মহেশখালী সংবাদদাতা:

মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে পাঠদানের অনুমতিহীন এক কে.জি স্কুলের নামে অভিনব পহ্নায় বিভিন্ন ব্যক্তি সংস্থা ও জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে অনুদান এনে সে অনুদানে নিজের ব্যবসায় পুঁজি কাটান সভাপতি এনামুল হক এনাম নামের এক ব্যক্তি। খবর নিয়ে জানাযায়, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত উত্তর নলবিলা কে.জি স্কুল নামের ওই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে নেই কোনো পরিচালনা কমিটি। এমনকি অধ্যক্ষও নেই। কোনো পরিচালনা কমিটি না থাকলেও নিজেকে সভাপতি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, এনজিও সংস্থা থেকে অনুদান আনতে থেমে নেই একক সভাপতি এনামুল হক এনাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন সুষ্ঠু পরিচালনা কমিটি ও অধ্যক্ষ ছিলো। সে সময়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন ডাঃ আলমগীর এবং অধ্যক্ষ সেলিম উদ্দিন। বর্তমানে কোনো কমিটি না থাকার অভিযোগে আমরা তৎকালীন সভাপতি ডাঃ আলমগীর ও অধ্যক্ষ সেলিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হয়।

সাবেক সভাপতি ডাঃ আলমগীর জানান, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলাম আমি একথা সত্য। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমি সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করি। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে সময়ে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী কুতুবদিয়া) সাংসদ সদস্য ছিলেন আলহাজ্ব হামিদুর রহমান আজাদ এম.পি। তিনি বেশ কয়েকবার স্কুলের নামে অনুদান দেন। সে অনুদানের টাকা পরিচালনা কমিটির ক্যাশিয়ারের কাছে জমা থাকতো। এমপির অনুদানকৃত দু লক্ষাধিক টাকা সহসভাপতি এনাম নিজের কাছে রাখেন। কমিটির সকলে সে টাকার হিসাব চাইতে গেলে বাক-বিতন্ডা লেগে যায় স্কুল পরিচালনা কমিটির মধ্যে। এনাম কোনো হিসাব না দেওয়ায় পরে আমি পদত্যাগ করি।

সাবেক অধ্যক্ষ সেলিম উদ্দিন জানান, তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ছিলেন। গত বছর বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর তিনি অধ্যক্ষের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। বর্তমানে তিনি নতুন করে আরেকটি কে.জি স্কুল প্রতিষ্ঠা করছেন উত্তর নলবিলা আইডিয়াল কে.জি স্কুল নামে তিনি সে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানান। সেলিম উদ্দিন কেন অধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন “বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে সভাপতির সাথে সমস্যা ছিলো তার কারণে আমি পদত্যাগ করেছি। আমার পরে নতুন আরেকজন অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়েছিলো সেও পদত্যাগ করেছে শোনলাম। আমার চেয়ে তিনি ভালো জানবেন।

তিনি আরো জানান, গতবছর বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য মাস্টার রুহুল আমিন। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য জেলা পরিষদের ফান্ড থেকে এক লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণা করেন। এবং বিভিন্ন অতিথি থেকে অনুদান ও চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। অনুষ্ঠান পরবর্তি বাদবাকি টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অসম্পূর্ণ কাজ সমাপ্ত করতে বললে তিনি (সভাপতি) বলেন, প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পন্ন করলে কেউ আর্থিক অনুদান দিবে না, তাই প্রতিষ্ঠান অসম্পন্ন রাখছেন। এ নিয়ে তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি আমার দিকে ত্যাঁড়ে আসেন। কোনো টাকার হিসাবও দেননি। সহকারী শিক্ষকদের বেতনও বাকি ছিলো। শিক্ষকের বেতন দিতেও তিনি অপারগতা জানান পরে আমিসহ আরো কয়েকজন সহকারী শিক্ষক মিলে পদত্যাগ পত্র দিয়ে চলে আসি।

অধ্যক্ষের পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা কাব্য সৌরভ হাসান শিবলুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, একাধিক কারণে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের পদ থেকে সরে গেছেন। পূর্ব থেকে বিতর্কিত এই প্রতিষ্ঠানে আগেও দুজন অধ্যক্ষ (সেলিম উদ্দিন ও বাপ্পি বড়ুয়া) চলে যাওয়ায় সভাপতি এনাম তাঁকে বিভিন্নভাবে অনুরোধ করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষার অজুহাতে। তাই তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সুসংগঠিত করণের বিভিন্ন দাবী দেন। তার মধ্যে স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠন ও অনুদানকৃত টাকার হিসাবের সচ্ছতা ছিলো অন্যতম। যেহেতু গত বছরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অতিথিদের অনুদানের টাকার ভাগ বাটোয়ারার কারণে কে.জি স্কুল দ্বিখণ্ডিত হয়ে নতুন আরেকটি কে.জি স্কুলের জন্ম হয়েছে। তিনি দাবী গুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে কাব্য সৌরভ হাসান শিবলু অধ্যক্ষর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তিনি আরো বলেন, আমি অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করার চার মাসেও তিনি কোনো পরিচালনা কমিটি গঠন করতে দেননি এমন কি স্কুলের নামে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে অনুদান আনেন যা কাউকে জানান না তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম শৃঙ্খলার কোনো সচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে পারছিলাম না। এমন কি ঐ প্রতিষ্ঠানে রাতের বেলায় বিভিন্ন অপকর্ম চলে। তিনি এসব বিষয় নিয়ে তাঁর সাথে আমার বেশ কয়েকবার বাক-বিতন্ডা হয়। পরে আমি পদত্যাগ করতে বাধ্য হই। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অপকর্ম এবং কাউকে না জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি থেকে অনুদান আনা ও সার্বজনীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো পরিচালনা কমিটি ছাড়া একক ব্যক্তি দ্বারা পরিচালনা মানতে পারছিলাম না বলে পদত্যাগ করেছি। পদত্যাগের পরে আমার চার মাসের বেতনও তিনি দেননি। আমি ঐ বেতন পাওনা রয়েছি।

অহরহ অভিযোগের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকা ওই প্রতিষ্ঠানের সুসম্পন্ন যে ভবনটি রয়েছে সে ভবনটি প্রত্যাশী নামক এনজিও’র করা। স্কুলের মোট শিক্ষার্থীদের পরিসংখ্যান ভুল তথ্য দিয়ে মহেশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে একাধিক শ্রেণির বই এনে সে বই একামতে দ্বীনিয়া নামক এক প্রতিষ্ঠানে টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করেন বলেও জানা যায়। ওই এলাকার মানুষের মুখে সে প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাক্রম চরম বিতর্কিতের কথা জানায়। সুষ্ঠু তদন্তের মধ্যে দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা করেন উত্তর নলবিলার জনসাধারণ।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও এনামুল হক এনামের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •