আলমগীর মানিক,রাঙামাটি :
নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রামন থেকে রক্ষায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সকল পর্যটন স্পটগুলোকে বন্ধ ঘোষনা করেছে জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি রাঙামাটিতে ঘটেনি। তারপরও জেলার নাগরিকদের সুরক্ষায় অত্রাঞ্চলে বাহির থেকে আসা দর্শনার্থী, পর্যটক ও বিদেশীদের আপাতত রাঙামাটিতে প্রবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। পরবর্তী নির্দেশনা প্রদানের আগ পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে বলেও রাত পৌনে নয়টার সময় প্রতিবেদককে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। জেলা প্রশাসক জানান, বুধবার রাত্রেই শহরের সকল আবাসিক হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যাতে করে নতুন কাউকে তারা রিসিভ না করে এবং রুম ভাড়া না দেওয়া হয়।
এদিকে, বুধবার বিকেল পাঁচ টার সময় নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে করোনা ভাইরাস সংক্রামন মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে জরুরী মিটিংয়ের আয়োজন করেন জেলা প্রশাসক। বৈঠকে রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডাঃ বিপাশ খীসা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ছুফি উল্লাহসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্বর্তন কর্মকর্তাগণ, উপজেলা চেয়ারম্যান, বিভিন্ন সরকারী অফিসের প্রতিনিধিবৃন্দ, ব্যবসায়ি ও সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত উক্ত বৈঠকে জানানো হয়, করোনা ভাইরাসের অন্যতম উৎস হলো প্রবাসীরা। তাদেরতে সঠিকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে পারলে এই অঞ্চলে উক্ত রোগে আক্রান্তের হার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। বৈঠকে জেলা প্রশাসক জানান, রাঙামাটির প্রায় নয় হাজার লোক বিদেশে প্রবাসী হিসেবে রয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। তারমধ্যে সম্প্রতি ২৪৩জন রাঙামাটিকে এসেছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তাদের অনেকের নাম-পরিচয় ইতিমধ্যেই যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোন ধরনের গুজব ছড়ানোসহ এই ক্রান্তিলগ্নে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার থেকে রাঙামাটির সর্বত্র মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করবে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। অপরদিকে বৈঠকে রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডাঃ বিপাশ খীসা জানিয়েছেন এখনো পর্যন্ত রাঙামাটিতে বিদেশ থেকে আগত ছয়জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করছে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকরা। এছাড়াও করোনা ভাইরাস সংক্রামিত ব্যক্তির চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে রাঙামাটি জেলা শহরে একশো এবং কাপ্তাইয়ে অতিরিক্ত আরো ৫০টি বিশেষ শয্যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সিভিল সার্জন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •