‘নেতা’

প্রকাশ: ২০ মার্চ, ২০২০ ০৪:৫৮

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


অধ্যাপক রায়হানউদ্দিন

যদি নেতা হতে চাও কোন দিন কাওকেউ মানবেনা। একমাত্র মানবে নিজের বিবেককে নিজের বিচার বুদ্ধিকে।নিজের ভিতরকার মনুষ্যত্বকে। এটাকে যদি তুমি মান। তাহলে নেতা হওয়া যায়।আজকাল সারা পৃথিবীতে নেতা শব্দটিকে খুবই সহজে ব্যবহার করে।নেতা কিন্তু কোন একটি বিশেষ মানুষ না।নেতা হচ্ছে অনেকগুলো মানুষের যোগফল।যে মানুষের মধ্যে অনেক মানুষ আসে।সে হচ্ছে নেতা । আমরা ব্যবসায় কথায় কথায় নেতা বলি , বিভিন্ন্; ক্ষেত্রে নেতা বলি।নেতা জিনিষটা ঐভাবে আমার মনে হয় হয়না।নেতা কোন সাফল্যের নাম নয়।অনেকে মনে করে সাফল্য খুব বড়জিনিষ।আমি সাফল্যকে খুব বড় মনে করিনা। সাফল্যতো একটা বৈষয়িক ব্যাপার।একটা বস্তুগত বিষয় । সাফল্য একটা দক্ষতা । অনেক সময় চোর বাটপারওতো সফল হয়। আমি যেটাকে বড় মনে করি সেটা সাফল্য নয় , সেটা সার্থকতা (ফুলফিলমেন্ট)। আমি যা নিয়ে জন্মেছিলাম তাকে পরিপুর্ণভাবে , সুপ্রচুর ভাবে সম্পন্ন করা,সমাপ্ত করা।“সার্থক জনম মাগো জন্মেছি এই দেশে”।সার্থক শব্দটা আমাদের স্বপ্ন হওয়া উচিত।সাফল্য নয়। সাফল্য খুব নি¤œ শ্রেনীর বিষয়।যেটা বলছিলাম। লিডারশীপ যার সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ,“ আমি মানিনা”এই কথাটি মনে হয়। ্ আমরা জানি আজকের এই বিরাট চিন, এই চিনকে যিনি বিরাট শক্তিতে পরিণত করেছিলেন তিনি হচ্ছেন মাও সে তুং।মাও সে তুং এর যে কংগ্রেস ছিল। এই কংগ্রেস এ্ধসঢ়; তিনি যে প্রস্তাব তুলতেন,তোলার পর জিজ্ঞেস করতেন“আপনারা কি এতে সবাই রাজি?না কারো কোনো এই বিষয়ে দ্বিমত আছে”। সবাই বলতো রাজি, শুধু একজন ছোট্ট বেটে এতটুকু মানুষ ছোট্ট একট্ধাসঢ়; হাত উচু করে বলতেন আমি মানিনা। মাওসেতুং বলতেন দেং এখনো তুমি আমার বিরোদ্ধে।সেই দেং ই কিন্তু মাওসেতুং এর পরবর্তি চিনকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই মানুষই নেতৃত্ব দিতে পারে যে বিরোদ্ধে দাড়াতে পারে।হযরত মোহাম্মদ (স) যখন আরবে এলেন তখন সেইখানে ইশ্বর কত জন ছিল।কতগুলো পুতুল ছিল। ৩৬০।হযরত মোহাম্মদ (স) কাউকে মেনেছিলেন? একজনকেও না।ইনি হচ্ছে নেতা , যিনি যেটা অযৌক্তিক,যেটা অগ্রহনযোগ্য,যেটা অসন্তোষজনক,যেটা ভুল , যেটা মিথ্যা, সেটাকে প্রতিবাদ করতে পারেন।গৌতমবুদ্ধ যখন আসেন তখন জাতিভেদপ্রথা হিন্দুদের মধ্যে ভয়ংকর রুপ ধারন করেছিলে।।তিনি সেই জাতিভেদের বিরোদ্ধে দাড়িয়েছিলেন।গ্যালিলিউ, কোপারনিকাস কারো কথা শুনেছিলেন? সে যুগের ক্রিশ্চিয়ান চার্চকে মেনেছিলেন? মানেন নাই। রবীন্দ্রনাথকি মাইকেলের মতো কবিতা লিখেছিলেন? নজরুলকি রবীন্দ্রনাথের মতো কবিতা লিখেছিলেন? জীবনানন্দ দাশকি নজরুলের মতো কবিতা লিখেছিলেন?নেতা কোনদিন আরেকজনের মতো নয়।নেতা সেই ব্যক্তি যে একা এবং আলাদা।আলাদা হতে চেস্টা করলেই নেতৃত্ব আসবে। আরব্য উপন্যাসে একটা গল্প আছে। গল্পটা হলো এক জেলে সমুদ্রে জাল দিয়ে মাছ ধরতো।জালে স্বভাবত মাছেই উঠে। কিন্তু একদিন তার জালে উঠলো ্ এক কলসি।ভারী কলসীর মুখটা ঢাকা।া সে মুখটা খুললো। খোলার সঙ্গে সঙ্গে কলসীর ভেতরথেকে একজন বের হলো দৈত্য । তার পা মাটিতে মাথা আকাশপর্যন্ত।সে বললো স্বর্গ মর্ত পাতালে আমার মতো শক্তিশালী কেউ নাই।আমি পারিনা এমন কিছু নাই।এখন কথা হচ্ছে যে তোমার মতো শক্তিশালী কেউ নাই, তাহলে তুমি কেন এই ছোট্ট কলসীতে হাজার বছর ধরে কেন ছিলে? কেন করলে? সে বলবে হযরত সোলেমান একটা যাদু দিয়ে আমার সেই কলসীর মুখটা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।আমাদের মধ্যেও প্রত্যেকটা মানুষের ঐ রকম শক্তিশালী, অন্তহীন ক্ষমতাসম্পন্ন,অমিত ক্ষমতা সম্পন্ন একটা দৈত্য আমাদের মধ্যে আছে।কিন্তু সে কোথায় আছে? সেকি বাইরে আছে?কিসের মধ্যে আছে?কলসীর মধ্যে ঢুকে আছে। আমাদের এই ব্রেইন এর মধ্যে সেই দৈত্যটা আছে।বন্ধ হয়ে আছে।অন্ধকারের মধ্যে আছে। আমাদের ভয়,আমাদের দ্বিধা,আমাদের লোভ, আমাদের সঙ্কোচ, আমাদের বু্িধসঢ়;দ্ধ ,বিচার,বিবেচনা, হবেতো, পাবোতো,আমার শেষ পর্যন্ত কি হবেতো, এই সব দিয়ে আমাদের মাথাটা আটকানো। কোন কারণে সাাধারন মানুষের ঐ ঢাকনাটা যদি খুলে যায়,তাহলে তার ভেতর থেকে শক্তিমান সেই দানব বেরিয়ে ্ধসঢ়;আসতে পারে।এখন দুটো কারনে এটা হতে পারে ।যে কোন দু:খ, যেমন মির্জাপুরে আর পি সাহা যেখানে মির্জাপুর মেডিকেল কলেজ ওখানে ভারতেশ্বরী হোমস,ওখানে হাসপাতাল তারপরে আরো কতো স্কুল কলেজ কতকিছু উনি করেছেন।উনি যা সম্পদ রোজগার করেছিলেন ওটা দিয়ে দিয়েছিলেন।এই জন্য তো তাকে মানুষ মনে রাখে।পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত কতো বড়ো লোক এসেছে,কোটি কোটি বড় লোক এসেছে কাউকে আমরা মনেরেখেছি?কাউকে মনে রাখিনি। হ্যাঁ দুয়েকজনকে মনে রেখেছি। খুবই সাধারনএকজন মানুষ।তার নাম হলো হাজী মোহাম্মদ মহসীন । তার কতো টাকা জমা ছিল জান। মাত্র দেড় লাখ টাকা।দেড়লাখ এখন হয়তো দেড়শো কোটি টাকা। এই দেড়লাখ টাকাই উনি দিয়ে দিয়েছিলেন সেই জন্য তাকে মানুষ মনে রাখে। হাতেম তাইকে মনে রাখে নাই?ওই নামটা তো মনে আছে মানুষের। রকেফেলার কে মনে রাখেনাই মানুষ? ফোর্ডকে মনে রাখেনাই?এরাও তো বড় লোক । কেন মনে রেখেছে? তারা টাকা সারা পৃথিবীথেকে রোজগার করে নিজের পকেট ভর্ত্তি করেছে সেইজন্য?মানুষ অত বোকা না যে সবার পকেট থেকে নিয়ে তিল তিল করে নিজের পকেট ভরলো আর তাকে দেবতা বলে শ্রদ্ধা করবে আর সম্মান করবে মানুষ এত বোকা না।মানুষ তাকেই মনে রাখে যার কাছ থেকে সে কিছু পেয়েছে, মানুষ বড় কৃতজ্ঞ।মানুষকে যদি কেউ কিছু দিতে পারে সেটা মানুষ শত কন্ঠে যুগের পর যুগ শতাদ্বীর পর শতাদ্বী ধরে তার গান গায়।মানুষ এরকম। যাই কর যত সাকসেসই তুমি কর সেই দিনই তুমি নেতা হবে যেদিন তুমি দেবে।যতদিন তুমি নেবে ততদিন তুমি লোভী। একট্ াআত্মসর্বস্ব মানুষ।তুমি একা ।তুমি পরিত্যক্ত। তুমি আক্রান্ত।তোমার কেউ নেই। নেতৃত্ব কোন স্বাভাবিক মানুষের নাম নয়। নেতৃত্ব মানে পাগলামি।নিজের মধ্যে যদি একটা আদীমশক্তি না থাকে।তাহলে নেতা হওয়া সম্ভব না।আদীম মানুষ মানে ঐ যে হিসাব ঐ যে পাবকি পাবনা,ঐ হিসাবের বাইরে যে মানুষটি চলে যেতে পারে সেই নেতা। ক্রিকেট খেলার সময় যে ব্যাট হাতে দাড়ায় তার চার পাশেকতজন লোক দাড়িয়ে থাকে। ১১ জন। কোন কোন জায়গায় দাড়ায়? তারা টের পায়যে এই ব্যাটসম্যান এই রকম , সে এই এই দিকে মারতে পারে। ১১ টা দিক ঘিরে তারা দাড়িয়ে থাকে।যাতে সে যেদিকেই মারুক তাকে ধরে ফেলতে পারে।এর মধ্যেথেকে রানটা কে করতে পারে।যে ঐ এগার দিকে মারে ? নাকি ১২ নম্বর দিকে।নাহলে ১৩।অনেক বড় বড় খেলোয়াড় যারা ২৫রকম ২৫ দিকে মারতে পারে।আমি সোভার্স এর খেলা দেখেছিলাম।রীচি ভ্যানও তখন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপটেন। উনি বলতেন যে যদি সবচেয়ে খারাপ বল হয় ছয়টা এক ওভারে তাহলে সোভার্স ছয়টাই বাউন্ডারী পেটাবে।আর যদি পৃথিবীর ছয়টা সেরা বল হয় এক ওভারে তাহলেও সে ছয়টা বাউন্ডারী পেটাবে। এই পাগলও দশের বাহিরে,প্রতিভাও দশের বাহিরে।কারন প্রতিভারাও তো পাগল।লীডার মানেই তো পাগল।বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ই মার্চের ভাষন চিন্তা কর।মনে হয় যে একটা সিংহ, শার্দুল বঙ্গ শার্দুল। শেরে বাংলাও এরকম ছিলেন।পাগল দশের বাহিরেই থাকিয়া যায়।আর প্রতিভা মহৎ পাগল দশের অধিকারকে একাদশের কোটায় উন্নিত করে।দশকে সে এগার বানিয়ে দেয়।এই যে বার্ডেম হাসপাতাল । তার প্রতিষ্টাতা কে ড: ইব্রাহিম।উনি তখন ফরিদপুরে একটা হাসপাতালে চাকরী করতেন। তার সামনে একটা ৯ বছরের ছোট্ট বাচ্চা ডায়াবেটিসে মারা গেল।উনার চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে পানি পড়লো ।উনি কিছুই করতে পারলেননা ।কিছুই দিতে পারলেননা ছেলেটিকে।সেই দিন থেকে উনি প্রতিজ্ঞা করলেন মানুষের সেবায় জীবন বিসর্জন দিতে হবে। সেই দিন তিনি নেতা হলেন । এর আগে তিনি ডাক্তার ছিলেন।বেদনা থেকে উনি নেতা হলেন।হযরত মোহাম্মদ (স) তাঁর সময় আরবে অরাজকতা দেখে ব্যথিত হয়েছিলেন।গৌতম বুদ্ধ ব্যথিত হয়েছিলেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন মানুষকে জরা, দু:খ, ব্যধি থেকে বাচাবার জন্য।কোন বেদনা থেকে মানুষ যখন জাগে সে তখন নেতা হয়। আর নিজের স্বার্থে যখন জাগে তখন সে অর্ডিনারী মানুষ হয়।হাজার হাজার কোটি কোটি মানুষের একজন হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •