মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

এসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা, সফল সমবায়ী, প্রশংশিত জনপ্রতিনিধি, দক্ষ সংগঠক ও আদর্শিক রাজনীতিবিদ এ.কে.এম ইকবাল বদরী’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী শনিবার ২১ মার্চ।
এ উপমহাদেশ শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি বদরখালী উপনিবেশিক সমবায় সমিতির একাধিকবার নির্বাচিত সফল সাধারণ সম্পাদক, বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান, মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কক্সবাজার জেলা বিএনপি নির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম ইকবাল বদরী গত বছরের এ দিনে ২১ মার্চ সকাল ১১ টার দিকে বদরখালীস্থ নিজ বাড়িতে গোসল করার সময় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। বদরখালী থেকে এ.কে.এম ইকবাল বদরী’কে তাৎক্ষনিক চকরিয়া জমজম হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এভাবে ৬১ বছর বয়সে তিনি সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।

চকরিয়া উপজেলার বদরখালীর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বদরখালী উপনিবেশিক সমবায় সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আলহাজ্ব কবির আহমদ ও নুরুন্নাহারের ৬ পুত্র এক কন্যা সন্তানের মধ্যে ১৯৫৮ সালে জন্মগ্রহণকারী এ.কে.এম ইকবাল বদরী ছিলেন সবার বড়। ভাই বোনদের মধ্যে অন্যান্যরা হলেন-মরহুম এ.কে.এম ইফতেখার উদ্দিন বকুল, কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সফল দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক সফল সভাপতি এ.এম এস্তেফিজুর রহমান, সৌদী প্রবাসী এ.এম ইমতিয়াজ উদ্দিন ও এ.এম ইসরাত হোসাইন। বোনেরা হলেন-আয়েশা খাতুন ও নামায়েশে জান্নাত মিলু। নিরহংকার, সদালাপী, স্বজ্জ্বন, অমায়িক ও নিরেট একজন ভদ্র লোক হিসাবে সবার কাছে সুপরিচিত এ.কে.এম ইকবাল বদরী ও শাহেদা বেগম দম্পতির একমাত্র পুত্র খোবায়েদ মুহাম্মদ শাইখ এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসাবে ঢাকাতে বর্তমানে কর্মরত আছেন। একমাত্র কন্যা ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ (সম্মান) শেষ বর্ষে অধ্যায়নরত।

পরদিন ২০১৯ সালের ২২ মার্চ শুক্রবার বিকেল ৩ টায় অনুষ্ঠিত হয় পরোপকারী, সদা হাস্যউজ্জ্বল এ.কে.এম ইকবাল বদরীর বিশাল নামাজে জানাজা। এই বিশাল নামাজে জানাজায় বদরখালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব ও বদরখালী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আবুল বশর ইমামতি করেন। বদরখালী কলোনিজেশন হাইস্কুলের বিশাল মাঠে অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় কোথাও তিল পরিমান জায়গা ছিলো না। শুধু মুসল্লী আর মুসল্লী। সেদিন জানাজায় অংশ নেয়া বদরখালী এলাকার অনেকেই বলেছিলেন-সমসাময়িককালে এ অঞ্চলে এটা ছিল মানুষের উপস্থিতির দিক থেকে স্মরণকালের বৃহত্তম নামাজে জানাজা। জানাজার আগে বিশিষ্ঠজনেরা তাঁদের বক্তব্যে মরহুমকে একজন নির্লোভ ও ত্যাগী সমাজকর্মী হিসাবে মূল্যায়ন পূর্বক তাঁর অবদান সবার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে উল্লেখ করে বলেছিলেন-এ.কে.এম ইকবাল বদরী’র আকস্মিক চলে যাওয়া আমাদের সকলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। যে শূন্যতা সহজে পূরণ হবার নয়। বিশাল নামাজে জানাজা শেষে বদরখালী কুতুবনগর পারিবারিক কবরস্থানে পিতার কবরের পাশেই সবার অশ্রুজলে এ.কে.এম ইকবাল বদরী’কে সেদিন চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছিলো।

সংগঠক ও জনবান্ধব এ.কে.এম ইকবাল বদরী’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী পালন উপলক্ষে পারিবারিক ভাবে শুক্রবার ও শনিবার, ২০ ও ২১ মার্চ ২ দিন ব্যাপী কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে বলে সিবিএন-কে জানিয়েছেন মরহুমের ছোট ভাই, কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সফল দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে, বদরখালী স্থানীয় জামে মসজিদে শুক্রবার ফজরের নামাজের পর ও জুমার নামাজের পর বিশেষ দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত, কবর জেয়ারত, একইদিন দুপুরে খতমে কোরআন ও খাবার বিতরণ। শনিবারও একই কর্মসূচী সহ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় খাবার বিতরণ। গণমানুষের হৃদয়ের মনিকোটায় স্থান করে নেয়া উপকূলীয় এলকায় ক্ষণজম্মা মরহুম এ.কে.এম ইকবাল বদরী’র প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাতের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন মরহুমের ছোট ভাই, কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সফল দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •