এ কে এম ইকবাল ফারুক,চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যাচর ইউনিয়নের জিদ্দাবাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জায়গা অবৈধ দখলে নিয়ে বিলাসবহুল বহুতল ভবন নির্মানের পর এবার নতুন করে সড়ক প্রশস্ত করণের সময় ওই ভবন ভাঙ্গতে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। ফলে ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন ইয়াংছা, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা-মাঝের ফাঁড়ি, কৈয়াবিল ও বরইতলী শান্তিরবাজার পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক নির্মানের কাজ থমকে আছে গত একমাস ধরে। সওজের জায়গা দখল করে নির্মান করা বিলাসবহুল বাড়ি রক্ষায় ভবন মালিক আবুল কাশেম বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। পাশাপাশি ভবন রক্ষায় মোটা অংকের টাকা দিয়ে সওজ কতৃপক্ষকে ম্যানেজ করার চেষ্ঠা অব্যাহত রাখায় বিষয়টি নিয়ে স্থাণীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্ঠি হয়েছে

জানা যায়, কক্সবাজারের চকরিয়ায় লামার উপজেলার সীমান্তবর্তী ইয়াংছা হতে সুরাজপুর-মানিকপুর,কাকারা-মাঝের ফাঁড়ি, কৈয়াবিল ও বরইতলী ইউনিয়নের শান্তিরবাজার পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক নির্মানের টেন্ডার প্রদান করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সমাপ্তির পর ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৬ ফুট প্রস্থ ওই সড়কটির নির্মানকাজ বাস্তবায় করছেন একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রায় ২০টন ওজনের গাড়ি চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা নির্মানাধীন সড়কটি লামার সীমান্তবর্তী ইয়াংছা থেকে চকরিয়া উপজেলার জিদ্দা বাজার আরকান মহাসড়কের পূর্বপাশ পর্যন্ত সড়কের দুইপাশ ২৬ফুট পর্যন্ত প্রশন্ত করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাটি ভরাটের কাজ প্রায় শেষ করেন। কিন্তু জিদ্দা বাজারের পশ্চিম পার্শ্বের সড়ক প্রশস্ত করণের জন্য গত একমাস পূর্বে সওজ কতৃপক্ষকে নিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করতে গেলে তাদের বাঁধা দেন বিলাসবহল ভবনের মালিক আবুল কাশেম। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জায়গা অবৈধ দখলে নিয়ে তিনি বিলাসবহুল বহুতল ভবন নির্মান করলেও তা ভাঙ্গতে দিতে নারাজ ওই ভবন মালিক। ফলে গত একমাস থেকে ওই এলাকায় থমকে আছে নতুন সড়ক নির্মানের কাজ।

স্থাণীয় লোকজনের অভিযোগ, পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কাশেম চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের জিদ্দাবাজার এলাকায় প্রায় কোটি টাকা দিয়ে এক খন্ড জমি কিনেন। পরবর্তীতে ওই জমিতে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মানের সময় সওজের সড়কের বেশকিছু অংশ তার নির্মানাধীন ভবনে ঢুকিয়ে নেন। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে স্থাণীয়ভাবে নানা গুঞ্জন শুরু হলে বিষয়টি প্রভাবশালী মহলকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে নেন জমির মালিক আবুল কাশেম। পরবর্তীতে সওজের জায়গা অবৈধ দখলে নিয়েই বিলাসবহুল বাড়ি নির্মান করেন প্রভাবশালী আবুল কাশেম।

স্থাণীয়রা আরো অভিযোগ করেন, সড়কটি নির্মানের পূর্বে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে পরিমাপ করে সওজের জমি চিহ্নিত করা হয়। ওইসময় সওজের জমি দখল করে গড়ে উঠা স্থাপনাসমুহ লাল দাগ দিয়ে চিহ্নিত করে তা ভেঙ্গে ফেলারও নির্দেশনা প্রদান করেন সওজ কতৃপক্ষ। কিন্ত সওজের ওই নির্দেশনায় কর্ণপাত করেননি বিলাসবহুল বভনের মালিক আবুল কাশেমসহ অবৈধ দখলদারা। অবশেষে সওজের জমি উদ্ধারে গত ২২ ফেব্রুয়ারী জিদ্দাবাজার এলাকায় সড়কের দু’পাশে বেশি কিছু অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় সওজ কতৃপক্ষ। পরবর্তীতে সওজের জমি দখল করে নির্মান করা বিলাসবহুল বাড়ির অবৈধ অংশটি ভাঙ্গতে গিয়ে ভবন মালিক আবুল কাশেম ও তার ভাড়াটে লাঠিয়াল বাহিনীর তোপের মুখে পড়েন সওজের লোকজন। অবশেষে বাধ্য হয়ে ফিরে আসেন তারা। পরবর্তীতে বিলাসবহুল বাড়ি রক্ষায় ভবন মালিক আবুল কাশেম বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। পাশাপাশি ভবন রক্ষায় মোটা অংকের টাকা দিয়ে সওজ কতৃপক্ষকে ম্যানেজ করার চেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছেন। যার ফলে গত একমাস পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে সড়কটি নির্মানের কাজ। বিষয়টি নিয়ে স্থাণীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্ঠি হয়েছে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) চকরিয়া অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু এহেছান মো. আজিজুল হক বলেন, নতুন নির্মানাধীন সড়কে পূর্বের সড়কের বাইরে নতুন কোন জায়গা অধিগ্রহন করা নাই। তারপরও যেহেতু ওই সড়কটি প্রশস্ত করে ২৬ ফুট করা হচ্ছে সেজন্য ভূমি আইন অনুসরণ করে বর্তমান সড়ক ১২ ফুটের বাইরে সড়কের দুইপাশে আরো ১৪ ফুট জায়গা অধিগ্রহন করে দখলমুক্ত করা হবে। এক্ষেত্রে যত প্রভাবশালী ব্যক্তির বসতভিটা ও ভবন হউক না কেন তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবেনা।

অপরদিকে ভবন মালিক আবুল কাশেমের দাবী, তার নির্মান করা ভবনটি সওজের তেমন কোন উল্লেখযোগ্য জায়গায় পড়েনি। তবে সওজের সামান্য কিছু অংশ তার ভবনের মধ্যে পড়েছে স্বীকার তিনি ভবন মালিক আবুল কাশেম বলেন, বিষয়টি নিয়ে সওজের উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। সড়ক নির্মানের সময় ওই ভবনটি ভাঙ্গতে হবেনা বলে সওজ কতৃপক্ষ তাকে কথা দিয়েছেন বলে জানান ভবন মালিক আবুল কাশেম ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •