সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁহ
চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণকে কেন্দ্র গ্রামবাসির সাথে বনকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এসময় বনকর্মীদের মারধরে নারী শিশুসহ কমবেশি ১০ জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১ টার সময় উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড নতুন মসজিদ এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন, বর্নিত গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার(৩০), লাল মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তার (২৯), আনোয়ার হোসেনের শিশু পুত্র রাকিব উদ্দীন (১১) ও লাল মিয়ার শিশু কন্যা জিনিয়া (১২)। তাদেরকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তাৎক্ষনিক অপরাপর আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এদিন সকালে বনকর্মীরা নতুন বিদ্যুৎ লাইনের মালামাল জদ্ধ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় নারী পুরুষ তা ছিনিয়ে নেয়।
এসময় কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আবু জাকারিয়ার নির্দেশে বনকর্মীরা এলোপাতাড়ি মারধর করে নারী- শিশুসহ ১০ জনকে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানায়, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নতুন মসজিদ গ্রামে দীয় ক যুগ পর বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ” এ প্রতিপাদ্যকে বাস্তবায়ন করতে পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ কাজ শুরু করেছেন বেশ কিছুদিন ধরে।
ইতিমধ্যে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধিন মেদাকচ্ছপিয়া বনবিট কর্মকর্তা ও রেঞ্জারকে মোটা অংকের প্রায় ৫৮ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজও করা হয়।
ফের বনবিভাগের লোকজন বিদ্যুৎ লাইন নির্মান কাজে চাঁদা দাবী করে। গ্রামবাসি টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে বনকর্মীরা বিদ্যুৎ লাইন কাজে বাঁধা দেয়।
একপর্যায়ে শুক্রবার সকালে বিদ্যুতের মালামাল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে গ্রামবাসির সাথে সংঘর্ষ হয়।
এসময় স্থানীয় ১০ নারী- শিশু আহত হয়েছে।
এলাকাবাসির দাবী বিদ্যুতের মালামাল বনকর্মীরা ছিনিয়ে নিতে চাইলে গ্রামবাসি বাঁধা দেয়। এসময় ফুলছড়ি রেঞ্জার সৈয়দ আবু জাকারিয়া এলাকাবাসীকে গুলির হুমকি দেয়।
তার নির্দেশে মেদাকচ্ছপিয়া বিট কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন, খুটাখালী বিট কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও ভিলেজার নামধারি মোহাম্মদ হোছন প্রাকাশ মাইক মাছন গ্রামবাসীকে মারধর করেন। এতে গ্রামবাসি ছাড়াও বেশ ক’জন বনকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে ।
তবে মারধরের বিষয়টি বনকর্মীরা অস্বীকার করেছেন।
ফুলছড়ি রেঞ্জের এসিএফ সোহেল রানা বলেন, বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণকে কেন্দ্র করে বনকর্মীরা বাধাঁ দিলে এতে বনকর্মীর ওপর হামলা করে এলাকাবাসী।
এসময় বেশ ক’জন বনকর্মী আহত হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। তাৎক্ষনিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বনকর্মীরা সরকারী মালামাল রক্ষায় কাজ করছেন বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণের পক্ষে গত ক’মাস ধরে এলাকাসাীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সেই বিদ্যুৎ নির্মাণে বাধা প্রদান করছে স্থানীয় বনবিভাগ।
পক্ষে-বিপক্ষে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে গ্রামবাসি ও বনবিভাগ।
বনবিভাগ মোটা অংকের টাকা নেয়ার পরও বাঁধা প্রদানের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
ওই বনবিভাগের পক্ষের নেতৃত্বে আছেন ভিলিজার নামধারি মোহাম্মদ হোছন প্রকাশ মাইক মাছন।
স্থানীয়দের অভিযোগ বনবিভাগের এ নামধারি ভিলিজার বনকর্মীদের ম্যানেজের নামে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •