নিজস্ব প্রতিবেদক
শহরের পশ্চিম পাহাড়তলী ৭নং ওয়ার্ডের সৌদি প্রবাসী হাবিব উল্লাহর বিকে হাবিব ভিলা নামক বসতবাড়ি ভূমিদস্যূ কবির আহমদ সওদাগর, কায়েস উদ্দিন ও আব্দুল কর্তৃক অবৈধভাবে দখল করায় তাদের হাত থেকে নিজ বসতগৃহ ফিরে পাওয়ার জন্য বুধবার (০৫ মার্চ) প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রবাসী হাবিব উল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী হাবিব উল্লাহ। এসময় হাবিব উল্লাহর পরিবারের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব উল্লাহ মাতব্বর উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী হাবিব উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাস জীবন যাবন করে আসছি। প্রবাসে থাকাকালীন পশ্চিম পাহাড়তলী ৭নং ওয়ার্ডে আমার মালিকানাধীন বিকে হাবিব ভিলায় আমার স্ত্রী সন্তানরা বসত করে আসছিল। বাড়ির এক অংশে আমার পরিবার বাস করলেও অপর অংশে কায়েস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে ভাড়া দেয়া হয়। আমি প্রবাসে থাকাকালীন ভাড়াটে ডুলাহাজারার রঙ্গমহল এলাকার আব্দুল আলীমের পুত্র কায়েস উদ্দিন আমার সংসার বিনষ্ট ও ঘরবাড়ি দখল করার কুমানসে তিন সন্তানের জননী আমার স্ত্রী রোকাসানার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনা জানতে পেরে আমি স্ত্রীকে তালাক প্রদান করি। এরপর তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী রোকসানা কায়েস উদ্দিনের সাথে যোগসাজসে আমার ঘরটি রোকসানার কাছ থেকে ক্রয় করেছে মর্মে গোপনে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র সৃজন করে উক্ত ঘরে বসবাসরত আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মর্জিনা আক্তার, বৃদ্ধা মা হাফেজা বেগম, বোন ছালেহা খানমকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং বসতগৃহে থাকা আমার মূল্যবান গৃহ সামগ্রী, স্বর্ণালংকার, ব্যাংকের চেক বহি লুট করে কায়েস উদ্দিন আমার ঘরটিতে অবৈধ অবস্থানে থেকে জবর দখলপূর্বক ভোগ করছে। তাকে দখলে সাহায্য করছে পূর্বপাহাড়তলী ইসুলোর ঘোনার ভূমিদস্যূ কবির আহমদ সওদাগর। কবির আহমদ সওদাগর সেনাবাহিনীর ঠিকাদার বলে সেনাবাহিনীর ভয়-হুমকি দেখিয়ে কায়েস উদ্দিনকে আমার ঘরটি দখল করতে সাহায্য করে। বর্তমানে আমার ঘরটিতে কায়েস উদ্দিনের নেতৃত্বে কবির আহমদ সওদাগর ও আব্দুল গফুর নামে অপরিচিত ব্যক্তিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করছে।
গত দুই মাস আগে আমি বিদেশ থেকে এসে নিজ বসতগৃহে উঠতে না পেরে নুনিয়াছড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। আমি আমার ঘরটি ফিরে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন তদবীর চেষ্টা করলে কায়েস উদ্দিন ও কবির আহমদ সওদাগর ডিবি পরিচয়ে কিছু ভাড়াটে লোক নিয়ে আমার নুনিয়াছড়া ভাড়া বাসায় গিয়ে আমাকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। এছাড়া কায়েস উদ্দিন ও তালাক দেয়া স্ত্রী রোকসানা আমাকে কোণঠাসা করার জন্য বিভিন্ন মিথ্যা মামলা করে, যা প্রশাসন তদন্ত করে মিথ্যা প্রতীয়মান হয়। বর্তমানে তারা আমাকে দিন-রাত হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। এতে আমি খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি। এসব দখলবাজদের কবল থেকে আমার বাড়িঘর ফিরে পেতে ও নিজেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের নিকট সহযোগিতা কামনা করছি।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •