বিশেষ প্রতিবেদক:
রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়িতে চলছে নির্বিচারে পাহাড় কাটা। দক্ষিণ মিঠাছড়ির বিভিন্ন এলাকায় ১০টি পয়েন্টে পাহাড় কাটা হচ্ছে প্রকাশ্যে। পাহাড় কাটতে গিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পাহাড়ধসে দুই শ্রমিক আহত হয়। এরপরও থামছে না পাহাড় কাটা। পাহাড়ধসের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপল এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, দক্ষিণ মিঠাছড়িতে অন্তত ১০টি পয়েন্টে ভয়াবহ আকারে পাহাড় কাটা চলছে। সেখানে ইতিপূর্বেও পাহাড়ধসে প্রাণহানী ঘটেছে। যেখানে শুকনো মৌসুমেই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে সেখানে বর্ষা মৌসুমে তা ভয়াবহ রূপ নেবে। এতে করে ব্যাপক প্রাণহানী ঘটতে পারে।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে জানিয়েছেন, রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়িতে ১০টি পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে পিকআপ (ডাম্পার) যোগে মাটি বিক্রি করছে একটি চক্র। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ ভূট্রোর আশ্রয়ে সিন্ডিকেটটি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চেয়ারম্যানের ভাই নুরুল আজিম, শফিকুর রহমানসহ ৫/৬ জনের একটি চক্র পাহাড় কাটায় জড়িত। দক্ষিণ মিঠাছড়ির কালাখোন্দকারপাড়ার হোয়ারিঘোনা এলাকায় বিশাল আকৃতির পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছেন কাটিরমাথা এলাকার ছৈয়দ নুর। পাহাড়ে থাকা তিন শতাধিক গাছও কেটে নিয়েছেন তিনি। গাছ ও পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে ইতিমধ্যেই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ছৈয়দ নুর। ওই পাহাড় কাটতে গিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মাটি চাপা পড়ে দুই শ্রমিক আহত হয়। চাপা পড়া পিকআপ (ডাম্পার) ও শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে নেয় পাহাড় খেকো সিন্ডিকেটটি। এ অবস্থায় কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবারও পাহাড় কাটছে চক্রটি।

সরেজমিন দেখা গেছে, হোয়ারিঘোনা এলাকার আনুমানিক ১২০ ফুট উঁচু পাহাড়টির প্রায় এক একর আয়তনের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। পাহাড়ে থাকা তিন শতাধিক আকাশমনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছও কেটে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, পাহাড়টি দীর্ঘদিন ধরে কেটে পিকআপ যোগে মাটি ও বালি বিক্রি করছেন কাটিরমাথা এলাকার ছৈয়দ নুর, চেয়ারম্যানের ভাই নুরুল আজিম, শফিকুর রহমান সহ ৭/৮ জন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও থেমে নেই পাহাড় কাটা। এ বিষয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মান্নান জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু কারা জড়িত তা জানেন না দাবী করে নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানান। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ পরিচালক শেখ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, পাহাড় কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •