সমকাল : নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

শুক্রবার মহাখালীতে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

দেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে গত ৮ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায় আইইডিসিআর।

ওই তথ্য জানিয়ে সেদিন মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছিলেন, আক্রান্তদের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও একজন নারী। এদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছর। দুইজন ইতালি ফেরত। একজনের সংস্পর্শে পরিবারের আরেকজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, করোনায় আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুইজনের পরীক্ষায় করোনাভাইরাস নেগেটিভ এসেছে। পর পর দুইবার নেগেটিভ এলে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া যায়। সে অনুযায়ী একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বাড়ি চলে গেছেন।

তিনি জানান, সুস্থ হওয়া অন্যজনও বাড়ি চলে যাওয়ার মত অবস্থায় আছেন। একজনের শরীরে এখনও ভাইরাসের সংক্রমণ রয়ে গেছে। দেশে নতুন করে আর কারও মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে মোট আটজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনার অস্তিত্ব ধরা পড়ে; এরপর তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসে সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ; মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৪১ জনের।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে এরই মধ্যে বুধবার বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বিবিসি জানিয়েছে, এই ভাইরাসে চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। ইতালি থেকে পুরো ইউরোপ এবং আফ্রিকা ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরানে এ ভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে আগেই পৌঁছেছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে সংক্রমণের ধরা পড়ে গত রোববার।

চীনে কমলেও এই দেশটির বাইরে প্রতিদিনই নতুন নতুন দেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণের তথ্য আসছে। দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতে বাড়ছে নতুন রোগীর সংখ্যা।

সার্স ও মার্স পরিবারের সদস্য করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ফ্লুর মতো উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এখন পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুহার ৩.৪ শতাংশ, যেখানে মৌসুমি ফ্লুতে মৃত্যুহার থাকে ১ শতাংশের নিচে। তবে করোনায় ৯ বছরের নিচের কেউ মারা যায়নি। প্রবীণদের মধ্যেই মৃত্যুহার বেশি।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

করোনাভাইরাসের কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনও তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হলো আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •