রিয়াজ উদ্দিন ,পেকুয়া :

পেকুয়ায় হামলায় স্কুল ছাত্রীসহ একই পরিবারের ৮ জন সদস্য আহত হয়েছে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২ জন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও ৩ জন গৃহবধূও আছেন। ঘটনার জের ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সীমানা অতিক্রম করে রিজার্ভ জমিতে পাকা দেয়ালের ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে ঘটনার সুত্রপাত হয়েছে। এ সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ১ জন বৃদ্ধ শারীরিক অক্ষম ব্যক্তিও মারাত্মক জখম হয়েছে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় উত্তেজনা প্রশমিত করতে বিরোধীয় স্থানে কাজ বন্ধ রাখতে পুলিশ তাগিদ দেয়। ১৩ মার্চ (শুক্রবার) সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের সবুজপাড়া নাপিতারচিতা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ওই এলাকার ছালেহ আহমদের মেয়ে ও হোসনেআরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী সুনিয়া আক্তার শিফা (১৪), ভাই বারবাকিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্র সাজ্জাদ (১২), আজিজুর রহমানের পুত্র ছালেহ আহমদ বাবুচি (৫০), তার ভাই শাহ আলম (৩০), দলিল আহমদের স্ত্রী জোহরা বেগম (২৫), ছালেহ আহমদের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবুর্চি (২২), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (১৯), ছালেহ আহমদের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৩৫)। এদের মধ্যে শাহ আলম শারীরিক অক্ষম ও পঙ্গু ব্যক্তি। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়, রিজার্ভ জায়গায় বসতবাড়ির সীমানার জায়গা নিয়ে সবুজপাড়ায় আজিজুর রহমানের পুত্র ছালেহ আহমদ বাবুর্চি ও প্রতিবেশী শামশুল আলমের পুত্র শফিউল আলম গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে শফিউল আলম বিরোধীয় জায়গায় পাকা দালান নির্মাণকাজ আরম্ভ করে। ইটের দেয়ালসহ পাকা স্থাপনা নির্মাণকাজ আরম্ভ করতে ভাড়াটে লোকজন জড়ো করে। ছালেহ আহমদ গংদের বসতবাড়ির সীমানা অতিক্রম করে ওই কাজ নির্মিত হচ্ছিল। এ সময় তারা কাজ না করতে নিষেধ করছিলেন। এর জের ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় শফিউল আলম ও তার অনুগত লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে ছালেহ আহমদ গংদের ৮ জন আহত হয়েছে। ছালেহ আহমদের স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান, তারা লাঠিসোটা ও ধারালো দা, কিরিচ নিয়ে আমাদের উপর আক্রমন করে। বাড়িতে হানা দেয়। দু’লক্ষ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে। জখমী সাইফুল ইসলাম জানান, জায়গা আমাদের। শফিউল আলম বলপ্রয়োগ করে আমাদের জায়গার উপর দালান নির্মাণ করতেছে। সকালে ২০/৪০ জন ভাড়াটে লোকজন জড়ো করেছে। আমরা আহত হয়েছি ৮ জন। আমার স্ত্রীও আহত হয়েছে। পেকুয়া থানার এস,আই নাছির উদ্দিন জানান, মারপিটের খবর পেয়ে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্সসহ আমি গিয়েছিলাম। শান্তি শৃংখলার অবনতি না ঘটাতে আপাতত কাজ না করতে বলা হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •