বকেয়া ভাড়ার দাবীতে শহরতলীর বাসটার্মিনালে শক্তি মোটর্সের শো-রুমে মালিকপক্ষের তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ভাড়াটিয়া উজ্জ্বল সেন যে বক্তব্য দিয়েছেন তা হাস্যকর মন্তব্য করে উড়িয়ে দিয়েছেন আবদুল করিম সিকদার। তিনি বলেন, বকেয়া ভাড়া আদায়ের জন্য গত ১৩ মার্চ উজ্জ্বল সেনের বিরুদ্ধে আমি থানায় অভিযোগ করি এবং পরদিন প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিই। কিন্তু তালা দেয়ার পরদিন উজ্জ্বল তার শো-রুমে ৮০ লাখ টাকার লুটপাট চালিয়েছে মর্মে হাস্যকর অভিযোগ তুলে। অথচ বন্ধ শো-রুমের উপর আমরা কেবল আরেকটি তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি। কিন্তু লুটপাটের অভিযোগ তোলার উদ্দেশ্য হল- উজ্জ্বল সেন তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে নিজেই নিজের শো-রুম লুটপাটের সাজানো ঘটনা ঘটাতে চায়। আর এ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে আমরা এখন মার্কেটে দিনরাত পাহারার ব্যবস্থা করেছি। তবে উজ্জ্বল সেন আমার পাওনা টাকা আত্মসাতের জন্য সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করেই সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও ঘৃণিত চালটি চেলেছেন। অথচ এটা লেনদেনের বিষয়, সাম্প্রদায়িক কোন ইস্যু নয়। সুতরাং সাম্প্রদায়িকতাকে ঢাল হিসাবে ব্যবহারের চেষ্টা একটি অসদ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তার এমন অপচেষ্টা রুখে দেয়ার জন্য আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইদের কাছেও অনুরোধ জানাচ্ছি। যাতে এসব কুচক্রী আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে।
প্রায় ২ বছর আগে আমি জমিটি এশিয়া গ্রুপকে বিক্রি করেছি, এটা ঠিক। কিন্তু উজ্জ্বল সেন দখল না ছাড়ায় এবং নতুন মালিকপক্ষের সাথে চুক্তিবদ্ধ না হওয়ায় বিক্রিত জমি আমি বুঝিয়ে দিতে পারছি না। উজ্জ্বল নানা উপায়ে এটা বাধাগ্রস্ত করছে।
উজ্জ্বল সেনের পারিবারিক অবস্থা, হঠাৎ পয়সাওয়ালা হওয়ার কাহিনী কক্সবাজারবাসী জানে। অথচ সে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান আর আমাকে রাজাকার বলে দাবী করছে। কিন্তু আমিতো রাজাকার ছিলাম না। আমার বাসাতেই মুক্তিযুদ্ধকালে আশ্রয় পেয়েছিলেন মাস্টার সৃষ্টিব্রত পালসহ বহু সম্ভান্ত হিন্দু। অথচ আমার সাথে লেনদেনের বিষয় নিয়ে উজ্জ্বল সেনের এ কেমন চেতনা প্রদর্শন? চেতনা কি অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করতে বলে? উজ্জ্বল সেন আমাকে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামী বলেও আখ্যায়িত করেছেন। তবে আমি কখন, কোন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছি, সেকথা তিনি উল্লেখ করেননি। তার এসব মানহানীকর বক্তব্য ৩ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করলে আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হব।

আবদুল করিম সিকদার,
পিতা মরহুম মোহাম্মদ জাকারিয়া সিকদার,
সিকদারপাড়া জমিদারবাড়ী, বিডিআর ক্যাম্প, কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •