সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ
সম্প্রতি কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখার(এলএ শাখা) একজন সার্ভেয়ার বিপুল পরিমাণ অর্থসহ আটক হওয়ার পর কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সকলের একটাই দাবী সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতেই প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা স্বাধীনতা এবং বর্তমান সরকার বিরোধী আমলারা সুপরিকল্পিতভাবেই ভয়াবহ এ দুর্নীতির জন্ম দিয়েছেন। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সে যত বড়ই হোক না কেনো তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
গতকাল বুধবার (০৪ মার্চ) সকাল ১০টায় শহীদ সুভাষ ফরহাদ চত্বরে ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’ সংগঠনের ব্যানারে সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে কক্সবাজার সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে বিক্ষুদ্ধ নাগরিক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল আবছার।
আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সমন্বয়ক নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজারেও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তরিকতার সহিত উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যেতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। একইভাবে এ অঞ্চলের মানুষরাও সরকারের উন্নয়নে সহযোগিতা করতে হাসিমুখে তাদের পৈত্রিক ভিটেবাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। অথচ সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন করতেই প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালরা মিলে এই জমির প্রকৃত মালিকদের প্রকৃত টাকা না দিয়ে কমিশনের নামে লুটপাট করে খাচ্ছেন। এসব ঘটনায় প্রতিবাদ করলেই প্রকৃত মালিকদের দালাল বানিয়ে উল্টো জেল জুলুম সহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়। সরকারের মেগা প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে পাচার করা হচ্ছে বলে দাবি করে বক্তারা বলেন, এলএ শাখা কেন্দ্রীক সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের কথিত নেতা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা চেনা অচেনা দালালরা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। অথচ অধিগ্রহণকৃত জমির প্রকৃত মালিকদের ন্যায্য মুল্য না দিয়ে দূর্নীতিবাজরা লুটপাট করছে। শুধু তাই নয়, অনেক প্রকৃত মালিক তাদের ন্যায্য পাওনা দাবি জানালে উল্টো তাদেরকে দালাল সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করার মতও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছেন দূর্নীতিবাজরা।
সভায় বক্তব্য রাখেন, কমিউনিস্ট পার্টির কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সমীর পাল, জেলা জাসদ নেতা এ কে ফরিদ আহমদ, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম, কক্সবাজার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড গিয়াস উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা কামাল উদ্দিন পেয়ারু, আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সমন্বয়ক যথাক্রমে- কলিম উল্লাহ ও সাংবাদিক মহসীন শেখ, অধ্যাপক হাসেম উদ্দিন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলন, সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা শহিদ উল্লাহ মেম্বার, পরমাণু গবেষক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক আমানুল হক বাবুল, আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সমন্বয়ক ও কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ইসমাইল সাজ্জাদ, সাবেক ছাত্রনেতা কামাল উদ্দিন, মংথেলা রাখাইন, মফিজুর রহমান, স্বপন কান্তি দে, আরিফুর রহমান ও কক্সবাজার পৌর ছাত্রলীগ নেতা জামী প্রমূখ। তাছাড়াও এলএ শাখায় হয়রানির শিকার মহেশখালী থেকে আগত নুরুন্নাহার নামক এক নারী তাকে হয়রানির বিষয়ে বক্তৃতায় সকলকে বিরণ দেন।
বক্তারা দাবি করেন, এলএ শাখার দূর্নীতিতে জড়িত ভুমি অধিগ্রহণ কর্মকতা সহ এ শাখার ৩০ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। যা নজিরবিহীন। এসব দূর্নীতিবাজদের বদলির নামে নিরাপদেে সরিয়ে ফেলা হয়েছে দাবি করে বক্তারা বলেন, পার্সেন্টেজ এবং দালাল ছাড়া কোনোভাবেই জমি প্রকৃত মালিকরা তাদের ন্যায্য টাকা পাননা। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এলএ শাখার দায়িত্বরত কর্তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ ঘুষের টাকা সহ একজন সার্ভেয়ার হাতেনাতে আটক হওয়ার পর কর্তারা এ অপরাধের দায় নিবেননা বলে জানিয়েছেন, যা হস্যকর বলেও মনে করছেন বক্তরা। তারা বলছেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা কোনেভাবেই এ দায় এড়াতে পারেননা। তাই অবিলম্বে এলএ শাখার দূর্নীতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী, দালাল ও রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সরকার এবং দুদকের প্রতি অনুরোধ জানান।
অবিলম্বে এলএ শাখার দূর্নীতিতে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হলে আরো বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠিত বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধা আবুল মনসুর, কক্সবাজার জেলা খেলাঘরের সভাপতি আবুল কাসেম, সাংবাদিক আমীর হোসন হেলালী, আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সমন্বয়ক কবি এম জসিম উদ্দিন, সফিনা আজিম, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা সাইফ উদ্দিন, মা টিন টিন, সাংবাদিক এম আর খোকন, সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন শাকিল, ইমাম খায়ের, জাফর আলম ও কফিল উদ্দিন প্রমূখ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •