বার্তা পরিবেশক:

কক্সবাজার শহরের বার্মিজ মার্কেটস্থ ‘আলমাছ কমপ্লেক্স’ এর একটি দোকান অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে মিজান নামে একব্যক্তির বিরুদ্ধে। মালিকের সাথে চুক্তি শেষ হলেও ভাড়াটিয়ার ছেলে মিজান সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দোকানটি দখলে নেন। ২০১১ সালে চুক্তি শেষ হলেও আজ পর্যন্ত মালিকপক্ষকে দোকান বুঝিয়ে দিচ্ছে না। উল্টো সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে নিয়মিত ভয়ভীতি দেখাচ্ছে মিজান। শনিবার (২১ মার্চ) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন দোকান মালিক হাবিব উল্লাহ। অভিযোগে হাবিব উল্লাহ বলেন, আলমাছ কমপ্লেক্স এর মালিক হলেন হাবিব উল্লাহ (আমি) ও আমার ভাই জালাল আহামদ এবং আলী আহামদ। কমপ্লেক্সের নিচে একটি দোকান হাজী আহম্মদ হোছেনকে সেলামীসহ ভাড়া দেয়া হয়েছিল ১৭/৩/২০০৬ সালে। সর্বশেষ ভাড়ার মেয়াদ ছিল ৩১ মার্চ ২০১১ সাল পর্যন্ত। হাজী আহম্মদ হোছেন চট্টগ্রাম সাতকানিয়া সোনাকানিয়া সামিয়ার পাড়া এলাকার মৃত অলি মিয়ার ছেলে।

হাবিব উল্লাহ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ভাড়ার মেয়াদ শেষ হলেও দোকান ছাড়েনি হাজী আহম্মদ হোছেন। যখন মেয়াদ শেষ হয়েছিল ওই সময় আমি প্রবাসে ছিলাম। তখন এসব দেখা শুনা করত আমার স্ত্রী। এরিমধ্যে ভাড়াটিয়া হাজী আহম্মদ হোছেন মারা যান। এরপর থেকে দোকানটি পরিচালনা করছে হাজী আহম্মদের ছেলে মিজান। কিন্তু মিজানও নতুন করে দোকানের চুক্তি করেনি। এক প্রকার জোর করে ও লোহাগাড়া সাতকানিয়া সমিতি ব্যবহার করে অবৈধভাবে দোকানটি দখল করে নেন। হাবিব বলেন, গত দুই বছর আগে আমি দেশে চলে আসি। এরপর থেকে দোকানটি উদ্ধারের চেষ্টা করছি। কিন্তু পারছি না। দোকানের চুক্তি শেষ হয়েছে প্রায় ৯ বছর হচ্ছে; কিন্তু তারা সন্ত্রাসী কায়দায় দোকান দখলে রেখেছে।

এরিমধ্যে গোপনে দোকানটি অন্য একজনকে বিক্রি করে দেওয়ার পায়ঁতারা চালায় মিজান। বিষয়টি আচঁ করতে পেরেই গত বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে আমার নিজের দোকানটি নিজেই দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু আমরা পারিনি। মিজান তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে আমার পরিবারকে অবরোধ করে ফের নিজেই দখলে রাখে। এসময় আমার স্ত্রী মছতুরা খানমকে নাজেহালও করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবগত করা হয়েছিল। পুলিশ এসে পরিদর্শন করে কাগজপত্র দেখেন। তারাও বলছে আমরা ঠিক জায়গায় আছি। কিন্তু মিজানের সাথে আমরা পারছি না। প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে মিজান ও তার বাহিনী।

হাবিব উল্লাহ’র দাবী, পুরো বির্ল্ডিং এর মালিক আমরা তিন ভাই। বির্ল্ডিং এর নিচে অনেক দোকান আছে আমাদের। প্রতিটি দোকান চুক্তির মাধ্যমে ভাড়া দিয়েছি। কিন্তু এই একটি দোকানের ভাড়াটিয়া ঝামেলা করে যাচ্ছে। যে আসল ভাড়াটিয়া সে মারা গেছে। তার ছেলে মিজান দখলে নিতে চাচ্ছে অবৈধভাবে। দখলে নেওয়ার কোনো কারণ বা কোন কাগজ কিংবা সামান্য ডকুমেন্টত প্রয়োজন। ক্ষমতা দেখিয়ে সন্ত্রাসী এনে কি দোকান দখল করা যায় নাকি। আমি মালিক; আমার দোকান কিন্তু সন্ত্রাসী দিয়ে ভয় দেখিয়ে দোকান দখলে নিয়েছে মিজান। এখন দোকানের ভিতরে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে। বিষয়টি আমি প্রশাসনকে নজর দেওয়া এবং আমাদের প্রতি একটু সহযোগিতা করার অনুরোধ করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •