জসীম উদ্দীন
করোনাভাইরাস (কভোডি ১৯) আতংকের মধ্যে কক্সবাজার জেলায় বেড়েছে সাধারণ জ্বর-কাশি-সর্দি রোগীর সংখ্যা। রোগী ও স্বজনদের আনাগোনায় তিল ঠাইঁ নেই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে।পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতেও রোগী ভরপুর।জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসব রোগীরা এসেছেন।রোগীদের বেশিরভাগই জ্বর-কাশি-সর্দিতে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার’রা বলছে, জ্বর- কাশি-সর্দি অস্বাভাবিক রোগ নয়, এতে ভয় বা আতংকিত হবার কিছু নেই।স্বাভাবিক ঔষধ খেলে সেরে যাবে।

এর পরও ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই রোগী ও স্বজনদের ।অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকরা রোগীকে ভালোভাবে না দেখে প্রয়োজন না থাকলেও ব্যবস্থাপত্রে একাধিক পরীক্ষা নিরীক্ষা লিখে দিচ্ছেন।করোনার ভয়ে অসুস্থ ব্যক্তি পরীক্ষা গুলো করতে বাধ্য হচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে সদর হাসপাতালে কতৃর্ব্যরত চিকিৎসকরা ডিসকাউন্ট এর কথা বলে রোগীদের পাঠাচ্ছেন নির্দিষ্ট হাসপাতালে।

পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ব্যবস্থাপত্রে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ও নিম্নমানের ঔষধ লিখে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।এখানে শেষ নয়, রোগী হাসপাতাল থেকে বের হওয়া মাত্র চারপাশ ঘিরে ধরছে ঔষধ কোম্পানীর মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিটিভ (এমআর)এর সংঙ্ঘবদ্ধ দল।

যাচাই করছেন চিকিৎসকরা চুক্তিমত তাদের কোম্পানীর ঔষধ গুলো লিখেছেন কি না। ঔষধ কোম্পানীর এসব প্রতিনিধিরা একপ্রকার জোর করে রোগী বা রোগীর স্বজনদের হাত থেকে ব্যবস্থাপত্র(প্রেসক্রিপশন) কেড়ে নিয়ে পড়ছে এবং পাশাপাশি ছবিও তুলে নিচ্ছেন। এটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সময়ের বর্তমান দৃশ্যপাট।

সরজমিনে দেখা যায়,জেলার সদর হাসপাতালে ভিতরে বাইরে ও দুইগেটে অর্ধশতাধিক মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিটিভদের সরব অবস্থান। হাসপাতাল থেকে রোগী বের হওয়া মাত্র দলবদ্ধভাবে ঘিরে ধরেছে রোগীকে। এমন কি হাসপাতালর ভিতরেও রয়েছে তাদের দৌরাত্ম্য।

ঔষধ কোম্পানীর মেডিকল রিপ্রেজেন্টেটিভদের একজন জয়নাল। তিনিও সদর হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসা রোগীর ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন গুলো যাচাই করছেন।আর ফোন ছবি তুলে নিচ্ছেন।জয়নাল তার ঔষধ কোম্পানীর নাম না বললেও স্বীকার করেছেন অনেক কিছুই।

সে জানায়, একদিনে কমপক্ষে সদর হাসপাতালের ২০টি (প্রেসক্রিপশন) ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলে পাঠাতে হয় অফিসে।স্বীকার করছেন জোর করে রোগীদের প্রেসক্রিপশন ছবি তুলছেন তিনিও। কোন উপায় নেই ‘চাকরি বাঁচাতে এমনটা করেন বলে মন্তব্য তার।সদর হাসপাতালে বেশিরভাগ চিকিৎসকদের সঙ্গে তার কোম্পানীর চুক্তির রয়েছে বলে জানান জয়নাল।এবং তার মতো আরোও ৫০জন সদর হাসপাতলের একই কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

এইতো গেল সদর হাসপাতালের কথা। কক্সবাজার শহরের শতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল,ক্লিনিক গুলোর অবস্থা আরোও ভয়াবাহ! বিশেষ করে করোনাভাইরাসকে ইস্যু বানিয়ে চিকিৎসকদের ব্যবহার করে অসুস্থ বাণিজ্যে মেতেছে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ল্যাব ঔষধ কোম্পানী ও সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি রোগী বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার নামে তাদের অসুস্থ বাণিজ্যে চরমে।

অনুসন্ধান করে জানা যায়, নিম্নমানের কোম্পানী গুলো তাদের ঔষধ বাজারজাতকরণে ব্যবহার করছে কক্সবাজারের কর্মরত চিকিৎসকদের।

মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ (এমআর) নিয়োগের মাধ্যমে রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ঔষধ লিখতে চিকিৎসকদের নানাভাবে বাধ্য করছেন এবং অন্য কোম্পানির সাথে প্রতিধন্ধিপূর্ণ বাজার দখল করতে তাদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধাও দিচ্ছেন। এ অবস্থার কারণে চিকিৎসকরা ঔষধ কোম্পানির হাতে এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এতে ঔষধ নিয়ে এক ধরনের অসুস্থ বাণিজ্য চলছে। সেই সাথে চিকিৎসকদের হাত ধরে রোগীদের সেবায় ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের ঔষধ। অপ্রয়োজনীয় গলাকাটা পরীক্ষা বাণিজ্য তো আছেই। এতে করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জ্বর,কাশির চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ চিকিৎসকরা এটি স্বাভাবিক রোগ বললেও নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে হাসপাতাল কতৃরপক্ষকে মোটাতাজা বানাচ্ছেন।

এর পর ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্রিপশনে) যেসব ঔষধ লিখে দিচ্ছেন তা নিয়েও অসন্তুুষ্ট তারা।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমানের নজরে সদর হাসপাতালে বিষয়টি আনা হলে তিনি এটি দেখা তার দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় ডাঃ মোঃ মহিউদ্দীন বলেছেন, সদর হাসপাতালের এমআরদের দৌরাত্ম্য বিষয়টি গত তিনমাস আগে পুলিশকে জানিয়ে রেখেছেন তিনি।

সব বিষয়ই অবগত করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরো বলেন, মানুষের অসুস্থতা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কেউ রাখেনা। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •