ইব্রাহিম খলিল মামুন
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বহুল আলোচিত ভূমি অধিগ্রহন শাখার অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে দুদকের চার সদস্যের একটি দল সরেজমিনে কক্সবাজার এসে মামলার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তের শুরুতেই তারা ভূমি অধিগ্রহন শাখাকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতির চাঞ্চ্যলকর তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ (কক্সবাজার) এর সহকারি পরিচালক মো: রিয়াজ উদ্দিন ও উপ-সহকারি পরিচালক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে তদন্ত দলটি সকালে কক্সবাজারে আসেন। বিকেল ৩ টার দিকে তারা কক্সবাজার সদর থানায় যান। সেখান থেকে তারা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে সম্প্রতি র‌্যাবের অভিযানে ৩ সার্ভেয়ারের বাসা থেকে জব্দ করা ৭ বস্তার বেশি সরকারি নথি, হাতে লেখা হিসাব বিবরণী, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক ও নগদ ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকা সংগ্রহ করেন।

সহকারি পরিচালক মো: রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘তদন্তের শুরুতেই বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ভূমি অধিগ্রহন শাখা কেন্দ্রিক সংঘদ্ধ চক্রের সাথে আরও কারা জড়িত আছে তা খুঁজে বের করতে কাজ করছে দুদক।

আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এইসব তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। তদন্তে যাদেরই নাম আসবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। র‌্যাবের হাতে আটক সার্ভেয়ার ওয়াসিমকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুব শিগগিরই আমরা আদালতের কাছে আবেদন জানাবো।’

প্রসঙ্গত, ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে গত ১০ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তিন সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলার ভূমি অধিগ্রহনে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের কাছ থেকে ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকা ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্ভেয়ার যথাক্রমে পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার ধান্দি গ্রামের মো. দলিল উদ্দিন খানের পুত্র মো. ওয়াসিম খান (৩৭), কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার বানি গ্রামের খান বাড়ির ময়নাল খানের পুত্র মো. ফেরদৌস খাঁন (৩৬) এবং পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার গৌসিংগা গ্রামের আবু বকর সরদারের পুত্র মো. ফরিদ উদ্দিন (৩৬)। তাদের মধ্যে ওয়াসিম খান র‌্যাবের হাতে ঘুষের টাকাসহ আটক হন।অপর দু’জন এখনও পলাতক রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কিংবা তাদের ভাড়া বাসায়ও যাননি।

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘পরস্পর যোগসাজশে দুস্কর্মের সহায়তা করে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে ঘুষ লেনদেন করে আসছেন। এতে প্রমানিত হয় যে তাদের একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র রয়েছে।’

এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা একে অপরের সহযোগীতায় প্রতারণার মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহনে ক্ষতিগ্রস্থ ভূমি মালিকদের কাছ থেকে ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকা ঘুর্ষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রেখে দন্ডবিধির ১৬১/১৬২/৪২০/১০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।’

প্রসঙ্গত, গত ১৯ ফেব্রুয়ারী কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকায় জনৈক জনৈক আব্দুল হালিম প্রকাশ লালুর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে ‘ঘুষের টাকাসহ’ সার্ভেয়ার ওয়াসিমকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এসময় সার্ভেয়ার ফরিদ উদ্দিন ও সার্ভেয়ার ফেরদৌস খানসহ আরও কয়েকজন সুকোশলে পালিয়ে যায়। এসময় ওয়াসিমের স্বীকারোক্তি অনুসারে ওই বাসা থেকে নগদ ৬৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে শহরের তারাবনিয়ার ছড়া এলাকায় সার্ভেয়ার ফেরদৌসের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। দুই বাসা থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক ও প্রায় সাত বস্তা সরকারি নথি উদ্ধার করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •