সংবাদদাতা
গরিব, হতদরিদ্র ও অসহায় উপযুক্ত এক মেয়েকে বিয়ে দিয়ে সমাজসেবায় মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শ্রমিক কল্যান ফেডারেশন। রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মৌলভীরকাটা টেকপাড়া এলাকায় এ মহৎ বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। স্থানীয় আবুল হাসেম এর মেয়ে জোছনা আকতারকে নিজ বাড়িতে উপস্থিত থেকে বিয়ের আসবাবপত্র ও যাবতীয় দ্বায় দায়িত্ব নিয়ে বিয়ে দেন কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি কবির আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল কবির। গত ৬ মার্চ শুক্রবার আবুল হাসেমের মেয়ে কনে জোছনা আকতার ও বর ছৈয়দ করিম এর ছেলে আবদু শুক্কুর সাথে এই বিয়ে সম্পন্ন করেন। তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ।
বিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যান ফেডারেশন রামু উপজেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ তৈয়ব উল্লাহ বলেন, এলাকার গরিব মানুষের উপযুক্ত মেয়েদের বিয়ে দেয়ার মতো অর্থ সামর্থ্য না থাকায় এ বিষয়টি মাথায় রেখে এই মহৎ কাজটি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী অসহায় মেয়েটির বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। তাদের পিতা ও অভিভাবকের সাথে সমন্বয় করে ভরণ-পোষণসহ সব ধরনের সহযোগিতা করতে পেরে আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করছি। পাশাপাশি বিয়ের পর বরের আর্থিকভাবে সাবলম্বি হবার জন্য চাকরি প্রদান, নগদ অর্থ অনুদান দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ করে দেয়ার চিন্তা ভাবনাও করা হবে।
তিনি আরো বলেন, মানুষ মানুষের জন্য, এই কথায় বিশ্বাসী আমরা। আল্লাহ যেনো আমাদের এই কাজকে এবং সংগঠনসহ এর জড়িত সকল সদস্যকে কবুল করে নেয় এবং সংগঠন কে আরো শক্তিশালী ও সমৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করেন। আমরা রামু উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে অসহায় গরিব শ্রমিক সমাজের মাঝে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৎ দক্ষ মানুষ তৈরীর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, কবি বলেছেন-মানুষের উপকারে নেয় যার মন কে বলে মানুষ তারে পশু সেইজন।
তাই আসুন আমরা প্রত্যেকে মানব সেবায় এগিয়ে আসি। তাই তিনি এই সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের উপজেলার প্রত্যেকটি এলাকায় যুক্ত হয়ে কাধে কাধ রেখে অর্থ, টাকা, শ্রম ও আইনি সহযোগিতা দিয়ে মানবসেবায় যুক্ত হতে বলেন। এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত ব্যবস্থা চালু করত তাহলে অসহায় কোন শ্রমিক বৈষম্যের শিকার হতো না। তিনি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহবান জানান।
এদিকে অসহায় মেয়ের বাবা আবুল হাসেম বলেন-আমার মেয়েটি বিয়ের উপযুক্ত হলেও বিয়ের সামর্থ ছিল না। একটি ভাঙ্গা কুড়ে ঘরে বসবাস করে দিনে না খেয়েও অনেক সময় গেছে। এমতাবস্থায় তাঁরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আজ আমি ও আমার পরিবার অত্যান্ত খুশি। এলাকার দুই শ্রমিক নেতা কবির আহমদ ও মনিরুল কবিরসহ শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের কাছে চির কৃতজ্ঞ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •