শাহেদ মিজান, সিবিএন:

মানবপাচারের বিরুদ্ধে সরকার হার্ডলাইনে রয়েছে। সে মোতাবেক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। নানাভাবে তৎপরতার চালিয়ে মানবপাচারকে শক্তহাতে ঘায়েল করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময় হওয়ার মানবপাচার মামলাগুলো কোনো গতি পাচ্ছে না আদালতে! মালয়েশিয়া ২০১২ সাল থেকে কক্সবাজার মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে তার একটিরও চূড়ান্ত রায় হয়নি। বছরের পর বছর ধরে মামলাগুলো ঝুলে আছে। তবে আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাক্ষীদের অনীহার আরো কয়েকটি কারণে মামলাগুলোর কার্যক্রম আগানো যাচ্ছে না।

‘মানবপাচার প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক বেতার সংলাপে সংশ্লিষ্টরা এই তথ্য জানান। বাংলাদেশ বেতারের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকালে জেলা ইপিআই সেন্টার কনফারেন্স হলে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সংলাপের এক শ্রোতার প্রশ্নের উত্তরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর প্রতিভা দাশ জানান, ২০১২ সাল থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন থানা এবং আদালতে যেসব মামলা হয়েছে তার একটিরও চূড়ান্ত রায় হয়নি। তার কারণ হিসেবে তিনি জানান, এসব যে সব সাক্ষী তারাও ধার্য্য দিনে আদালত তলব করলেও আদালতে হাজির হন না।
একই প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, ২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কক্সবাজারে যেসব মানবপাচার মামলা হয়েছে কয়েকটি সবগুলোর চার্জসীট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। বিচারাধীন এসব মামলার সাক্ষীদের উপস্থিতিত করতেও পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়। তবে নিরাপত্তাজনিত হুমকি, প্রলোভন এবং আর্থিক ক্ষতির কারণে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে আসেনা বলেন পুলিশ সুপার।

পুলিশ সুপার জানান, মানবপাচার নিয়ে কক্সবাজারে পুলিশ জিরো টলারেন্সে রয়েছে। খোদ ২০১৯ সালে কক্সবাজারে ৪৬ টি মামলা হয়েছে। সেখানে মানবপাচার, পতিতাবৃত্তিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে কক্সবাজারের ৩০ টির মতো আবাসিক হোটেল বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অপরাধ কর্মের বিরুদ্ধে পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জানালেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন।

রোহিঙ্গা পাচার নিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, রোহিঙ্গারা আমাদের মতো করে কথা বলে। পোষাক পরিচ্ছদও অনেকটা আমাদের ন্যায়। অনেক সময় তাদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে যায়। তাই চেকপোস্টে ফাঁকি দিয়ে পার পেয়ে যায়। মিথ্যা প্রলোভনে ফেলে এক শ্রেণীর দালাল সরল-সহজ মানুষকে পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে। দালালদের তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন। দালালদের মাধ্যমে বিদেশে না যেতে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন।
বেতার সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম ফজলুল করিম চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডাঃ মাহবুবুর রহমান, ইউনিসেফের প্রটেকশন স্পেশালিস্ট শায়লা পারভীন লোনা, কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি এডভোকেট প্রতিভা দাশ।

মানব পাচার বিষয়ে প্যানেল আলোচকদের কাছ থেকে জানতে প্রশ্ন করেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোক। সবাই মানব পাচারের সঠিক কারণ চিহ্নিত করে তা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তুলেন।

বেতার সংলাপে বাংলাদেশ বেতার কক্সবাজারের আঞ্চলিক পরিচালক ফখরুল করিমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, ইউনিসেফের চাইল্ড হেল্প ডেস্ক নাম্বার ১০৯৮ তে যোগাযোগ করে পাচার সংক্রান্ত তথ্য জানানো যাবে। উক্ত সংলাপের সঞ্চালনায় ছিলেন সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী জিন্নাত।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •