দনিউজ ডেস্ক:
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে গত বুধবার (১১ মার্চ) বিশেষ ক’টি ক্ষেত্র ছাড়া বিদেশিদের যাবতীয় ভিসা স্থগিত করেছে ভারত সরকার। ওই সিদ্ধান্তের ফলে শুক্রবার (১৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক সময় রাত ১২টা (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা) থেকে ভারতে ঢুকতে পারবেন না কোনো বিদেশি নাগরিক। সে হিসেবে সন্ধ্যায় বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ভারতের সীমান্ত। বেনাপোল-বাংলাবান্ধা-তামাবিলসহ সবগুলো বন্দরের ওপ্রান্ত বন্ধ থাকবে অন্তত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। যদিও আখাউড়া সীমান্তে এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করার পর গত বুধবার ভিসা স্থগিতের ওই সিদ্ধান্ত জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, কূটনীতিক, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন প্রকল্পের ভিসা এই বিধি-নিষেধের আওতায় পড়বে না।

এ বিষয়ে দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রবাসী ভারতীয় কার্ডধারীদের ভিসা ছাড়া দেশে প্রবেশের অধিকার ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হচ্ছে; যদি কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশ করা খুব প্রয়োজনীয় হয় তবে তাকে কাছাকাছি ভারতীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করতে হবে; যে কোনো ব্যক্তি চীন, ইতালি, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানি থেকে এলে বা ১৫ ফেব্রুয়ারির পর সেখানে গিয়ে থাকলে ভারতে প্রবেশের পর তাকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে; অত্যন্ত প্রয়োজনীয় না হলে বিদেশ থেকে ফেরার পর কাউকে যাত্রা করতে নিষেধ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়; খুব দরকার না হলে বিদেশে যাওয়া উচিত নয়; সেক্ষেত্রে বিদেশ থেকে ফিরলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

ভিসা সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত পরে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনও এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেয়। এতে বলা হয়, ১৩ মার্চ থেকে কোনো নতুন ভিসা দেয়া হবে না। কোনো বিদেশি নাগরিক অনিবার্য কারণে ভারতে যেতে চাইলে [email protected] বা [email protected] ঠিকানায় ভারতী হাইকমিশনে যোগাযোগ করতে পারেন।

এছাড়া স্থল সীমান্তের মধ্য দিয়ে যাতায়াত কেবল শক্তিশালী স্ক্রিনিংয়ের সুবিধা-সংবলিত নির্দিষ্ট চেকপোস্টগুলিতে সীমাবদ্ধ থাকবে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই নির্দিষ্ট চেকপোস্টের তথ্য পরে জানানো হবে।

এ বিষয়ে হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশ বন্ধ হওয়ায় বিশাল ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বাসমালিক ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়কারীরা। এক মাসের বেশি সময় ব্যবসা বন্ধ থাকলে কয়েকশ’ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

অবশ্য বাংলাদেশের তরফ থেকে এখনো ভারতীয়দের প্রবেশে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। ভারতীয় পাসপোর্টধারী যে কেউ সীমান্ত পেরিয়ে উপযুক্ত ভিসার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে, করোনাভাইরাসে ভারতে এখন পর্যন্ত ৭৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে কর্ণাটকে ৭৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন তিনজন। এদের মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আরেকজন সুস্থ হলেও আপাতত হাসপাতালেই আছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •