মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রত্নাপালং বড়ুয়াপাড়ায় গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সংগঠিত হওয়া চাঞ্চল্যকর ফোর মার্ডার হত্যাকান্ডের সন্দিগ্ধ আসামি রিপু বড়ুয়া জামিন লাভ করেছে। কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল মঙ্গলবার ৩ মার্চ ৫৩৯/২০২০ নম্বর ফৌজদারী মিচ মামলার শুনানী শেষে রিপু বড়ুয়াকে মামলাটির চার্জশীট দাখিল নাকরা পর্যন্ত জামিন প্রদান করেন। শুনানীকালে পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। এর আগে রোকেন বড়ুয়ার স্ত্রী নিহত মিলা বড়ুয়ার ভগ্নিপতি সন্দেহজনক আসামী অসীম বড়ুয়াও একই আদালত হতে জামিন লাভ করে। এনিয়ে সন্দেহজনক আাসামী হিসাবে গ্রেপ্তার হওয়া ৩ জনের মধ্যে ২ জনের জামিন হলো। অপর আসামী উজ্জ্বল বড়ুয়া এখনো কারাগারে রয়েছে।

এই হত্যাকান্ডের কোন কুলকিনারা করতে নাপেরে মামলাটি কক্সবাজার জেলা পুলিশ পিবিআই’কে গত বছরের ১০ অক্টোবর হস্তান্তরের পূর্বে শিপু বড়ুয়ার স্ত্রী রিপু বড়ুয়া (২৮) রোমেল বড়ুয়ার পুত্র উজ্জ্বল বড়ুয়া (২৪) কে সন্দেহজনকভাবে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত ২ জনই রোকেন বড়ুয়ার নিকটাত্মীয়। তারমধ্যে, রিপু বড়ুয়া হচ্ছে-প্রবাসী স্বজনহারা রোকেন বড়ুয়ার সেজ ভাই শিপু বড়ুয়ার স্ত্রী এবং ফোর মার্ডারে নিহত সনী বড়ুয়ার (৬) মা। অপর আসামি হলো রোকেন বড়ুয়ার ভাগ্নি জামাই উজ্জ্বল বড়ুয়া। উজ্জ্বল বড়ুয়ার বাড়ি রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের রামকোর্ট এলাকায় অবস্থিত।

উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রত্নাপালং বড়ুয়া পাড়ায় প্রবাসী রোকেন বড়ুয়ার বাড়ীতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বুধবার দিবাগত রাত্রে রোকন বড়ুয়ার মা সুখী বালা বড়ুয়া (৬৫), সহধর্মিণী মিলা বড়ুয়া (২৫), একমাত্র পুত্র রবিন বড়ুয়া (৫) ও ভাইজি সনি বড়ুয়া (৬)কে কে বা কারা জবাই করে হত্যা করে। এরমধ্যে, নিহত রবিন বড়ুয়া রুমখা সয়েরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির ছাত্র এবং সনি বড়ুয়া একই স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।

এবিষয়ে পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর উখিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ৪৭/২০১৯, যার জিআর মামলা নম্বর : ৪৭৮/২০১৯ (উখিয়া) ধারা : ফৌজদারি দন্ড বিধি : ৩০২ ও ৩৪। মামলায় নিহত মিলা বড়ুয়ার পিতা ও রোকেন বড়ুয়ার শ্বশুর শশাংক বড়ুয়া বাদী হয়েছে। মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্ট কাউকে আসামী করা হয়নি, আসামী অজ্ঞাত হিসাবে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

মামলাটি তদন্তের জন্য বর্তমানে কক্সবাজার পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) এর কাছে রয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ৪ খুনের পর ৫ মাস ৭ দিন অতিবাহিত হলেও মূলত মামলাটির খুনের কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •