযানকারীরা চলে যাওয়ার পরপরই বেড়ে যায়। চিত্র শুধু জেলা শহর নয়, উপজেলা সদর কিংবা গ্রামীন বাজারগুলোর একই অবস্থা। সিন্ডিকেট ব্যবসা ও প্রশাসনের দুর্বল মনিটরিং এর কারণে এমন দশা বলে অভিযোগে ভোক্তাদের।
বিশেষ করে, গত কয়েকদিন ধরে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর বাজারের এমন পরিস্থিতি। দাম বৃদ্ধির শঙ্কা থেকে মজুদ গড়ে তুলেছে অসাধু মজুদদারেরা। পেঁয়াজ, আদা, রসুন থেকে শুরু করে প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। জেলার প্রায় মুদির দোকানে সকালে এক দাম, বিকালে অন্য দাম। যেন মগের মুল্লুক।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে কক্সবাজার বড়বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই দিনে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় দ্বিগুন। রসুন, আদা, তেল, ডালের দামও বাড়তি। করলা, কপি, শিম, ঢেঁড়স, মরিচের দাম তুলনামূলক বেশী। বস্তাপ্রতি চালের দাম প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে। সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে পুরো বাজার। অকারণেই বৃদ্ধি পাচ্ছে শাকসবজি-তরিতরকারীর দামও। বেড়েছে ডিম-মাংসের দাম। মাঝেমধ্যে অভিযান চালানোর পরও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না বাজার।
ভোক্তারা বলছেন, মাঝেমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হলে কিছুটা দাম কমে। প্রশাসনের টিম চলে গেলেই সেই একই হালত। দ্বিগুণ-তিনগুণ মূল্য বাড়িয়ে নেয়া হয় প্রায় খাদ্যপণ্যে। সব মিলিয়ে দ্রব্যমূল্যের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলেছে রক্তচোষা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।
এদিকে, আমদানিমূল্য না বাড়লেও খুচরা বাজারে দাম বাড়ানোর অভিযোগে কক্সবাজার শহরের সবচেয়ে বড় পাইকার ও খুচরা বাজার ‘বড়বাজার’ এর বিভিন্ন দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শাহরিয়ার মোক্তারের নেতৃত্বে এই অভিযানে ৭ দোকানদারকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ১ জন পাইকারকে দেয়া হয়েছে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •