এ কে এম ইকবাল ফারুক, চকরিয়া:

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাটাখালী এলাকায় শাসক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ২২টি পরিবারের বসতবাড়ি উচ্ছেদ পূর্বক কয়েক কোটি টাকার ভূ-সম্পদ জবরদখল পায়তারা করার অভিযোগ উঠেছে মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে নিয়ে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়ায় যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় রয়েছেন ভূক্তভোগী ২২ পরিবারের সদস্যরা। রবিবার (৮ মার্চ) বিকালে চকরিয়া পৌর সদরের সাংবাদিক কল্যান সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ওইসব পরিবারের লোকজন।

সংবাদ সম্মেলনে ২২ পরিবারে পক্ষে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন, চকরিয়া পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ফোরকানুল ইসলাম। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে চকরিয়া পৌরশহরের দক্ষিণ বাটাখালী এলাকার মৃত নুরুল আলম মেস্ত্রীর ছেলে মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু তার মা আনোয়ারা বেগমের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে একটি সাহায্যের আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু ও তার পরিবারের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুদ্দীন মোহাম্মদ শিবলী নোমানকে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত পূর্বক লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। জেলা প্রশাসকে নির্দেশনা অনুযায়ী চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুদ্দীন মোহাম্মদ শিবলী নোমান কোন ধরনের কাগজপত্র যাচাই বাচাই না করে বিএনপি সরকারের আমলে মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর সকল জমি-জমা জবরদখলে নেওয়া হয় উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন জমা দেন । ইউএনও‘র ওই প্রতিবেদনই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূক্তভোগী ২২ পরিবারের।

ভূক্তভোগী ফোরকানুল ইসলাম বলেন, ভুমদস্যূতা, চাঁদাবাজি, হত্যা চেষ্টা ও প্রতারণাসহ একডজনের বেশি মামলার আসামী মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু কখনোই আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা বা কর্মী ছিলেনা না। বিএনপি আমলে তার পরিবারের সবাই বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল বলে ওই সময় তার বিরুদ্ধে কোন ধরণের মামলা হয়নি। বিগত মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে আওয়ামীলীগের বদান্যতা পেতে সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানীমুলক একটি মামলা দায়ের করেন মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু। এ মামলায় চকরিয়া পৌর আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাস্টার আবু তাহের ও আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল তার ৭ ছেলেকে আসামী করে হয়রানী করা হয়। পরবর্তীতে মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর হয়রানীমুলক মামলার শোকে অকালেই মারা যান মাস্টার আবু তাহের ও তার জৈষ্ঠ ছেলে শহীল ইসলাম খোকন। এছাড়া মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর মিথ্যা মামলা ও হামলায় সর্বশান্ত হয়েছে কয়েকটি আওয়ামীগ পরিবার। বর্তমান সরকারের আমলেই মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির কারণে থানা ও আদালতে একডজন মামলা হয়। মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি এরফানুল হক চৌধুরীর দায়ের করা একটি মামলায় ১ বছর ২ মাসের সাজা হয় মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর বিরুদ্ধে।

সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভোগী ২২ পরিবার সদস্যরা বলেন, ইউএনও নুরুদ্দীন মোহাম্মদ শিবলী নোমান যে জমিগুলো নিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছেন ওইসব জমিগুলোতে খরিদসুত্রেই আমরা বসবাস করছি। ওই জমি আমাদের নামেই নামজারি জমাভাগ খতিয়ান সৃজন রয়েছে। ইউএনও‘র মনগড়া প্রতিবেদনের কারনেই বর্তমানে মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু আমাদের বসতবাড়ি স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে জবর দখলের হুমকী দিচ্ছেন। পল্টু সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ভূল তথ্য দিয়ে এসব পরিবারকে হয়রানী করছে। ‘আমরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ দৃষ্টি কামনা করছি। এসময় সংবাদ সম্মেলনে ২২ পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক ওমর আলী, আওয়ামীলীগ নেতা শফুর আলম, মো.কুতুব উদ্দিন, মাওলানা ইব্রাহিম, মো. শাহ আলম, সমাজকর্মী মো. রায়হান উদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা ফোরকানুল ইসলাম ও মৌলভী ইদ্রিস প্রমুখ।