আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ শুরুর পর স্থানীয় পুলিশ কাছে ১৩ হাজার ২০০টি ফোন কল পেয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে। ফোন কলের মাধ্যমে মূলত পুলিশের কাছে সংঘর্ষের বিষয়ে জানানো হয়েছিল।

কোথাও গুলি, কোথাও গাড়ি পোড়ানো আবার কোথাও নির্বিচারে মানুষক হত্যা, হামলা ও নির্যাতনের বিষয়ে ফোন কলের মাধ্যমে পুলিশে অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি দিল্লি পুলিশ। সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশের এমন ভূমিকা নিয়ে এখন ভারতীয়দের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত হতেই একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম পুলিশ কন্ট্রোল রুমের কল লগ খতিয়ে দেখতেই এমন তথ্য পায়।

পুলিশের কল লগে দেখা যায়, গত রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভের প্রথম দিন সন্ধ্যায় ৭০০ ফোন কল যায় পুলিশের কাছে। পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি যায় সাড়ে ৩ হাজার ৫০০। ২৫ ফেব্রুয়ারি সাড়ে ৭ হাজার ৫০০ ফোন পায় পুলিশ। ২৬ ফেব্রুয়ারি দেড় হাজার ফোন কল যায় পুলিশের কাছে।

ভজনপুরা থানার আট পাতার কল রেজিস্টার থেকে দেখা যায়, যমুনা বিহার থেকেই ওই থানায় ২৪-২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার ফোন আসে। কী অভিযোগ এবং তার প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তার জন্য রেজিস্টারে আলাদা আলাদা কলাম রয়েছে। শুধু কোথা থেকে ফোন এসেছিল, কী অভিযোগ তা-ই লেখা রয়েছে ওই খাতায়। অর্থাৎ অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বলেই সেখানে তা উল্লেখ নেই।

শুধু ভারতের সাধারণ মানুষই নয়, অভিযোগের প্রেক্ষিতেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান যমুনা বিহারের বিজেপির কাউন্সিলর প্রমোদ গুপ্ত। পুলিশ তার ফোনই ধরেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রমোদ গুপ্ত বলেন, ‘পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। পুলিশ যদি ব্যবস্থা নিত, পরিস্থিতি এতটা খারাপ দিকে মোড় নিত না।’

একই অভিযোগ জানান ফোন কল করা আরও বেশ কয়েকজন। তাদের অভিযোগ, ফোন কল ধরে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। এমনকি স্পটেই আসেনি পুলিশ কর্মকর্তারা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফোনই ধরেনি পুলিশ।

উল্লেখ্য, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরোধী ও সমর্থকদের সংঘর্ষে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাতে এখনও পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •