কালেরকন্ঠ : ইতালিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর হার চীনের চেয়ে ১০ গুনেরও বেশি। যেখানে চীনের মৃত্যু হার মাত্র ৪ শতাংশ, সেখানে ইতালিতে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর হার ৪৩ শতাংশ।

মৃত্যুর এ ভয়াবহ উর্ধ্বমখী হার ইতালি সরকারকে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। আরও ৮ শতাংশ আক্রান্ত রোগী মূমুর্ষ অবস্থায় আছে। এর বিপরীতে সুস্থ হচ্ছে মোট আক্রান্তের ৫৭ শতাংশ। বৃহস্পতিবার গত ২৪ ঘণ্টার এক হিসেবে এ ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সবশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, করোনা ভাইরাসের ছোবলে ইতালিতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৩ হাজার ৪০৫ জন। আর এ সময়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৪৪০ জন রোগী। এতে দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ রোগী মারা গেছেন যারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। আর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরতে পেরেছেন ৫৭ শতাশং। একই সময়ে ২ হাজার ৪৯৮ জন রোগী মূমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন যা মোট আক্রান্তের ৮ শতাংশ। আর আক্রান্তদের মধ্যে ভাল অবস্থায় রয়েছে ৩০ হাজার ৬৯২ জন যা মোট আক্রান্তের ৯২ শতাংশ।

অপরদিকে দেখা যায়, চীনে প্রথম করোনা হানা দেয়। সেখানে গতকাল পর্যন্ত মোট আক্রান্ত রোগী সংখ্যা ৮০ হাজার ৯২৮ জন। এর মধ্যে ৭০ হাজার ৪২০ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। যা মোট আক্রান্তের ৯৬ শতাংশ। আর মারা গেছে ৩ হাজার ২৪৫ জন যা মোট সংখ্যার ৪ শতাংশ। একই সময়ে চীনে ৩১ শতাংশ আক্রান্ত রোগী মূমুর্ষ অবস্থায় আছে যার সংখ্যা ২ হাজার ২৭৪ জন। আর ৬৯ শতাংশ রোগীর (যা সংখ্যায় ৪ হাজার ৯৮৯ জন) অবস্থা বেশ ভাল বলে জানানো হয়েছে।

সার্বিকভাবে করোনাভাইরাসের ছোবলে বেশি বিধ্বস্ত হয়েছে ইতালি। চীনকে অনুসরন করে ইতালির সবকিছু রেড জোনের আওতায় বন্ধ রয়েছে গত ১০ দিন। কিন্তু এ সময়ে অবস্থার উন্নতির বিপরীতে আরও বেশি অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিবহন ব্যবস্থা ৮৫ ভাগ কমিয়ে আনা হয়েছে। বুধবার সুপার মার্কেট খোলার সময়সূচী আরও সীমিত করে ঘোষনা দেয়া হয়েছে। জনগনকে কেবল জরুরি প্রয়োজনে পাশ্ববর্তী সুপার মার্কেট থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়ের জন্য বলা হয়েছে। সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও করোনার হানা নিয়ন্ত্রনে আনতে পারছে না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •