ইমাম খাইর, সিবিএন

চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাজারপাড়ায় (বৈরাগিরখিল) প্রবাহমান খালের পাড়ে নির্মিতব্য অবৈধ স্থাপনার কিছু অংশ উচ্ছেদ করা হয়েছে।
দখলদারদের নিজ দায়িত্বে পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলতে দুই দিন সময় দেয়া হয়েছে।
প্রশাসনের বেঁধে দিয়ে সময়সীমার মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ না করলে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।  নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-মোহাম্মদ তানভীর হোসেন অভিযানে গিয়ে এই নির্দেশ প্রদান করেছেন।
এসিল্যান্ড মোহাম্মদ তানভীর হোসেন বলেন, নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনার সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পুরো ভবনটি অপসারণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধে দুই দিনের সময় দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বেঁধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ না করলে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।
প্রবাহমান খালের পাড়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সংবাদ প্রকাশ করে কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন)।
পরিদর্শন টিমে ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, বাংলাভিশনের স্টাফ রিপোর্টার মোর্শেদুর রহমান খোকন ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ইয়েস কক্সবাজার’ সভাপতি ইব্রাহিম খলিল মামুন।
পরিদর্শন শেষে বিকালে তারা জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাত করেন।

অবৈধ স্থাপনা পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার নেতৃত্বে একটি টিম।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসাইন তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মুঠোফোনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদপূর্বক ছবি পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
নদী, খালবিল ইত্যাদি সরকারী জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে এসিল্যান্ডসহ তাৎক্ষণিক একটি টিম পাঠিয়ে সরেজমিন রিপোর্ট নিয়েছি। এ সময় নির্মিতব্য কিছু স্থাপনা উচ্ছেদও করা হয়েছে। অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো দুই দিনের মধ্যে অপসারণ করা হবে।
বাপার জেলা সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী ও ‘ইয়েস’ এর সভাপতি ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘আমরা ডুলাহাজারায় মোঘল ঐতিহ্যের বগাছড়া খালটির জবর দখলের অবস্থা দেখে খুবই ব্যথিত হয়েছি। কীভাবে একটি ‘জীবন্ত স্বত্ত্বা’কে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসককে তুলে ধরেছি। ক্ষণিক তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলার মোঘল ঐতিহ্যবাহী ডুলাহাজারার বগাছড়ি খালটিই ইউনিয়নের প্রধান প্রাকৃতিক প্রস্রবন। খালটি পার্বত্য এলাকা থেকে উৎপন্ন হয়ে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগর চ্যানেলের সাথে মিশেছে।
এক সময়কার স্রোতস্বিনী ও চওড়া খালটি এখন দখল ও দূষণের কবলে ধুঁকছে অস্তিত্ব সংকটে। সরকারি রেকর্ডে এ খালের প্রশস্থতা ১০৩ ফুট কিন্তু দখলের ফলে সংকীর্ণ হতে হতে এর প্রশস্থতা কোনো কোনো অংশে এখন অর্ধেকেরও নিচে এসে ঠেকেছে।
সম্প্রতি বাজারের পশ্চিম অংশে নতুন করে খালের জমি দখল করে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে মাছের আড়তের নামে বহুতল মার্কেট ভবন। প্রায় ১৭০ ফুট, ৫০ ফুট আয়তনের এ মার্কেটটি নির্মাণে ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাইছারুল হক চৌধুরী, তার ভাই নাসেরুল হক চৌধুরী ও বাজার কমিটির সভাপতি মফিজউদ্দিন নেতৃত্ব দেন।
ইতোমধ্যে ওই মার্কেটে দোকান বরাদ্দ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ১১০ জন মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে অগ্রিম নিয়েছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে অভিযুক্তরা নির্মানাধীন ভবনের জমিটি ব্যক্তি মালিকানাধীন বলে দাবি করে আসছিলেন তারা।
সরকারী দলের প্রভাব খাটিয়ে দখলবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যরা দোকানপাট নির্মাণ করলেও এলাকার ক্ষমতাহীন, অসহায় মানুষগুলো পারছে না প্রতিবাদ করতে, পারছে না দখলবাজি সইতে। অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছে শক্তিমানদের কাছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •