মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ
দেশের দক্ষিণঞ্চর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমূদ্র উপকূলীয় এলাকার লবণ শিল্প ধ্বংসের পথে। পর্যাপ্ত পরিমান লবণ মওজুদ থাকার পর ও বিদেশ থেকে লবণ আমদানির প্রেক্ষিতে দেশীয় লবণ আজ পানির ধরে বিক্রিত হচ্ছে। যার কারণে প্রান্তিক চাষীরা উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশার মধ্যে ভোগছে। লবণ মিল মালিক সিন্ডিকেট এর কারসাজিতে লবণ শিল্পের মৌসুেম দরপতন এবং ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে চলে গেছে বলে প্রান্তিক লবণ চাষীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে।
জেলায় ৬৬ টি লবণ মিল মালিকের কাছে প্রান্তি লবণ চাষীরা সম্পূর্ণরূপে জিম্মি। অসাধু কর্মকর্তা ও মিল মালিক সিন্ডিকেট এর নিয়ন্ত্রনে প্রান্তিক চাষী ও ব্যবসায়ীরা মূলধন হারাতে বসেছে। গত বছর প্রতিমন লবণের মূল্য ছিল ৩ শত টাকার উপরে এবং বর্তমানে ১৫০ টাকা। প্রান্তিক চাষীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে লবণ উৎপাদন করছে এবং পাচ্ছেনা ন্যায্য মূল্য।
প্যাকেট জাত প্রতি কেজি লবন বাজারে বিক্রি হচ্ছে, ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। অথচঃ খরচ বাবদ বাজারে লবণ কেজি বিক্রি হচ্ছে, ৪ থেকে ৫ টাকা। চাষীরা চলতি লবণ মৌসুমে লবণ উৎপাদনে মাঠে নামে উৎসাহের সাথে কিন্তু লবনের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে চাষীরা উৎপাদনে উৎসাহ হারাতে বসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লবণের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং দরপতনের কারণে গোদামে পর্যাপ্ত পরিমান লবণ মওজুদ রয়েছে। এখন লবণ উৎপাদনে ভরা মৌসুম। এমতাবস্থায় এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে লবণ শিল্প ধ্বসের পথে চলে যাবে। মূলতঃ এর জন্য দায়ী কারা, তা খাতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নচেৎ লবণ শিল্প মাঠেই মরে যাবে। এতে অসংখ্য লবণ চাষী বেকারত্ব জীবনে ভোগবে।
চট্টগ্রামের বাশঁখালী এবং কক্সবাজার জেলারা কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া ও টেকনাফ উপজেলার সমূদ্র ও নাফনদীর উপকূলায় এলাকায় লবণ উৎপাদিত হয়ে আসছে। দেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, শামলাপুর, টেকনাফ পৌরসভা, টেকনাফ সদর, সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ, পৌরসভাসহ ৫ ইউনিয়নে সাগর ও নাফনদীর উপকূলীয় এলাকার ৩৫০০ একর জমিতে সম্পূর্ণ পলিথিন পদ্ধতি এবং আধুনিক উপায়ে লবণ উৎপাদিত হচ্ছে এবং ১৩৫০ জন চাষী। সনাতন পদ্ধতি নাই বললেই চলে। অন্যান্য উপজেলায় প্রতি খানিতে ৩ শত মন লবণ উৎপাদিত হয় এবং টেকনাফের প্রতি খানিতে লবণের পানি ঘনত্বের কারণে ৪ শত মন লবণ উৎপাদিত হয়। যার কারণে প্রান্তিক ও বর্গা লবণ চাষীরা লবণের মাঠে লবণ চাষ করতে বেশী আগ্রহী। লবণের ধরপতন এবং লবণ শিল্প ধ্বংস এবং লবণ মিল মালিক সিন্ডিকেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কারসাজি সংক্রান্ত বিষয়ে ১৬ মার্চ দুপুর ৩ টায় টেকনাফ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে লবণ চাষী ও ব্যবসায়ীদের উদ্দোগে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা পরিষদ সদস্য এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রান্তিক চাষী এবং স্থানীয় আঃলীগ নেতা নুরুল আমিন, সাংবাদিক জাবেদ ইকবাল চৌধুরী ও নজির আহমদ। পরে মোঃ শফিক মিয়াকে আহব্বায়ক, যুগ্ম সংপাদক নুরুল আমিন ও সাংবাদিক জাবেদ ইকবাল চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্য বিশিষ্ঠি লবণ চাষী কল্যান সমিতি গঠিত হয়।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) টেকনাফ লবণ কেন্দ্র ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লবণের বামপার ফলন হওয়ার আশংখা রয়েছে। লবণ উৎপাদনের শুরুতে লবণ দরপতন হওয়ায় প্রান্তিক চাষীদের মুখে হাাসি নেই।
কক্সবাজার বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, দেশে মোট ১৮ লাখ ৫০ হাজার মেঃ টন লবণ লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। দেশে সর্বমোট মিল মালিকের সংখ্যা ২ শত এবং তার মধ্যে কক্সবাজারে ৬৬ জন। চাষীরা লবণের ন্যায্য মূল্য পেতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •