সংবাদদাতা:

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের অধীন চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর বনবিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছ কেটে অন্যত্র পাচার করছে চোরা কাঠ ব্যবসায়ীরা। একই সাথে ফাঁকা জায়গায় বহুতল ভবন নির্মান করছে ভূমিদস্যূরা। কক্সবাজার উত্তর বিভাগীয় বনকর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে ও মানিকপুর বনবিট কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ মদদে সংঘবদ্ধ কাঠচোর চক্র সংরক্ষিত বনের গাছ উজাড় করে দিচ্ছে। এতে গাছ নিধনের ফলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় হয়ে মরুভুমিতে পরিণত হতে চলেছে এবং বনাঞ্চলের আশপাশ এলাকার পরিবেশ মারাত্বক ঝুকির মধ্যে পড়েছে। অপরদিকে এসব চোরাই কাঠ ট্রাকে করে স্থানীয় রাখাইন পাড়া সড়কের উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়াতে এ সড়কের বিশাল ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। সামনে বর্ষা মওসুমে সড়কটির একাধিক স্থানে ভাঙ্গন সৃষ্টি হবে। দিন রাত চোরাই কাঠ পাচার অব্যাহত থাকলেও বনবিভাগ রহস্য জনক ভাবে নিরব ভুমিকা পালন করছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে মানিকপুর বনবিট এলাকার আওতাধীন লম্বাশিয়া, তোয়ম্বোঘোনা, মগপাড়াবিল, ভিলেজারপাড়া. ইয়াংছা, ফাইতংয়ের সংরক্ষিত বনবাগান থেকে সেগুন, গর্জন, করাই, গামারী, মেহগনী, বাটনা, চিকরাশি, আকাশমনি ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে বন উজাড় করা হচ্ছে। ওই চোরাই কাঠগলো পরে নদীপথে নৌকায় করে চেয়াম্যানের বাগান এলাকার পাশে মাতামহুরী নদীর চরে মওজুদ করা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে মানিকপুর রাখাইন পাড়া সড়ক দিয়ে চকরিয়া, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর ছোঠ আকারের কাঠ গুলো যোগান দিচ্ছে স্থাণীয় ফাইতং এলাকার ইটভাটা ও তামাক চুল্লিতে। গত দুই মাসে এখান থেকে অন্তত পাঁচ লাখ ঘনফুট বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ পাচার হয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এদিকে বন উজাড় ও কাঠ পাচারের বিষয়টি বনবিভাগের উর্ধ্বতন মহলে অনেক আগেই জানানো হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিস্টরা নিবর ভুমিকা পালন করছে। একাধিক সূত্র জানায় মানিকপুরের সুমেল, সুরাজপুর এলাকার আমিন ও চিরিংগার রায়হান সহ কয়েকজন ব্যক্তির একটি সিন্ডিকেট এসব কাঠ পাচের জড়িত।

রাখাইন পাড়ার বাসিন্দা অংকেচিং জানান প্রতিদিন আমাদের পাড়ার মধ্যবর্তী সড়কটি দিয়ে চোরাই কাঠের ভারী ট্রাক গাড়ি যাচ্ছে। এতে সড়কটির বিভিন্নস্থানে ধসে যাচ্ছে। ইট ভেঙ্গে সরে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছিনা। জনপ্রতিনিধিরা নিরব ভুমিকা পালন করছে। এসব অভিযোগ একাধিক লোকের। এর পর ও কাঠ পাচার থেমে নাই। মওজুত রয়েছে হাজার হাজার ঘনফুট কাঠ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান পার্বত্য এলাকা থেকে নদীপথে নৌকায় করে কাঠ এনে আমার এলাকার উপরদিয়ে পাচারের বিষয়টি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মহোদয় আমাকে জানিয়েছে। শীঘ্রই কাঠ গুলো জব্দ করা হবে। জড়িতদের বিরুদ্বে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চট্রগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক আবদুল আউয়াল সরকার বলেন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কাটা ও কাঠ পাচারের খবর জেনে কক্সবাজর উত্তর বিভাগীয় বনকর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •