কামাল হোসেন,রামু থেকেঃ
নারী দিবসে রামুতে ধর্ষণের শিকার হওয়া চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া স্কুল ছাত্রীর সেই ধর্ষককে এখনো গ্রপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। কয়েক বার অভিযান পরিচালনা করেও তাকে ধরা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকে আসামি আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে। ধর্ষক গ্রেপ্তার না হওয়ায় ধর্ষিতার পরিবারে নেমে এসেছে চরম হতাশা। মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে তার পরিবার। ঘটনা এক সপ্তাহ পার হলেও ধর্ষক গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। ঘটনার পর থেকে মেয়েটি লজ্জায় স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। ঘর থেকে বেরও হচ্ছেনা। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়াও করছেনা।
মেয়েটির বাবা-মা জানান, তাদের মেয়ের ভবিষ্যত এখন আন্ধকার। তারা ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন। যা দেখে কোন পুরুষ যেন এরকম জঘন্য কাজ করতে সাহস না পায়।

রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়া এলাকায় গত রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বাড়ির কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়া এলাকায়। সে কাউয়ারখোপ মৈষকুম ওসমান সরওয়ার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
মেয়েটির বাবা-মা জানান, রবিবার বেলা ১২ টার দিকে তাদের মেয়ে পার্শবর্তী ছড়া থেকে কলসী করে পানি এনে গরুকে খাওয়াচ্ছিল। এক পর্যায়ে কাউয়ারখোপ পূর্বপাড়া এলাকার মৃত ইয়াছিনের ছেলে জসীমুদ্দিন বাবুল (৩৬) ও মো. হোছন প্রকাশ লেইঙ্গা হোছনের ছেলে ও তার সহযোগি আবদুল নুর মেয়েটিকে মুখে কাপড় দিয়ে পার্শবর্তী পাহাড়ি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে জসীমুদ্দিন বাবুল মেয়েটির পরনের কাপড় ছিড়ে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত করে এবং এক পর্যায়ে মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর জসীমুদ্দিন বাবুল ও আবদুল নুর মেয়েটিকে এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং হাতে ২০ টাকা গুজে দেয়। মেয়েটি টাকাটি ফেলে বাড়িতে চলে যায়। ভয়ভীতির কারনে মেয়েটি দুদিনেও এ ঘটনার বাবা-মাকে বলেনি। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে মেয়েটির ব্যথায় কাতরাতে শুরু করলে সে বাবা-মাকে পুরো বিষয় খুলে বলে। মেয়েটির মা আত্মিয় স্বজনের সহায়তায় গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাদী হয়ে জসীমুদ্দিন বাবুলকে প্রধান আসামি করে রামু থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মেয়েটির অধ্যয়নরত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ডাকভাঙ্গা বাংলাদেশ’ কতৃক পরিচালিত কাউয়ারখোপ মৈষকুম ওসমান সরওয়ার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কতৃপক্ষ জানান,মেয়েটির পরিবার ঘটনাটি তাদেরকে অবিহিত করেছেন। তারা এ ঘটনার তিব্র নিন্দা জানান। এবং দ্রুত সময়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ধর্ষককে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান। কতৃপক্ষ আরো চেষ্টা করছেন মনোসামাজিক সহায়তা দিয়ে মেয়েটিকে স্কুলে ফিরিয়ে আনতে।

রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল খায়ের জানিয়েছেন, ঘটনার ৩ দিন পর মেয়েটির বাবা-মা থানায় আসেন। তারা গুরুত্ব সহকারে মামলাটি নথিভুক্ত করে আসামিকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাই। আসামি তা টের পেয়ে আত্মগোপন করে আছে। তিনি আরো জানান আসামিকে ধরতে পুলিশের চিরনি অভিযান অব্যহত আছে। তারা মেয়েটির পরিবারের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন। তবে হতাশ হওয়ার কোন কারন নেই বলে জানান।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা জানান, মেয়েটি এবং তার পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা দিতে তিনি তাদের বাসায় যাবেন এবং রামু উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে যে ধরণের সহযোগিতা করা দরকার তার সবটুকুই করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি অবগত। সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আসামীকে আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি রামু থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •