আবদুল মজিদ, চকরিয়া:
চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এলাকা দিয়ে প্রবাহমান শুয়রমরা খালে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় ব্যক্তি মাছ চাষ করতে লবণাক্ত পানি ঢুকানোর ফলে ৫ হাজার একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করতে পারেনি কৃষকরা। ফলে ক্ষোভে ফুসে উঠছেন অসহায় দরিদ্র কৃষকরা। এমনকি দীর্ঘদিনের প্রবাহমান এই খালটি সুকৌশলে বন্দোবস্তি নিয়ে খন্ড খন্ড করে ভূয়া রেজিষ্ট্রি দাতা সাজিয়ে বেচা-কেনা ও দখল-বেদখল শুরু হয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের পাশাপাশি আতংকে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারাও।

অভিযোগে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের মরণংঘোনা থেকে সিকদারপাড়া হয়ে ঢেমুশিয়ার সীমানা ও কোনাখালী বাঙ্গালীবাজারসহ অধিকাংশ এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে শুয়রমরা খালটি। এ খালের মিঠা পানির উপর নির্ভর করে প্রায় ৫ হাজার একরের অধিকার চাষাবাদী জমি। কিন্তু বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় ব্যক্তি দলের নাম ভাঙ্গিনে নদীতে লবণাক্ত পানি ঢুকানোর কারণে উক্ত ৫ হাজার একর জমির কয়েক শতাধিক কৃষক বিন্দু মাত্র জমিতেই বোরো চাষাবাদ করতে পারেননি। বর্তমানে এসব অসহায় ও দরিদ্র কৃষকের রুটিরুজির উপর ভীশন আঘাত করেছে। এসব অসহায় পরিবার চরম হতাশায় ভুগছে।

অপরদিকে কোনাখালী ইউনিয়নের পূর্বসিকদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন, নুরুল আবছার, শফি উল্লাহ, আবদুল মোনাফসহ বিক্ষুব্ধ লোকজন জানিয়েছেন, শুয়ারমরা খালটি আরএস খতিয়ান নং ১৫০, দাগ নং ৬১৪ স্পষ্টভাবে খাল উল্লেখ আছে। একইভাবে সৃজিত বিএস খতিয়ান নং ৯৯৪, দাগ নং ১৪৬৯তেও ষ্টষ্পভাবে খাল উল্লেখ করা হয়েছে।

খাল শ্রেণির জমি তথ্য গোপন করে মরহুম আবদুল আজিজের পুত্র আবদুল রেজ্জাকের নামে দীর্ঘকাল পূর্বে ৯.৫৭ একর জমি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বন্দোবস্তি নেন। উক্ত বন্দোবস্তি মূলে ২০০৭ সালের ১২ এপ্রিল বিএমচর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকার আবদুল মালেক ও আবদুল মজিদের নামে জমি রেজিষ্ট্রি গ্রহণ করে। বর্তমানে প্রবাহমান শুয়রমরা খাল ও চলাচল রাস্তা এবং খালের কাটি জবর দখলে নিতে বিভিন্ন জনের নামে বেনামে বিক্রি করে চলছে খালের তথ্য গোপনকারী ভূমিদস্যুরা। এদিকে খালে লবণাক্ত পানি ঢুকিয়ে ৫ হাজার একর চাষাবাদী জমির চাষাবাদ নষ্ট, অন্যদিকে খাল জবর দখলের অপচেষ্টায় ক্ষুব্ধ, আতংকিত ও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে কৃষকরা।

তাদের অভিযোগ- জবর দখলকারীদের মধ্যে নাজেম উদ্দিন, জয়নাল আবদীন, আবদুল মালেক, আবদুল মজিদ, নাজের হোছন ছোটন, মো: জাবের, হাজী ফকির মোহাম্মদের পুত্র টিপু সোলতান, মো: এনামুল হক ও মো: হারুন রশিদ ভূট্টো, মাওলানা কফিল উদ্দিন, আলম উদ্দিন গং রয়েছে।

জানতে চাইলে কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন, শুয়রমরা খালের বেচা-বিক্রির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে স্থানীয় কৃষকরা খালে লবণাক্ত পানি ঢুকানোর কারণে কয়েক হাজার একর জমির বোরো চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ প্রবাহমান খাল রেজিষ্ট্রি নিয়ে থাকলে তা অবশ্যই প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অবহিত করা হবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দিন মোহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, তথ্য গোপন করে ভূমিহীন পরিবারের নামে খাল বন্দোবস্তি দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে নেই। প্রবাহমান খাল অবশ্যই উন্মুক্ত থাকতে হবে এবং তাতে কৃষকদের চাষাবাদে ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করা যাবেনা। কেউ লবণাক্ত পানি ঢুকিয়ে কৃষকের চাষাবাদী জমি নষ্ট করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •