জসীম উদ্দীন
টেকনাফ-উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে চিন, জাপানহসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক অবস্থান করছে। সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে যুক্ত আছে অনেক দেশের কর্মকর্তা পর্যায়ের লোকজন। তাদের অনেকের দেশেই করোনা ভা্ইরাসের ভয়াবহ বিস্তার লাভ করেছে।প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল।এরপরও এসব বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও কর্মীরা বলছে, এখনো কক্সবাজারে অবস্থানরত বিদেশীরা তাদের নিজ দেশে নিয়মিত আসা যাওয়া করছে। তারা ভাইরাস নিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনই কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ভাইরাস ধরলে অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
বেশ কয়েকটি এনজিও কর্মী জানিয়েছে, কিছুদিন পরপরই সুযোগ পেলেই বিদেশি নাগরীকরা নিজ দেশ গিয়ে কিছুদিন থাকার পর আবার বাংলাদেশে ফিরে আসছেন।
চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি নাগরকদের অবস্থাও একই।এতে করে দেশের বিমানবন্দরে যতই থার্মাল স্ক্যানারে পরীক্ষায় করোনা শনাক্তের চেষ্টা করা হোক না কেন বিদেশীদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস আমদানির ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।
করোনা ইস্যুতে কক্সবাজারে অবস্থানরত বিদেশি নাগরীকরা নিজ দেশে গেলে তাদের আর ফিরতে না দেয়ার দাবি জানিয়েছে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।তারা চান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যেসব বিদেশীরা নিজ দেশে যাবে বা গিয়েছে, তাদের যেন সেখানেই থাকতে বাধ্য করেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদেশী নাগরীকদের যদি এসময় স্বদেশে যাওয়ার পর আবার বাংলাদেশে আসার সুযোগ দেয়া হয় করোনা আমদানি হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ-এমনটি আশঙ্কা স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বিষয়টি কক্সবাজার জেলাপ্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের নজরে আনা হলে তিনি বলেন, নিতান্ত প্রয়োজন ব্যাতিত বিদেশিদের যাতায়াত না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।এ বিষয়ে ইন্টারসেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি)’র সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তাদের পক্ষথেকে বিদেশিদের নিজ দেশে যাওয়া আসা নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিসি কামাল হোসেন।
আইএসসিজি’র মুখপাত্র সৈকত বিশ্বাস বিদেশিদের স্বদেশ যাতায়াতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।তবে গত এক সপ্তাহ ধরে বিদেশিদের নিজ দেশে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে বলে দাবি তার। সৈকত বিশ্বাস বলেন,করোনা ইস্যুতে Global Advisory মেনে চলবে বিদেশিরা। তিনি আরোও বলেন,কক্সবাজার জেলাপ্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। এবং প্রশাসনের পক্ষথেকে যেসব অনুরোধ করা হয়েছে তা বিদেশিদের অবগত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছে,রোহিঙ্গাসহ নানান কারনে করোনার ঝুঁকিতে রয়েছে কক্সবাজার। তাই সম্ভাব্য প্রকোপ ঠেকাতে প্রস্তুুতিও সেভাবই নিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান জানান, করোনা মোকাবিলায় সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তারই অংশ হিসেবে বিমান ও টেকনাফ স্থলবন্দরে জোরদার রয়েছে মেডিকেল টিম।তিনি আরোও জানান,আকাশ ও নৌ পথে আসা দেশি- বিদেশি সবাইকে করোনাভাইরাস শনাক্তে থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি সকল যাত্রীকে থার্মাল স্ক্যানারে পরীক্ষা করছেন মেডিকেল টিমের সদস্যরা।কেউ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলে রামু ও চকরিয়ায় প্রস্তুুত রাখা হয়েছে, একশো শয্যার আইসোলেশন ইউনিট। খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা রোহিঙ্গা ও স্থানীয় সবাইকে সর্বোচ্চ সচেতন থাকার পাশাপাশি মানুষের গণ জামায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে, বিশ্বব্যাপী দ্রুতই ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস।এরই মধ্যে বিশ্বের ১শ’র বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। বিশেষজ্ঞরা বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে মাত্র ১৫ সেকেন্ডই পাশের জন আক্রান্ত হতে সময় লাগে। প্রাণঘাতি ভাইরাসটিকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত পাঁচজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। নানান কারনে করোনা ইস্যুতে আলোচনায় উঠে এসেছে কক্সবাজার।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) তথ্যানুযায়ী, দেশে যে তিনজন ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে দুজন ইটালি থেকে করোনা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে।অপরজন তাদের সংস্পর্শে আক্রান্ত হন।শনিবার নতুন করে আরোও দুজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।এমতাবস্থায় কক্সবাজরে অবস্থানরত বিদেশি নাগরীকদের স্বদেশ যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন কক্সবাজারবাসী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •