সিবিএন ডেস্ক
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৩৬ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে ৬ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে (৫ দশমিক ৩ শতাংশ) বাড়িয়ে ৭ টাকা ১৩ পয়সা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাড়ানো হয়েছে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ও সঞ্চালন চার্জও। আগামী মাস থেকে এই দাম কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ভবনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই দামের আদেশ দেয় কমিশন। এ সময় কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল, সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী, সদস্য রহমান মুরশেদ, মোহাম্মদ আবু ফারুক ও মোহাম্মদ বজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

কমিশনের আদেশে বলা হয়েছে, পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে ইউনিটপ্রতি ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ টাকা ১৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ পাইকারি বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি মূল্য বাড়ছে ৪০ পয়সা। একইভাবে বাড়ানো হয়েছে সঞ্চালন চার্জও। এটি শূন্য দশমিক ২৭৮৭ টাকা থেকে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ২৯৩৪ টাকা করা হয়েছে।

পাইকারি ও সঞ্চালন মূল্যহার এবং বিতরণ ব্যয় বিবেচনা করে বাড়ানো হয়েছে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম। গ্রাহকের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ১৩ পয়সা করা হয়েছে। খুচরা বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম বাড়ছে ৩৬ পয়সা।

আবাসিকের লাইফ লাইন গ্রাহকদের (শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী) প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম করা হয়েছে ৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা। এরপর সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ১৯ পয়সা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটের জন্য ৫ টাকা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৭২ পয়সা , তৃতীয় ধাপে ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত ইউনিটের জন্য ৫ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা, চতুর্থ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ পর্যন্ত ইউনিটের জন্য ৬ টাকা ২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৩৪ পয়সা, পঞ্চম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ পর্যন্ত ইউনিটের জন্য ৯ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা ৯৪ পয়সা এবং ষষ্ঠ ধাপে ৬০০ ইউনিটের ওপরে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৪৬ পয়সা করা হয়েছে।

এবার প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের জন্য বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করেছে কমিশন। এই স্টেশনে চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম অফপিক সময়ের জন্য ৬ টাকা ৮৮ পয়সা, সুপার অফপিক সময়ের জন্য ৬ টাকা ১১ পয়সা, পিক সময়ের জন্য ৯ টাকা ৫৫ পয়সা এবং ফ্লাট রেটে ৭ টাকা ৬৪ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন।

কৃষি কাজে বা সেচে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ১৬ পয়সা করা হয়েছে।

ক্ষুদ্রশিল্প প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের দাম অফপিক ৭ টাকা ৩৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৬৮ পয়সা, পিক সময়ে ৯ টাকা ৮৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ২৪ পয়সা, আর ফ্লাট দরের ক্ষেত্রে ৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৫৩ পয়সা করা হয়েছে।

তবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগের দাম বলবৎ আছে। ফ্লাট রেইট ১০ টাকা ৩০ পয়সা, অফপিক সময়ে ৯ টাকা ২৭ পয়সা এবং পিক সময়ের জন্য ১২ টাকা ৩৬ পয়সা প্রতি ইউনিটের দামই আছে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, ‘দাম বাড়ানোর জন্য কমিশন যেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েছে তার মধ্যে আমদানিকৃত কয়লার ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট ধার্য, ক্যাপাসিটি চার্জের পরিমাণ বৃদ্ধি, অবচয় ব্যয় বৃদ্ধি, তুলনামূলক কম মূল্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ ক্রয় এবং এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সির অর্থায়নে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল সেগুলোর সুদ পরিশোধ এবং প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দামের ওপর ১০ পয়সা হারে ডিমান্ড চার্জ আরোপ করা। এসব বিষয় বিবেচনা করে দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই দাম মার্চ মাস থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।’

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ শুনানির পর বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। তবে কখনও কখনও পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। ২০১০ সালের ১ মার্চ গ্রাহক পর্যায়ে ৬ দশমিক ৭ ভাগ বেড়েছিল। সেবার পাইকারিতে বাড়েনি। ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি গ্রাহক পর্যায়ে ৫ ভাগ এবং পাইকারিতে ১১ ভাগ বেড়েছিল। ২০১১ সালের ১ আগস্ট গ্রাহক পর্যায়ে বাড়েনি। তবে পাইকারিতে ৬ দশমিক ৬৬ ভাগ বাড়ানো হয়। ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে ১৩ দশমিক ২৫ ভাগ এবং পাইকারিতে ১৬ দশমিক ৭৯ ভাগ বাড়ানো হয়। ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে ১৫ ভাগ এবং পাইকারিতে ১৭ ভাগ, ২০১৫ সালের ১ আগস্ট গ্রাহক পর্যায়ে ২ দশমিক ৯৩ ভাগ বাড়ানো হয়। সেবার পাইকারিতে বাড়েনি। এরপর সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে ৫ দশমিক ৩ ভাগ বাড়ানো হয়। সেই সময়ও পাইকারিতে দাম বাড়েনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •