আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজের কার্যকারিতা পরীক্ষা শুরু হবে আজ। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের অর্থায়নে এ পরীক্ষা চলছে। সিয়াটলের কায়সার পার্মানেন্তে ওয়াশিংটন হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হবে।

আজ এ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ প্রয়োগ করা হলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, একটা ভ্যাকসিন পুরোপুরি প্রস্তুত হতে এক বছর থেকে ১৮ মাস সময় লেগে যেতে পারে।

৪৫ জন তরুণ, সুঠাম স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে বিভিন্ন মাত্রায় ডোজ দিয়ে এ পরীক্ষা শুরু হবে। ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের এ প্রক্রিয়া যে দুটি প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে এসেছে সে প্রতিষ্ঠান দুটি হলো এনআইএইচ এবং মডের্না ইনকর্পোরেশন। পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের সংক্রমিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই কারণ, এ ভ্যাকসিনে করোনা ভাইরাস নেই। মূলত ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য এ পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকলে তা আরও বড় পরীক্ষার পথ খুলে দেবে।

চীন থেকে উৎপত্তি লাভ করা প্রাণঘাতী এই ভাইরাস এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ১৫৭টি দেশ ও অঞ্চলে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৫২ জন এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, ৬ হাজার ৫১৬ জনের প্রাণ গেছে। আর ৭৭ হাজার ৭৫৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। সারা বিশ্বেই গবেষকরা এর ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা। কোনো কোনো গবেষক সাময়িক এক ধরনের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা বলছেন, সাময়িক এ ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে এক থেকে দুমাস কাজ করবে, ততদিনে হয়তো দীর্ঘমেয়াদি ভ্যাকসিন তৈরির পথ খুলবে।

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গবেষকদের তাগাদা দিয়ে আসছেন। শিগগিরই করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেখার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

নভেল করোনা ভাইরাস থেকে আক্রান্ত কোভিড-১৯ রোগের কোনো চিকিৎসা এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। চীনে চিকিৎসকরা এইডস ও এবোলা রোগের ওষুধ দিয়ে এ রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার চেষ্টা করেছেন।

বেশিরভাগ মানুষের শরীরেই করোনা ভাইরাসে তেমন কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে না। তবে বয়স্ক ও আগে থেকে শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য ভয়াবহ হতে পারে এ ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যাদের বিশেষ কোনো প্রভাব পড়ে না, তারা দু সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। আর যারা একটু বেশি অসুস্থ হচ্ছেন তাদের সুস্থ হতে তিন থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •