সোয়েব সাঈদ, রামু:

দশটি দেশের সহ¯্রাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষু, আওয়ামীলীগ-বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সরকারের মন্ত্রী, উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, বিশিষ্টজনসহ লাখো মানুষের অংশগ্রহনে ৩ দিন ব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতায় সম্পন্ন হলো একুশে পদকে ভুষিত, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের অধ্যক্ষ, বাংলাদেশে বৌদ্ধদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু, বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার প্রাক্তন সভাপতি, উপ-সংঘরাজ, প্রয়াত পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের’র জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান। শেষদিনে শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহার সংলগ্ন মাঠে হাজার হাজার বৌদ্ধ নর-নারীর আবেগঘন পরিবেশে চন্দন কাঠের আগুনে দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয় খ্যাতিমান এ বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুর।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে অনিত্য ও স্মৃতিচারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন, সকল ধর্মের মানুষকে ভালোবাসাই প্রকৃত ধর্ম। যারা মানুষকে ভালোবাসে তারা মানুষের ক্ষতিসাধণ করতে পারেনা। প্রয়াত সত্যপ্রিয় মহাথের আজীবন মানুষকে এমন শিক্ষাই দিয়েছেন। তাই আমাদের সকলের উচিত তাঁকে অনুসরণ করা। তাঁর কর্ম ও আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে লালন করা।

মন্ত্রী আরো বলেন, সবার কথা ও কাজ মানুষ হৃদয়ঙ্গম হয়না। যারা ধর্মের মন্ত্রে মুগ্ধ হয়ে মানুষকে কল্যাণের পথ দেখায় তাদের কথা সহজে মানুষের অন্তরে নিহিত হয়। পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের এমনই একজন ধর্মীয় গুরু ছিলেন। তাঁর মতো গুরুর ধর্মীয় শিক্ষা সবাইকে অর্জন করতে হবে। ধর্ম মানুষকে নৈতিক শিক্ষা দেয়, ভালোকে গ্রহণ আর মন্দকে ত্যাগ করার শিক্ষা দেয়। পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথেরর শিক্ষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রূপ দেয়ার মাধ্যমে মহান এ ধর্মীয় গুরুকে সম্মান দেখাতে হবে। তিনি পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সম্প্রীতির শহরে রূপ দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার উপ-সংঘরাজ ধর্মপ্রিয় মহাস্থবির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান ধর্মদেশক ছিলেন, বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বুদ্ধরক্ষিত মহাস্থবির ও চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের পালি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড জিনবোধি মহাথের। শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪ টায় রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রিয়রতœ মহাথের।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক খান বাহাদুর মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া, সাবেক সাংসদ এথিন রাখাইন, মায়ানমারের ধর্মীয় গুরু আছিন আজ্ঞে ধাম্মা থের, অষ্ট্রেলিয়ার ভিক্ষু উইমালানডা থের, আমেরিকার ভিক্ষু সুমানাতিশা থের, জিনানন্দ মহাথের, ভারতের কলকাতার সংঘপ্রধান বিবেকানন্দ মহাথের, বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার উপ-সংঘরাজ ড. শীলানন্দ মহাস্থবির, শীলানন্দ মহাথের, বাংলাদেশ বুদ্ধিষ্ট ফেড়ারেশনের নির্বাহী সভাপতি অশোক বড়–য়া, বাংলাদেশ বুদ্ধ সমিতি ঢাকা অঞ্চল সভাপতি দীপাল চন্দ্র বড়–য়া, ঢাকা বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহ সভাপতি প্রমথ বড়–য়া, সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়–য়া, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্ত ভূষন বড়–য়া, বান্দরবানের আওয়ামীলীগ নেতা চৌধুরী প্রকাশ রায়, মহেশখালী পৌর মেয়র মকছুদ মিয়া, জেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এড. রনজিত দাশ, দপ্তর সম্পাদক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি তছলিম ইকবাল চৌধুরী, রামু কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সুবীর ব্রাক্ষ্মন চৌধুরী বাদল প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ উপ-সংঘরাজ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের’র জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন পরিষদ স্মারক ‘আর্যতস্য’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের আবাসিক পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু, কন্ঠশিল্পী মানসী বড়–য়া, অধ্যাপক পরীক্ষিৎ বড়–য়া টুটুন ও অধ্যাপক নীলোৎপল বড়–য়া।

এদিকে উপ-সংঘরাজ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের’র জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানকে ঘিরে রামু বাইপাস সংলগ্ন মেরংলোয়া বিলের ৪০ একর জায়গা জুড়ে বসেছে সম্প্রীতির মেলা। অনুষ্ঠানস্থলে বাঁশ, কাঠ, ও রঙ্গিন কাগজের কারুকার্যে তৈরী হয়েছে বিশাল আলং। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২৮টি দল আলং নৃত্য পরিবেশন করেন।

উপ-সংঘরাজ পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের’র জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী তরুণ বড়–য়া ও সাধারণ সম্পাদক রাজু বড়–য়া অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •