অনলাইন ডেস্ক :

করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠা রোগীদের উর্বরতা পরীক্ষা করার জন্য অনুরোধ করেছেন চীনের ডাক্তাররা। কারণ সংক্রমণটি তাদের অণ্ডকোষের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও করোনাভাইরাস পুরুষের উর্বরতা বা যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে কি-না সেটা এখনও কোন সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়নি।

তবে উহানের চিকিৎসকরা এই সম্ভাবনাটির কথা বলছেন,কারণ এই ধরণের ভাইরাসগুলো পুরুষের শুক্রাণু উৎপাদন এবং যৌন হরমোন গঠনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তাত্ত্বিকভাবে যদিও করোনাভাইরাসটি মূলত ফুসফুস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে টার্গেট করে আক্রমন করে। তবে উহানের টংজি হাসপাতালের ডাক্তারদের মতানুসারে, এটি পুরুষের যৌন ক্ষমতা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

গতকাল (১২ মার্চ) টংজি হাসপাতালের সেন্টার ফর রিপ্রোডাকটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর লি ইউফেং এবং তার দল নতুন এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

টংজি হাসপাতালের অধিভুক্ত হুয়াজং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে উহানে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এটা চিনের সরকার কর্তৃক অনুমোদিত করোনা চিকিৎসার হাসপাতাল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্স-কোভি-২ নামে পরিচিত নতুন এক ধরণের করোনাভাইরাসের সন্ধান মিলেছে, যেটা মানুষের কোষে প্রবেশ করে এবং তার টিস্যু ড্যামেজ করে দেয়। প্রোটিন উৎপাদন কোষের ঝিল্লী এবং প্রোটিন অ্যাঞ্জিওটেনসিন-রূপান্তরকারী এনজাইম ২ (এসিই ২) এর সাথে আবদ্ধ টিস্যুর ক্ষতি করে।

এসিই ২ ফুসফুস ছাড়াও অন্যান্য মানব অঙ্গগুলিতে উপস্থিত থাকে। বিশেষত পুরুষের অণ্ডকোষে এই টিস্যু প্রচুর পরিমাণে থাকে। এটি বেশ কয়েকটি কোষে কেন্দ্রীভূত হতে পারে। জীবাণু কোষ, সহায়ক কোষ এবং জনন কোষ পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকে। ফলে করোনার আক্রমণে এই কোষগুলোর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তারা আরও বলেন, ২০০২ এবং ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় চিকিৎসকরা কিছু পুরুষ রোগীর অণ্ডকোষ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি লক্ষ্য করেছিলেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে যে, চিকিৎসকরা এখনও রোগীদের অণ্ডকোষে সার্স-কোভি-২ করোনাভাইরাস বা সার্স-কোভি সনাক্ত করতে পারেননি। যেগুলো তাদের যৌন অঙ্গগুলিতে প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে। তবে নতুন এই করোনাভাইরাসের সঙ্গে সার্সের ব্যাপক মিল আছে।

যেহেতু নতুন করোনভাইরাসটি সার্স করোনভাইরাসগুলির সঙ্গে অনেকাংশে মিল আছে এবং দুটি ভাইরাসই একই হোস্ট সেল রিসেপ্টর এসিই ২ কে আক্রমণ করে। সে কারণে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন যে, তাত্ত্বিকভাবে নতুন করোনভাইরাসটিও পুরুষের অণ্ডকোষের ক্ষতি করতে পারে।

সুতরাং, যে সমস্ত পুরুষরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়েছেন বিশেষ করে যাদের সন্তান জন্মদান প্রয়োজন তাদের যথাসম্ভব দ্রুত উর্বরতা পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।

চীনের উহান থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এরই মধ্যে বিশ্বের শতাধিক দেশে ছড়িয়েছে। ভাইরাসটির দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোধে লড়াই করছে সমগ্র বিশ্ব। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত পৃথিবীজুড়ে ১ লাখের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছে এবং ৪ হাজার ৩শ’রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদের অধিকাংশই চীন, ইতালি ও ইরানের।

– কালেরকন্ঠ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •