জে.জাহেদ ,চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত ২৭৬ সদস্যের নতুন পূর্ণাঙ্গ বিশাল কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছে দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার, হত্যা মামলার আসামি ও বহু বির্তকিত ব্যক্তিরা। অভিযোগ উঠেছে, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের বিশাল এই কমিটিতে স্থান পেয়েছে অনুপ্রবেশকারী, শিবির, ইয়াবা ব্যবসায়ি, বিবাহিত, হত্যা মামলার আসামি, বয়সোর্ধ, রেলের খালাসি, কাপড় ব্যবসায়ীসহ অনেকে।
এছাড়াও সবচেয়ে বড় অভিযোগ, অনুমোদন পাওয়া দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। তাঁরা দুজনেই পুর্বে কখনো ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলেন না। বরং সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দীন অতীতে বোয়ালখালীতে ছাত্রসেনার অর্থ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
বুধবার (৪ মার্চ) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির বেশির ভাগই নানা অপরাধ ও ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যক্রমে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়াও কমিটিতে তালিকায় থাকা বহু সম্পাদকীয় পদে মাদক ব্যবসায় জড়িত, শিবির ও নাশকতা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এমনকি হত্যা মামলার সহযোগী আসামিরা ঠাঁই পেয়েছে বলে জানা যায়।
ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের বয়স হবে ২৯ বছরের মধ্যে। যে কোন জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয় ১০১ সদস্যের। কিন্তু দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের অনুমোদিত কমিটির সদস্য সংখ্যা প্রায় ২৭৬ জন। সহ-সভাপতি পদে ৯ জন রাখার নিয়ম থাকলেও ঘোষিত কমিটিতে ৬০ জনের ও বেশি সহ-সভাপতির পদ পেয়েছেন। যুগ্ন সাধারণ পদে ৫ জন থাকার নিয়ম থাকলেও ১১ জন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৫ জন রাখার নিয়ম থাকলেও ঘোষণা হল ১১ জনের। পুরো কমিটি গঠনে কোন নিয়মই মানা হয়নি। যেনো সাংগঠনিক নিয়ম বহির্ভূত একটি কমিটি।
অনুসন্ধান ও ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র বলছে, সদ্য কমিটিতে পদ পাওয়া সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বর্তমান সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদের সরকারি এপিএস। সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান জিহান ত্রিশোর্ধ বয়স এবং একটি গ্রুপ অব কোম্পানীতে দুই বছর ধরে চাকরি করেন। সহ-সভাপতি জয়নুল আবেদিন ফরহাদ ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে কর্মরত। সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মুসা বয়স, ৩৫ এবং ছাত্রত্ব নেই। এক সময় জুতার দোকানের কর্মচারী ছিলেন। সহ-সভাপতি ফয়সাল জামি সাকী, বয়স ৩৪ এবং অবৈধ গ্যাস ব্যবসা ও ইয়াবার সাথে জড়িত।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা জুয়েল জনি হত্যা মামলার আসামিদের সহযোগী এবং অন্য একটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক তুহিন বাঁশখালীতে জামাত-শিবিরের নাশকতা মামলার আসামির ছেলে এবং এক সময় সক্রিয় শিবিরের রাজনীতি করতেন। সাংগঠনিক সম্পাদক কলিমুল্লাহ সাতকানিয়া কেরানিহাট জ্বালাও-পোড়াও নাশকতা মামলার আসামি এবং শিবির ক্যাডার। সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদ হোসাইন কোতোয়ালী থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই এবং স্থানীয় এমপি ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় দুই বছর আগে বাঁশখালী থানা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন।
আরো অভিযোগ রয়েছে, সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিম উল্লাহ চৌধুরী শিবিরের সাথী ছিল এবং বাঁশখালী শেখেরখীল ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত জামায়াত পরিবারের সন্তান। গ্রন্থনা ও প্রকাশনা উপ-সম্পাদক গাজী আমিনুর রশিদ ৩৮ বছর বয়সী বিবাহিত এবং একজন অভিযুক্ত চাঁদাবাজ। সাংস্কৃতিক উপ-সম্পাদক মানিক আন্ডার মেট্রিক এবং এলাকায় চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সুমি আক্তার রাইসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম সারির নেত্রী। বাম ধারা ছাত্ররাজনীতি থেকে সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে মিছিলের অগ্রভাগে সব সময় নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও সহ-সভাপতি ফয়সাল জামিল সাকির এর বয়স অতিক্রম ও কোন ছাত্রত্ব নেই। সহ-সম্পাদক জাফরিন সুলতানা এ্যানি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কর্তৃক সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের বাতিল কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদিকা ছিল। সহ-সভাপতি মামুন বাড়ি চন্দনাইশ নারী নির্যাতন মামলার আসামি। সহ-সভাপতি মো. খালেদ মাসুদ এর পুরো পরিবারের সকলেই দেশের একমাত্র নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল জামাতের রাজনীতির সাথে জড়িত। মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর রেজা ছাত্রসেনা থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। যুগ্ন সম্পাদক আরেকুর রহমান ৩ মাস আগেও নারী কেলেঙ্কারির অপরাধে আনোয়ারা কলেজে গণপিটুনির শিকার হন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রকৃত ছাত্ররা অপ-রাজনীতি আর টাকার নেতৃত্বে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে কমিটিতে অনেকের স্থান হয় নি। দক্ষিণ জেলার অনেক সচেতন ছাত্রনেতারা মন্তব্য করেন, এভাবে নানা বিশেষণ আর অপকর্মে জড়িত ছাত্ররা যদি কমিটিতে পদ বাগিয়ে নেয়। তাহলে সংগঠনের নীতি-আদর্শ ধুলোয় লুটিয়ে চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজিতে ঝুঁকবে এসব পদ পাওয়া ছাত্রলীগের নেতারা। টাকা দিয়ে নেতা নির্বাচিত হলে সেই টাকা তুলতে বাধ্য হয়েই চাঁদাবাজি কিংবা টেন্ডারবাজি করতে হয়। আর টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি বা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ বা মারামারির ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষে দলীয় কর্মী মারা যাওয়ার ঘটনাও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগে রয়েছে।
ছাত্রলীগ সূত্র বলছে, কমিটি গঠনে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন অনেকটা অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। কারো সঙ্গে চুক্তি করে টাকা নেওয়া হয়, টাকা দিলে পদ জোটে আর না দিলে জোটে না। আবার নেতা হওয়ার প্রতিদান হিসেবে কেউ উপঢৌকন বা উপহার পাঠিয়ে দেন নেতার বাসায়। কেউ সরাসরি টাকা না দিলেও আইফোন উপহার দেওয়ার মতো ঘটনাও নতুন নয়।
দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের দুঃসময়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি আব্দুল কাদের সুজন ২৭৬ সদস্যদের কেন্দ্র ঘোষিত বিশাল ছাত্রলীগের কমিটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এটা বিরল ঘটনা, এভাবে হতে পারে না। দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগে যাকে সভাপতি করা হয়েছে সে এক সময় বোয়ালখালীতে ছাত্রসেনা করত। আমার জানা মতে সে কখনো ছাত্রলীগ করেনি। টাকা পয়সা খরচ করে শীর্ষনেতার সার্পোট পেয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছেন। বর্তমান কমিটির সভাপতির মত সাধারণ সম্পাদকেরও ছাত্রলীগের অতীত কোন ব্যাকগ্রাউন্ট নাই। ২৭৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনতন্ত্রের কোথাও নেই। এখানে বানিজ্যের অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখানে ভাল ছাত্ররা কমিটিতে স্থান পায়নি। কমিটিতে শিবির, ইয়াবা ব্যবসায়ি, বিবাহিত, আন্ডার মেট্রিক, ব্যাংকার চাকরিজীবিরা ও স্থান পেয়েছে। নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সরাসরি বলেছেন যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের কে বাদ দিয়ে কমিটি করার জন্য। কেন্দ্রীয় ছালীগের আগের কমিটি অনুপ্রবেশ কারীদের স্থান দেওয়ার কারণে সভাপতি সেক্রেটারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে এখানে অনেক অনুপ্রবেশ কারী রয়েছে। এদেরকে দিয়ে দলের ভালো কিছু হবে না।
দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ১নং সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘কমিটিতে এমন অনেক নাম এসেছে যারা এক সময় শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার ছিলো, অনেকে বিবাহিত, চাকরিজীবি অনেকে হত্যা মামলার আসামি, অনেকে আবার এসএসসিও পাশ করেনি। বিশাল অংকের টাকার বাণিজ্যের মাধ্যমে এই ধরনের বির্তকিতদের কমিটিতে ঠাঁয় দিয়ে পুরো কমিটি বির্তক করা হয়েছে।
তিনি ঘোষিত কমিটিতে বেশ কয়েকজন বির্তকিতদের নাম উল্লেখ করেন।’ এদের মধ্যে সহ-সম্পাদক মোস্তাক আহমদ বিবাহিত, সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন চৌধুরী শুভ তৌকির হত্যা মামলার আসামি, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন কাফোকোতে চাকরি করেন। উপ-সম্পাদক মোহাম্মদ এনাম বনফুল কোং চাকরি করেন (পটিয়া)। সহ-সভাপতি কে এম পারভেজ উদ্দীন এক সময়ের শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার (জামাতের সাবেক এমপি সামশুল ইসলামের খালাতো ভাই)। সহ-সভাপতি মো. মিনহাজুল আবেদীন রেয়াজউদ্দীন বাজার তামাকুমন্ডী লাইনে ডিওর নামক কাপড় ব্যবসায়ী। উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এস এম সাইফুল্লাহ রাহাত ফোর এইচ গ্রুপের হিসাবরক্ষক। সহ-সম্পাদক মো. রায়হান রেলের খালাসি পদে কর্মরত (পোস্টিং পটিয়া)। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সুমি আক্তার রাইসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম সারি নেত্রী। সহ-সভাপতি এমরান উদ্দিন এবছর এইচএসসি পরীক্ষা দিবে। অর্থ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম শিবির কর্মী। ফছিহুল হক ফয়সাল বয়সোর্ধ।’
তথ্যমতে, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের তৎকালিন আহবায়ক আব্দুল মালেক জনি’র মৃত্যুর প্রায় ৫ বছর পর ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর আংশিক কমিটির নাম ঘোষণা করেছিলো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সেই সময় অনুমোদিত কমিটিতে এস.এম. বোরহান উদ্দিন সভাপতি ও আবু তাহের সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস.এম.জাকির হোসেন ৫১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন।
পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যারা আছেন, সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দীন, সহ-সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম জেকি, মোহাম্মদ আলী, আবদুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল আল নোমান, আবুল কালাম আজাদ, রেহান পারভেজ চৌধুরী, সাইদুর রহমান চৌধুরী, ইরফান হাসান মান্নান সহ আরো অনেকে। সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তাহের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন হাসান, জয়নাল আবেদীন, সালেহী নুর জামান তানভীর, মামুনুর রহমান চৌধুরী, বদরুদ্দোজা জুয়েল, মিজবাহ উদ্দিন শিকদার সুমন, রিদয়ানুল বারী লাবলু প্রমুখ।
আর সাংগঠনিক সম্পাদক হুসাইন মোহাম্মদ, সালাউদ্দিন নয়ন, সিয়াম চৌধুরী, কলিম উল্লাহ, কাজী মোঃ ওয়াসিম, সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ মানিক সহ আরো অনেকে। প্রচার সম্পাদক আবু বকর জীবন সহ প্রচার বিষয়ক উপসম্পাদক আরো চারজন। দপ্তর সম্পাদক আসিফ নেওয়াজ জিহান সহ সহ-সম্পাদক আরো চারজন। গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মাইনুল মান্নান সহ উপসম্পাদক চারজন, শিক্ষা ও পাঠক্রম সম্পাদক সেলিম সহ উপ-সম্পাদক আরো চারজন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সৈকত চৌধুরী সহ উপসম্পাদক আরো চারজন, সমাজসেবা সম্পাদক ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ সবুজ সহ সহ-সম্পাদক আরো চারজন।
এছাড়াও ক্রীড়া সম্পাদক অজয় মহাজন সহ সহ-সম্পাদক আরো ৪ জন, পাঠাগার সম্পাদক অনুপম দত্ত সহ উপসম্পাদক আরো ৪জন। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সুমি আক্তার রাইসা সহ উপসম্পাদক আরো ৪ জন, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ফারজানা আক্তার সহ-সম্পাদক আরো দুইজন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ সহ আরো চারজন উপ-সম্পাদক হয়েছেন। এছাড়া গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সহ আরো চারজন, মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম রুবেল সহ নানান পদে তাদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ২৭৮ জনের তালিকা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য জানান, ‘আমরা ৬ মাস ধরে এই কমিটি আটকে রেখেছিলাম। কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কথা বলে এই কমিটি দিয়েছি তখন কেউ অভিযোগ করেনি। এখন কমিটিতে যদি বির্তকিত ও অনুপ্রবেশকারী কেউ থেকে থাকে তাদের নাম আপনারা আমাদের কে জানান। তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো। আমরা বির্তকিত কাউকে নিয়ে ছাত্রলীগ করতে চাইনা।’
ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার ব্যাপারে জানতে চাইলে, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান জানান, কমিটির ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে তাতে আমাদের কোন মতামত নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমি জানিনা এই কমিটির ব্যাপারে। কমিটি ঘোষণার পর আমাকে ছাত্রলীগের ছেলেরা যে তালিকাটা দেখিয়েছে তাতে অনেক ভালো ছাত্রনেতা, যারা দীর্ঘদিন আমাদের সাথে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তাদের অনেকে কমিটিতে স্থান পায়নি। জামাত শিবির, বিবাহিত, ছাত্রলীগের বয়সোর্ধ,, ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রীসহ অনেকই কমিটিতে স্থান পেয়েছে বলে শুনেছি। আমি বিষয়টি সাথে সাথে আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক কাদের ভাই কে (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ) জানিয়েছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •