সাইমুন মোর্শেদ রিয়াদ

দয়া করে করোনা ভাইরাস নিয়ে আর কেউ ফাজলামো করবেন না। সামনে খুবই ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে এই করোনা ভাইরাস নিয়ে। যদি কোরআনের কথা অনুযায়ী সেই মহামারী টা করোনা ভাইরাস হয় তাহলে যা হওয়ার হয়ে যাবে। কয়েক কোটি প্রাণ ঝড়ে যাবে। আল্লাহ ছাড়া কেউ বাঁচাতে পারবে না। এখন ভালো থাকতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করুন এই রোগ থেকে বাঁচতে।

০৪ তারিখের প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা ৯১,০০০+ ছাড়িয়েছে, তার মধ্য চীনে বর্তমানে আক্রান্ত ৮০,১৫১ জন। মোট মৃত্যুর ৩,০০০ এর মধ্য ২,৯৪৩ জনই চীনের। দ্রুত ভাইরাসটি দক্ষিন কোরিয়ায় ছড়িয়ে যায়। প্রায় ৭৫ টি দেশে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরব, ইরান, যুক্তরাজ্য, জর্ডান, তিউনিসিয়া, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ও ইতোমধ্যে ৫ হাজার ১৪৬ জন আক্রান্ত আর ইরানে তো ৫০১ জন আক্রান্ত হতেই ৬৬জন মারা গেছে। বাংলাদেশে আগত ১০২ জন প্রবাসী লোকের লালা ও রক্ত পরিক্ষা করে আক্রান্ত পাওয়া যায়নি। শুকরিয়া যে, সিঙাপুরে আক্রান্ত ৫ বাংলাদেশির ৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছে। ভারতেও ১১জন আক্রান্ত পাওয়া গেছে।

তাহলে ধরে নেন খুব কাছেই আছি আমরা। এই ভাইরাস ইস্পাত(২১ ডি. সে.), কাগজ, ধাতব পদার্থ, সিলিকন রাবারে ৫ দিন বাঁচতে পারে। কাঠ, আর প্লাস্টিকে ৪ দিন বাঁচতে পারে। অ্যালুমিনিয়াম, অস্ত্রোপচার গ্লাভসে ৮ ঘন্টা করে বাঁচতে পারে। তবে
এই ভাইরাস একমাত্র হাইড্রোজেন-পারঅক্সাইড আর ইথানলের সংস্পর্শে আসলে অকার্যকর হয়ে যায়।

একবার ভেবে দেখেছেন, চীন বিশ্বের শক্তিধর, উন্নত বড় একটা দেশ হয়ে এই ভাইরাস ঠেকাতে পারছে না, সেখানে বাংলাদেশে কোনোভাবে ঢুকে পরলে এই আমাদের সামান্য এমবিবিএস ডাক্তার রা কি করতে পারবে। চীন মানুষ বাদ দিয়ে ৫জি রোবট পর্যন্ত নামিয়ে দিয়েছে এই ভাইরাস শনাক্ত করতে। সেখানে বাংলাদেশের মতো মধবিত্ত একটা দেশে কি ঘটতে পারে তা বুঝাতে পারবো না। বিশ্বকে হুমকি দেওয়া এই চীন পুরাই আতংকে আছে এটা নিয়ে।

এর ভয়াবহতা বুঝতে পেরে ২০২০ অলিম্পিক গেমস স্থগিত করার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে। শুধু এই গেম নয় আরো অনেক প্ল্যান বাতিল করতে বাধ্য হতে হবে। সৌদি আরব থেকে ওমরাহ ভিসা বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

এর ভয়াবহতা বলতে গেলে সামনে আসছে রমজান তাছাড়া আমাদের বাংলাদেশে আমদানি করে ব্যবহৃত হয় বেশির ভাগ পণ্য। বুঝতেই পারছেন অর্থনীতিতে কিরকম চাপ পড়বে। শুধু বাংলাদেশ নয় এই ভাইরাস ঠেকাতে এখন এক দেশ আরেক দেশের সাথে সকল প্রকার লেনদেন বন্ধ করে রাখবে যেহেতু ভাইরাসটা কাগজসহ প্রায় পণ্যই বেঁচে থাকতে পারে কিংবা অবস্থান করে স্থানান্তর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরাই টেনশনে পড়ে গেছে তারাই হতবাক! কিভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, নিজেরাই ঠিকমতো রিসার্চ করে খুঁজে পাচ্ছে না।

অবশেষে আপনাদের বলি যারা ঘুরাঘুরি করার প্ল্যান করছেন নানান জায়গায় দয়া করে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন। বেশি করে মাস্ক কিনে রাখুন, ব্যবহার করুন, বাচ্চাদের ও পরিয়ে দিন। বাচ্চাদের খেলাধুলা করতে ঘরে ব্যবস্থা করে দিন। যারা ফ্ল্যাট, ভাড়া বাসায় আছেন ছাদের উপরে নিয়ে যাবেন না। নিজেরাও ছাদে যাওয়ার দরকার নেই। ঢাকা-শহরের আবহাওয়া টা যাতে না লাগে গায়ে-মুখে খেয়াল করুন। বাইরে কম যাওয়ার চেষ্টা করুন। করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে ট্রল করা বন্ধ করুন। বিশ্ব পাপের সাগরে ভরে গেছে এই ছাড়া কি বা আশা করা যায়। নামাজ পড়ুন, তাওবা করুন, দোয়া চান আল্লাহর কাছে। বেশি বেশি দোয়া পাঠ করুন। আল্লাহই রক্ষাকর্তা, যদি রাখে বাঁচবেন। রাখে আল্লাহ মারে কে?