এ কে এম ইকবাল ফারুক, চকরিয়া
গাড়িতে আছে বিদ্যুতের তার ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ মিটার। বিদ্যুৎ বিভাগের গাড়ির সাথে আছেন দুইজন লাইনম্যান ও একজন ওয়্যারিং পরিদর্শক। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন তারা। কোন এলাকায় গ্রাহক বিদ্যুৎ নিতে চাইলে মাত্র পাঁচ মিনিটেই তারা পেয়ে যাবেন সংযোগ। সংযোগ নিতে নেই কোনো হয়রানি, আর তাতে দিতেও হবে না বাড়তি কোন টাকা। ব্যতিক্রমধর্মী এই সেবার নাম দেয়া হয়েছে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’। এ সেবার উদ্যোক্তা হলেন কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধিন চকরিয়া জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহাম্মদ মোছাদ্দেকুর রহমান। তিনি জানান, এক বছর পূর্বে শুরু হওয়া একই সেবা কার্যক্রম চলবে চকরিয়া, পেকুয়া ও লামা উপজেলায় সব বাড়িতে বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ না পৌঁছানো পর্যন্ত।

এদিকে এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ”আলোর ফেরিওয়ালা” নিয়ে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে সোমবার (৯ মার্চ) সকালে বরইতলী ইউনিয়নের বিবিরখিল এলাকায় পৌঁছান চকরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ। এ সময় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক মো. হায়দার আলী। পরে পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ ওই এলাকার ২১টি বাড়িতে সরকার নির্ধারিত খরচে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করেন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক মো. হায়দার আলী বলেন, পরিচালক হওয়ার পর থেকে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে গিয়ে নতুন পুরাতন, গ্রাহকদের সেবা দেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করি বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেই চকরিয়া,পেকুয়া ও লামা উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান সম্পন্ন করা হবে। এজন্য বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন নিয়ে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধিনে চকরিয়া জোনাল অফিসের আওতাধীন বর্তমানে ২৮টি ইউনিয়নে ৮৪ হাজার ১৭৪জন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছেন। এর বাইরে প্রতিদিনই নতুন সংযোগ দেয়ার কাজ চলছে। সরকার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। কোন জায়গায় গ্রাহকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন তারজন্যই বিদ্যুৎ সেবায় এ বিকল্প উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চকরিয়া জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহাম্মদ মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, নতুনভাবে গ্রাহকদের বাড়িতে বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ সেবা দিতে গাড়িতে সার্বক্ষণিক থাকছে বিদ্যুতের তার ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ মিটার। এ সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের গাড়িতে থাকছেন দুইজন লাইনম্যান ও একজন ওয়্যারিং পরিদর্শক। পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ পেয়ে মহাখুশি বলে জানিয়েছেন বরইতলী ইউনিয়নের বিবিরখিল চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও হেলাল উদ্দিনসহ এলাকার নতুন ২১জন গ্রাহক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক মো. হায়দার আলী, চকরিয়া জোলাল অফিসের এজিএম আমিনুর লুৎফুর, ওয়্যারিং পরিদর্শক গোপাল দাশ ও গনমাধ্যম কর্মী সাংবাদিক মোহাম্মদ উল্লাহ প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •