জাগো নিউজ:
ভোট আর ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ‘বাংলাদেশ’ নামের বিস্ময়ের সৃষ্টি। সমতা আর অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

অর্ধশত বছর আগে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার এক অভিশপ্ত তকমা দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। ভিক্ষা আর ভিখারির পরিচয় দিয়েই বিশ্ব মোড়লরা বাংলাদেশের রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলিয়ে আসছিল স্বাধীনতার পর থেকে।

ভিখারির অভিশাপ থেকে মুক্ত বাংলাদেশ। উন্নয়নের মর্যাদায় নতুন এক বাংলাদেশের পরিচয় মিলছে। অনুন্নয়নের মাপকাঠিতে বাংলাদেশের আর মূল্যায়ন হবে না। এগিয়ে যাওয়ার হাজারও গল্প শুনিয়ে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশের আসনে আসীন।

এরপরও নানা অসঙ্গতি। নানা প্রশ্ন। কেমন ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ? বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে কী ঘটত? বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলাদেশ এখন কেমন-ই বা আছ? এমন প্রশ্ন জনমনে। উত্তর জানতে যোগাযোগ করা হয় বিশিষ্টজনের কাছে।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহচর ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, “আজকের যে বাংলাদেশ, তা ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ নয়। বঙ্গবন্ধু সমতার জন্য সারাজীবন লড়াই করেছেন। অথচ সমাজে বৈষম্য এখনও চরমে।

রাজনীতির এমন চরিত্র দেখে বড় কষ্ট পাই। রাজনীতি আজ ক্যান্সারে আক্রান্ত। পাকিস্তান আমলে যেমন ঐক্যের পরিবর্তে বিভেদ তৈরির চেষ্টা চলেছে, এখনও তেমন বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। গণতন্ত্র, ভোটের অধিকারও কেড়ে নেয়া হলো ‘

বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার এ সদস্য আরও বলেন, ‘আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। মিথ্যা দিয়ে টিকে থাকা যায় না। মিথ্যা মামলা ছিল আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। ওই মামলা দিয়েই পাকিস্তান সরকার বড় ধাক্কা খেল। ওই মামলার পরই বঙ্গবন্ধুর বার্তা সবার কাছে পৌঁছে গেল। অথচ এখনও বিরোধীপক্ষের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা। রাজনৈতিক হিংসার কারণে হত্যা হচ্ছে, গুম হচ্ছে। এটি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ নয়। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে এ সত্য অনুধাবন করতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর লড়াই ছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূর করা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ সে চেতনা থেকে এখন অনেক দূরে।’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বাংলাদেশে অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটছে। এ দেশের মানুষ এখন উন্নয়ন বুঝতে পারে। বুঝতে পারছে বিশ্বও। কিন্তু আমরা কি বৈষম্য কমিয়ে আনতে পেরেছি? উন্নয়নের সুফল আমরা সমতার ভিত্তিতে বণ্টন করতে পারছি না। দুর্নীতি, অপশাসন সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করছে।’

শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আপস করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে শক্তি দেয়া হচ্ছে। এটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চিত্র নয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বৈষম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রশ্নে হতাশা প্রকাশ করতেই হয়।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ কেন গড়া সম্ভব হয়নি, তা সবারই জানা। একটি সদ্য স্বাধীন দেশকে অর্থনৈতিকভাবে মুক্তি দিতে বঙ্গবন্ধু যখন নিরলসভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাকে হত্যা করা হয়। এর পরের ইতিহাস সবারই জানা। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বিপরীতে দেশ পরিচালনা করেছে।

তিনি বলেন, ‘নানা অসঙ্গতি থাকলেও সাধারণ মানুষ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ওপর সাধারণ মানুষ আস্থা রাখছেন। সরকার যে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা সৃষ্টি করেছে, তাতে আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব বলে আশা রাখি। এর মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠা পাবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •